নির্বাচনের পর সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের আকারে উন্নীত করতে প্রয়োজন ব্যাপক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে জোরদার করে বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি-২০২৬: দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ’ শীর্ষক রুদ্ধদ্বার গোলটেবিল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাদের যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় পরিসরের বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে কাজ করছে।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সরকারি কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন। বৈঠকে এলডিসি থেকে উত্তরণ, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), পুঁজিবাজার, ব্যবসা পরিচালনার সহজীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বৈঠকে উত্থাপিত সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা, স্থবির পুঁজিবাজার ও নানা অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। এসব খাত পুনর্গঠন করে একটি শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত অর্থনীতি গড়ে তুলতে নীতিগত সংস্কার কার্যক্রম চলছে। সাম্প্রতিক বাজেট সেই রূপান্তরের প্রথম ধাপগুলোর একটি।
বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তিনি জ্বালানি, বস্ত্র, তৈরি পোশাক, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, সৃজনশীল অর্থনীতি, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং ব্লু ইকোনমির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এসব খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার অর্থনৈতিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করছে। একই সঙ্গে উন্নয়নের সুফল নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে ভবিষ্যতেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ ধরনের গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।