আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ রাশেদের

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। তার দাবি, আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)তে ‘ওপেন সিক্রেট’।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনটি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জন্য ছেড়ে দিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করেছিলেন।

রাশেদ খাঁন লিখেছেন, একটি সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের পাশে এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনুপস্থিতির কারণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, এনসিপির অধিকাংশ নেতাকর্মী কষ্টে জীবনযাপন করলেও আসিফ মাহমুদ মাত্র ১৮ মাস উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ‘আলাদিনের চেরাগ’ পেয়েছিলেন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নথি বা প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। নিজের পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, তিনি নিজে এমন একটি অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানেন, যেখানে আসিফ মাহমুদ একজনকে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিলেন। বিষয়টি তিনি একজন উপদেষ্টাকে জানালে ওই উপদেষ্টা বেতন থেকে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে আক্ষেপ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ঢাকা-১০ আসন প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, আসিফ মাহমুদের জন্য আসনটি ছেড়ে দিতে জামায়াতের আমিরকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তার দাবি, নাহিদ ইসলাম বিষয়টি নিয়ে কারও কারও কাছে আক্ষেপ করেছিলেন এবং জামায়াতের আমির দীর্ঘ দরকষাকষির পরও আসনটি ছাড়েননি।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতের আমিরের অবস্থান ছিল—আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় জামায়াত নিতে রাজি নয়। এমনকি ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করলেও জামায়াতের আমির এ বিষয়ে অনুরোধ না করার কথা জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় জামায়াতের আমিরের অবস্থানের জন্য তাকে ধন্যবাদও জানান রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আসিফ মাহমুদ ওমরাহ করে এসেছেন; অল্প বয়সে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখপ্রকাশ করা উচিত ছিল। এমনটি হলে তিনি বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতেন বলেও মন্তব্য করেন।

শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান তুলে ধরে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, তার কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি মনে করেন আসিফ মাহমুদ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

তবে রাশেদ খাঁনের এসব অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো তার ব্যক্তিগত বক্তব্য ও দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হলো।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *