‘এদের কাছে বাচ্চার কান্নাও কিছু না’—বাঁধনকে হেনস্তায় পরীমনির ক্ষোভ

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। পরিবারের সদস্য ও একটি শিশুর উপস্থিতিতে বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

ভিডিওটি শেয়ার করে পরীমনি লেখেন, ‘বেশি কিছু না। কতগুলা কুকুরের বাচ্চা রাস্তায় ঘেউ ঘেউ করছে। এদের কাছে মানুষের বাচ্চার কান্না কিছুই ম্যাটার করে না। করেও নাই।’ শিশুটির কান্নার দৃশ্যই তাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করেছে বলে তাঁর পোস্ট থেকে প্রতীয়মান হয়।

জানা গেছে, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকার একটি পার্কে ভাই ও তাঁর ছোট শিশুর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন বাঁধন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা ও পরে হেনস্তার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে নিজেদের ‘ভেনিস ছাত্রলীগ’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিতে দেখা যায়। তারা বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভিডিওতে বাঁধনের সঙ্গে থাকা শিশুটিকে ভয়ে কাঁদতে দেখা যায় এবং পুরো ঘটনার সময় তার কান্নার শব্দ শোনা যায়। বিষয়টি নিয়েই পরীমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ঘটনার পর বাঁধন এক ভিডিওবার্তায় অভিযোগ করেন, পার্কের মধ্যে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তাঁর শরীরে কোক ও পানি ছোড়া হয় এবং একপর্যায়ে তাঁর মোবাইল ফোনও ফেলে দেওয়া হয়। পরে তিনি এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং স্থানীয় ভেনিস থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশের বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এর আগে মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুলও নারী ও শিল্পীদের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান নিষ্ঠুরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বাঁধন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সক্রিয় ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ইতালিতে এই হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় ও ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে ইতালির কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্যই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে প্রকৃত ঘটনা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *