জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০তম এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে এবার পরীক্ষামূলক দল নয়, পূর্ণশক্তির স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ইভেন্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলের নেতৃত্বে থাকবেন লিটন দাস, আর সহ-অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়।
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বাংলাদেশের লক্ষ্য এবার সোনা জয়। র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। ফলে গ্রুপপর্বে না খেলেই নকআউট পর্বে অভিযান শুরু করবে লিটন-হৃদয়ের দল। ২৮ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে প্রথম পর্বের ‘বি’ গ্রুপের বিজয়ী দল।
বাংলাদেশের স্কোয়াডে সবচেয়ে আলোচিত নাম নাজমুল হোসেন শান্ত। দীর্ঘ বিরতির পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন টেস্ট অধিনায়ক। ২০২৫ সালের মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সর্বশেষ এই সংস্করণে খেলেছিলেন তিনি। শান্তর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে আরও অভিজ্ঞতা ও স্থিরতা দিতে পারে।
অধিনায়ক লিটন দাসও চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তাওহিদ হৃদয়কে করা হয়েছে তাঁর ডেপুটি। দুজনের নেতৃত্বের পাশাপাশি ব্যাটিং পারফরম্যান্সও বাংলাদেশের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ব্যাটিং বিভাগে লিটন, শান্ত ও হৃদয়ের সঙ্গে রয়েছেন তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ সাইফ হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও ইয়াসির আলী চৌধুরী। ফলে টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার—দুই জায়গাতেই একাধিক বিকল্প থাকছে বাংলাদেশের হাতে।
অলরাউন্ড বিভাগেও রয়েছে বৈচিত্র্য। রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দলের ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই বাড়তি বিকল্প তৈরি করবেন। স্পিনে নাসুম আহমেদের সঙ্গে রিশাদ ও মেহেদীর উপস্থিতি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে বৈচিত্র্যময় করতে পারে।
পেস আক্রমণে রয়েছেন শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ। তবে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা এবারের স্কোয়াডে জায়গা পাননি। নুরুল হাসানও নেই দলে।
এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে মোট ১০টি দল অংশ নেবে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি নকআউট পর্বে জায়গা পেয়েছে। অন্য দলগুলো প্রথম পর্বে লড়াই করে কোয়ার্টার ফাইনালের বাকি চারটি জায়গা পূরণ করবে।
আগের আসরে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার লিটন দাসের নেতৃত্বে সেই সাফল্যকে ছাড়িয়ে সোনার পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগাররা। পূর্ণশক্তির দল ঘোষণায় বিসিবির সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
মেসি-নির্ভরতা বা কোনো একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরতার মতো নয়, টি-টোয়েন্টিতে দলগত পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেবে। লিটন-শান্ত-হৃদয়ের ব্যাটিং, মোস্তাফিজ-শরিফুল-হাসানের পেস এবং রিশাদ-মেহেদীদের অলরাউন্ড সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারলে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনার স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেতে পারে।
লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয় (সহ-অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলী চৌধুরী, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ।

Leave a Reply