ইন্দোনেশিয়ার সক্রিয় আগ্নেয়গিরি আনাক ক্রাকাতোয়া থেকে অগ্ন্যুৎপাতের পর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে আগ্নেয় ছাই। এর প্রভাবে রাজধানী জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দর সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে অন্তত ২০৯টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার গভীর রাত থেকে আনাক ক্রাকাতোয়ায় অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। রোববার ভোরে বিমানবন্দর এলাকায় আগ্নেয় ছাই শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সুকর্ণো-হাত্তা বিমানবন্দরে উড্ডয়ন ও অবতরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। প্রাথমিকভাবে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর ছিল।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ২০৯টি ফ্লাইটের মধ্যে আন্তর্জাতিক রুটের বেশ কয়েকটি ফ্লাইটও রয়েছে। ২২ হাজার ৭৯৮ জনের মতো যাত্রী এতে প্রভাবিত হয়েছেন বলে ইন্দোনেশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা বার্নামা জানিয়েছে।
আগ্নেয় ছাইয়ের মেঘ ব্যাপক উচ্চতায় ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা বিএমকেজির তথ্য অনুযায়ী, জাভার দিকে ছাই প্রায় ২০ হাজার ফুট এবং সুমাত্রার দিকে প্রায় ৫০ হাজার ফুট বা ১৫ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে বিমান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাবে শুধু বিমান চলাচল নয়, স্থানীয় জনজীবনেও প্রভাব পড়েছে। ছাই ছড়িয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ছাইয়ের কারণে চোখে জ্বালা-পোড়া ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক জেলে সাময়িকভাবে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া বন্ধ রেখেছেন।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। আগ্নেয় ছাই পড়লে বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ও চোখের সুরক্ষার জন্য চশমা ব্যবহারের পাশাপাশি পানির উৎস ঢেকে রাখা এবং রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আনাক ক্রাকাতোয়া জাভা ও সুমাত্রার মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত। ২০১৮ সালে এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর সমুদ্রতলের ভূমিধস থেকে ভয়াবহ সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল, যাতে চার শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান। তবে বর্তমান অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় তাৎক্ষণিক সুনামির কোনো সতর্কতা জারি হয়নি।
আনাক ক্রাকাতোয়া ঐতিহাসিক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির উত্তরসূরি। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া বিস্ফোরণে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম এবং ছাইয়ের গতিপথ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

Leave a Reply