আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কড়া অবস্থান উপেক্ষা করেই জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়েই নিউইয়র্ক সফরে গিয়ে জাতিসংঘের মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন।
রোববার (২৬ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এ ঘোষণা দেন।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মন্তব্য করেছিলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কাউকে শহরে স্বাগত জানানো হবে না। এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি নিউইয়র্কে যাব এবং জাতিসংঘে বক্তব্য রাখব। সেখানে আমি ইসরায়েলের পক্ষে, পাশাপাশি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের পক্ষে সত্য তুলে ধরব।”
গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তিত জনমত ইসরায়েলপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সমালোচনাকে প্রায়ই ইহুদিবিদ্বেষ (অ্যান্টি-সেমিটিজম) হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ইহুদি নাগরিকের কাছে নেতানিয়াহুর চেয়ে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির জনপ্রিয়তা বেশি। একই জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৩০ শতাংশ ইহুদি নাগরিকের মত, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময় জোহরান মামদানি ঘোষণা দিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু শহরে এলে তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে পরে তিনি স্পষ্ট করেন, নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা উচিত বলে তিনি মনে করলেও নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের আইনি এখতিয়ার নেই।
নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সফরের ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানার পরও তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে পারেন কি না এবং সফরকালে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।