১০ম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগ কার্যক্রম বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছ থেকে সরিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগের অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাতের দাবি, নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত করার নামে ১০ম গ্রেডের নিয়োগ পিএসসির কাছ থেকে সরিয়ে নিজেদের কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অন্যান্য ১০ম গ্রেডের পদের মতো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগও দীর্ঘদিন ধরে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসির মাধ্যমে হয়ে আসছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় শূন্য পদের সংখ্যা জানায়, এরপর পিএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এবং মন্ত্রণালয় নিয়োগ দেয়।
তার অভিযোগ, পিএসসির অধীনে থাকা নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নামে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে এই কমিটির কাজ নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ উদ্যোগের সমালোচনা করে হাসনাত প্রশ্ন করেন, পিএসসি কি নিয়োগ দিতে পারছে না কিংবা পিএসসি কোথাও এমন কথা বলেছে কি না। তার দাবি, সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা স্পষ্ট। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া কিংবা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য বা পাল্টা ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির নিয়োগে বৈষম্যের কারণেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল এবং সেখান থেকেই পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে।
সরকারকে সতর্ক করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ক্ষমতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যদি সরকার ২০২৪ সালের ঘটনা ভুলে যায়, তাহলে তরুণরা এখনো জাগ্রত রয়েছে—এ কথা মনে রাখা উচিত।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে দুর্নীতির মাধ্যমে লাভবান হওয়ার চিন্তা করা হলে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না বলেও সতর্ক করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
১০ম গ্রেডের নিয়োগ নিয়ে সরকারের উদ্যোগ এবং পিএসসির ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্ক সামনে আসায় সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply