হেবা আইন পরিবর্তনের সমালোচনা, যা বললেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

ইসলামিক উত্তরাধিকার ও হেবা বা দানসংক্রান্ত আইনে পরিবর্তনের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। বাবা-মায়ের প্রতি দরদের অজুহাতে ধর্মীয় বিধানে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহর প্রণীত আইনেই মানুষের সর্বাধিক কল্যাণ রয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি হেবা বা দান করা সম্পত্তি নিয়ে সাম্প্রতিক আইনগত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, বাবা-মায়ের প্রতি দরদ দেখানোর কথা বলে হেবা সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করা হলে ভবিষ্যতে সম্পত্তি বণ্টনের অন্যান্য বিষয় নিয়েও একই ধরনের পরিবর্তনের দাবি উঠতে পারে। এ ধরনের ‘দরদ-দরদ খেলা’ বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর চেয়ে বান্দার প্রতি বেশি দরদী কেউ নেই। তাঁর মতে, আল্লাহ যে বিধান দিয়েছেন, তা মানুষের কল্যাণের জন্যই দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

মাদানীর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ধর্মীয় বিধানের তাৎপর্য তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের বোধগম্য না হলেও এর মধ্যে কল্যাণ রয়েছে—এটি মেনে নেওয়াই ঈমানের অংশ। তিনি বলেন, আল্লাহর বিধানকে মেনে নেওয়াই একজন মুসলিমের দায়িত্ব।

এর আগে জাতীয় সংসদে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়। সংশোধিত ব্যবস্থায় বাবা-মা বা দাদা-দাদি সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে সংসদে বিরোধী পক্ষের আপত্তি ও বিতর্কও হয়।

এই আইনগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেই রফিকুল ইসলাম মাদানী তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে হেবা আইন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *