Category: স্বাস্থ্য

  • সোনারগাঁওয়ে দুই হাসপাতালকে জরিমানা, অপারেশন থিয়েটার সিলগালা

    সোনারগাঁওয়ে দুই হাসপাতালকে জরিমানা, অপারেশন থিয়েটার সিলগালা

    সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের দুটি বেসরকারি হাসপাতালকে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
    লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই হাসপাতাল পরিচালনা, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং প্যাথলজি ল্যাবের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এ জরিমানা করা হয় । একই সঙ্গে একটি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সিলগালা করা হয়েছে।
     শনিবার ( ১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত রয়েল স্পেশালিস্ট হাসপাতাল ও মেডি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে এ অভিযান পরিচালনা করেন সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম।
    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, হাসপাতাল দুটির পরিচালনার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি। এছাড়া মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়ম এবং প্যাথলজি ল্যাবে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড অনুসরণ না করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম জানান, মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী রয়েল স্পেশালিস্ট হাসপাতালকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেডি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানের সময় জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
    তিনি আরও জানান, গুরুতর অনিয়মের কারণে মেডি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সিলগালা করা হয়েছে। জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
    অভিযানকালে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত সহআইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
  • সোনারগাঁওয়ে তিন গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী,শিশুসহ আহত ১৫

    সোনারগাঁওয়ে তিন গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী,শিশুসহ আহত ১৫

    সোনারগাঁও ( নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে তিনটি গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী,শিশুসহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সনমান্দি  ইউনিয়নের সোনারকান্দী, ভটেরকান্দী ও নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সবাইকে জলাতঙ্ক (র‌্যাবিস) প্রতিরোধী টিকাও দেওয়া হয়েছে।
    আহতরা হলেন সোনারকান্দী গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, মো. লিটন, ফয়সাল, শিশু আব্দুল্লাহ, ভটেরকান্দী জামে মসজিদের ইমাম, মিনহাজ, আব্দুল হাই, এক বৃদ্ধা নারী এবং নয়াপাড়া গ্রামের গোলজার হোসেনসহ ১৫ জন।
    এদিকে হঠাৎ করে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ওই তিন গ্রামে চরম শিয়াল আতঙ্ক বিরাজ করছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে একের পর এক পথচারী ও বাড়ির আঙিনায় থাকা মানুষকে কামড়ে দেয়। শিয়ালগুলো হঠাৎ করে বিভিন্ন বাড়ি ও সড়কে ঘুরে বেড়িয়ে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আক্রমণ করে। এতে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
    আহত দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটি শিয়াল এসে আমার পায়ে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাটি ঘটে। পরে স্বজনরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
    আরেক আহত মো. লিটন বলেন, শিয়ালগুলো খুবই হিংস্র ছিল। একজনকে কামড়ে দৌড়ে গিয়ে আবার অন্যজনের ওপর হামলা করছিল। সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। পরে স্থানীয়রা মিলে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।
    সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমাইয়া ইয়াকুব বলেন, শিয়ালের কামড়ে আহত সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি র‌্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এলাকায় শিয়ালের উপদ্রব বেড়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
  • সোনারগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা ও র‍্যালি

    সোনারগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা ও র‍্যালি

    সোনারগাঁও ( নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে জনসচেতনতামূলক র‍্যালিটি বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক সভা অনুষ্ঠিত হয় ।

    সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিন্নাতের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও থানার ওসি গোলাম সারোয়ার, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আতাউর রহমান, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাদিকুর রহমান সেন্টু, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. সেলিম হোসেন দিপু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ফারুক আহম্মেদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা।

    র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক বিভিন্ন ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড ছিল। এ সময় বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়।

    ইউএনও আসিফ আল জিন্নাত বলেন, ডেঙ্গু আজ আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজ আপনি আপনার আঙিনা পরিষ্কার রাখলে শুধু আপনার পরিবারই নয়, আপনার প্রতিবেশীও সুরক্ষিত থাকবে। আপনার-আমার এই ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপই একটি পরিচ্ছন্ন, সুস্থ ও আধুনিক সোনারগাঁও গড়ার মূল ভিত্তি।
    তিনি আরও বলেন, সচেতনতাকে কেবল মুখে সীমাবদ্ধ না রেখে চর্চায় রূপান্তর করি। সরকারের গৃহীত উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গুমুক্ত, নিরাপদ ও আধুনিক সোনারগাঁও গড়ে তুলি।

    র‍্যালি-পরবর্তী সচেতনতামূলক সভায় বক্তারা বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ব্যাপক সচেতনতা প্রয়োজন। নিজ নিজ ঘরবাড়ি ও আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমেই পরিবার ও সমাজকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

  • গজারিয়ায় যাত্রা শুরু করল ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’

    গজারিয়ায় যাত্রা শুরু করল ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’

    সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মুুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল শাহ শের আলী গ্রুপের নতুন উদ্যোগ ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’-প্রকৃতি, বিশুদ্ধ খাবার ও আধুনিক সেবার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি ব্যতিক্রমধর্মী ফ্যামিলি ডেস্টিনেশন। শুক্রবার ( ১০ জুলাই) দুপুরে এর আনুষ্টানিক উদ্ধোধন করা হয়।
    প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান সরকার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব, ঢাকার সাবেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রোকন-উদ-দৌলা।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন বিষয়ক সাময়িকী ‘ভ্রমণ’ এর সম্পাদক আবু সুফিয়ান, কবি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান তরুণ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’এর নাতি চরিত্রে অভিনেতা শওকত আলী তালুকদার নিপু, উপস্থাপক ও টিভি নাট্য অভিনেতা শাহ সুলতান চৌধুরী (শাহেন শাহ)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিবেশবিদ কাজী হাসান।
    প্রায় দুই দশকের সেবার অভিজ্ঞতা, মানবকল্যাণের অঙ্গীকার এবং মানসম্মত বিপণন দর্শনের প্রতিফলন হিসেবে ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি প্রচলিত হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের ধারণাকে নতুন মাত্রা দিয়ে একই ছাদের নিচে মিলিয়েছে প্রকৃতি, বিশুদ্ধ খাবার, আধুনিক সেবা ও পারিবারিক বিনোদনের অনন্য সমন্বয়।
    শত শত দেশি-বিদেশি গাছপালা, ২১টি দৃষ্টিনন্দন অ্যাকোয়ারিয়ামে রঙিন মাছের সমাহার এবং পাখির কলতানে ভরা এই নৈসর্গিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের মনের ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি এনে দেবে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের নির্মল সংস্পর্শ। খাদ্য রসিকদের জন্য রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্বাদু খাবারের সমাহার। এছাড়া শিশুদের জন্য কিডস জোন, জিম কর্নার, মেশিন ম্যাসাজ জোন ও নামাজের সুব্যবস্থাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।
    একই কমপ্লেক্সে রয়েছে শাহ শের আলী সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন, যেখানে সিএনজি, এলপিজি (অটোগ্যাস), অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করা হয়। আরও রয়েছে অনন্যা মার্ট, আধুনিক জামে মসজিদ এবং ভ্রমণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা। ফলে এটি শুধু একটি রেস্টুরেন্ট নয়; বরং একটি সমন্বিত হাইওয়ে সার্ভিস কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে উঠেছে।
    বিয়ে, জন্মদিন, করপোরেট সভা, সেমিনার ও অন্যান্য সামাজিক আয়োজনের জন্য রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সবুজে ঘেরা আধুনিক অনুষ্ঠানস্থল। প্রশস্ত পার্কিং, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আন্তরিক সেবার কারণে ন্যাচার লাউঞ্জ দূরপাল্লার যাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত মিলনকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।
    উল্লেখ্য, শাহ শের আলী গ্রুপ-এর প্রথম প্রতিষ্ঠান শাহ শের আলী কোম্পানি ড্রেজিং ব্যবসার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ২০০০ সালে, পরবর্তীতে ‘শাহ শের আলী সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন’-এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে এবং ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সেবার মানসিকতা এবং উন্নত গ্রাহকসেবার ধারাবাহিকতায় আজ যাত্রা শুরু করল ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’-যা ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সেরা প্রকৃতি-নির্ভর হাইওয়ে ফ্যামিলি ডেস্টিনেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ভাঙা ডিম ও কুসুমে রক্তের দাগ—কোনটি ঝুঁকিপূর্ণ, কোনটি নিরাপদ?

    ভাঙা ডিম ও কুসুমে রক্তের দাগ—কোনটি ঝুঁকিপূর্ণ, কোনটি নিরাপদ?

    ডিম পুষ্টিকর খাবার হলেও ভাঙা বা ফাটা খোসার ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে ডিমের কুসুমে ছোট লাল বা বাদামি রঙের রক্তের দাগ দেখা গেলে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উদ্বেগের কারণ নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্ষত খোসাযুক্ত ডিম সাধারণভাবে তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। কিন্তু খোসা ফেটে গেলে ব্যাকটেরিয়া সহজেই ডিমের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। ফলে ফাটা ডিম দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    ফাটা ডিমে সালমোনেলাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এসব জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলে ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডায়রিয়া, জ্বর, পেটে ব্যথা, বমি ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনও হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ভাঙা ডিম যদি দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা হয় বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে আরও বিভিন্ন ধরনের জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই খোসা ফাটা ডিম কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, ডিমের কুসুমে ছোট লাল বা বাদামি রঙের রক্তের দাগ থাকলে সেটি সাধারণত কোনো রোগের লক্ষণ নয়। মুরগির ডিম তৈরির সময় ক্ষুদ্র একটি রক্তনালি ফেটে যাওয়ার কারণে এমন দাগ তৈরি হতে পারে। এটি ডিম নিষিক্ত হওয়ারও প্রমাণ নয়।

    খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমটি তাজা থাকলে এবং ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করা হলে কুসুমের রক্তের দাগ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। অস্বস্তি লাগলে চামচ দিয়ে ওই অংশটি তুলে ফেলে বাকি ডিম রান্না করে খাওয়া যেতে পারে।

    পুষ্টিবিদদের মতে, একটি মাঝারি আকারের ডিমে প্রায় ৭৫ কিলোক্যালরি শক্তি, ৮ গ্রাম প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন এ, ডি, বি-১২, ফসফরাস, জিংক, লুটেইন ও জিয়াজেনথিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে, যা চোখ, হাড় ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার জন্য উপকারী।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

    • খোসা ফাটা বা দুর্গন্ধযুক্ত ডিম এড়িয়ে চলুন।
    • ডিম সবসময় ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খান।
    • কুসুমে রক্তের ছোট দাগ থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই; ডিমটি তাজা হলে তা সাধারণত নিরাপদ।
  • হাসপাতালে দালালচক্রের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান, ১১ জনের কারাদণ্ড

    হাসপাতালে দালালচক্রের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান, ১১ জনের কারাদণ্ড

    রাজধানীর তিনটি বড় সরকারি হাসপাতালে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে একযোগে অভিযান চালিয়েছে র‍্যাব-২। অভিযানে ১১ জন দালালকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (২৯ জুন) সকালে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    র‍্যাব জানায়, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের বিভ্রান্ত করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যেতেন। সেখানে চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো।

    অভিযান শেষে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ আটক ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

    র‍্যাব-২-এর উপ-অধিনায়ক নিফাজ রহমান বলেন, এই চক্রটি বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল থেকে আসা সহজ-সরল রোগীদের সরকারি হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত করে বিভিন্ন ভুঁইফোড় ক্লিনিকে পাঠিয়ে দিত। এতে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিতেও পড়ছেন।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ জানান, যেসব বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার দালালচক্রের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ করে অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

  • ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

    ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

    রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতাল-এ ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবুল হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

    এর আগে হাসপাতালটিতে একাধিক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয় উঠে আসার পর হাসপাতালটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    স্বাস্থ্যসেবা খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • আদ-দ্বীনের শোকজের জবাব প্রত্যাখ্যান, দ্রুত আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর

    আদ-দ্বীনের শোকজের জবাব প্রত্যাখ্যান, দ্রুত আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর

    রাজধানীর মগবাজার-এ অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের জবাব প্রত্যাখ্যান করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

    বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এতে মূল ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, “ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল যে জবাব দিয়েছে, তা মোটেও সন্তোষজনক নয়। তারা প্রকৃত ঘটনা ব্যাখ্যা না করে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করেছে। জবাবের বিষয়বস্তু ভেক বা সাজানো বলে মনে হয়েছে। আমরা এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করিনি।”

    তিনি আরও জানান, ঘটনাটির বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

    সম্প্রতি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব দিলেও সেই ব্যাখ্যায় অসংগতি ও তথ্যগত দুর্বলতা থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

  • ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি

    ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি

    রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রোববার নোটিশের জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব জমা দেওয়া হয়নি।

    তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তৎপরতা শুরু করেছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে ঘটনার আইনি দিক, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অবস্থান এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হাসপাতালের আইনজীবী শিশির মনির বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।

    হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।

    অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ঘটনাকে দৃষ্টান্তমূলকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) না থাকা এবং অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসনিক দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

    তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালটি পরিচালনার ক্ষেত্রে The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, 1982-এর বিভিন্ন বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এই অবহেলার ফলেই নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে কমিটি মত দিয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ অনুযায়ী হাসপাতালটির নিবন্ধন বা লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত বা সরাসরি ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর সেখানে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (২৭ মে) সকালে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে পুলিশ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।

    ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই হাসপাতালে যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। পাশাপাশি শিশু মৃত্যুর ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।

    এদিকে ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনদের কান্না আর উদ্বেগে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ। নবজাতকদের অভিভাবকরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    প্রাথমিকভাবে শিশুদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও চিকিৎসা অবহেলা, অক্সিজেন সরবরাহ সমস্যা অথবা অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, চিকিৎসা নথি এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ঘটনাটি ঘিরে কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।

    ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।