২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সময় টিভির সাবেক এমডির বিচার শুরু

প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত আসামিপক্ষের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১০ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। আহমেদ জোবায়েরের আইনজীবী সালেহ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে আহমেদ জোবায়েরের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী সালেহ উদ্দিন। পরে তিনি জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেন।

এরপর প্রতারণা ও জালিয়াতির অপর একটি মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহানের আদালতে আহমেদ জোবায়েরের জামিনের আবেদন করা হয়। ওই মামলাতেও আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, সময় টেলিভিশনের দায়িত্বে থাকার সময় আহমেদ জোবায়ের প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের দুটি গাড়ি ও উত্তোলন করা অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এসব সম্পদ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ ছাড়া সময় টিভির মালিকানা প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ এসব সম্পদ ফেরত চেয়ে তাকে আইনি নোটিশ পাঠালেও তিনি তাতে সাড়া দেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের মে মাসে সময় টিভির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সৈয়দ আসাদুজ্জামান মামলা করেন। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার মামলাটিতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও কাগজপত্র জালিয়াতির অভিযোগে আহমেদ জোবায়েরসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন—আহমেদ জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী, মেয়ে সারাফ নাওয়ার জয়ীতা, ছেলে আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী।

মামলার ধার্য তারিখে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। তারা হাজির না হওয়ায় পরে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত ১৮ জুন আহমেদ জোবায়ের, আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তিনজনকে জামিন দিলেও আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মামলার অভিযোগগুলো এখন আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *