মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত প্রশমনে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সদস্য দেশগুলো সর্বসম্মতিক্রমে একটি যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে—এমন যেকোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’তে ব্রিকস নেতারা মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সংঘাত নিরসনে সংলাপ, পরামর্শ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
যৌথ ঘোষণায় বেসামরিক অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষার আওতায় থাকা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিরুদ্ধেও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিধানের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতেও আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস। ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা এবং গাজায় সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদের দাবির প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জোটটি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একতরফা শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ব্রিকস বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলো আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের ক্ষেত্রে বহুপক্ষীয়তা ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অস্থিতিশীলতা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
এবারের ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো সংঘাতের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থানে থাকা দেশগুলোর একই যৌথ ঘোষণায় সম্মতি দেওয়া সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জোটটির মধ্যে ঐকমত্য ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply