ডিম পুষ্টিকর খাবার হলেও ভাঙা বা ফাটা খোসার ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে ডিমের কুসুমে ছোট লাল বা বাদামি রঙের রক্তের দাগ দেখা গেলে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উদ্বেগের কারণ নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্ষত খোসাযুক্ত ডিম সাধারণভাবে তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। কিন্তু খোসা ফেটে গেলে ব্যাকটেরিয়া সহজেই ডিমের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। ফলে ফাটা ডিম দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ফাটা ডিমে সালমোনেলাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এসব জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলে ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডায়রিয়া, জ্বর, পেটে ব্যথা, বমি ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ভাঙা ডিম যদি দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা হয় বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে আরও বিভিন্ন ধরনের জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই খোসা ফাটা ডিম কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিমের কুসুমে ছোট লাল বা বাদামি রঙের রক্তের দাগ থাকলে সেটি সাধারণত কোনো রোগের লক্ষণ নয়। মুরগির ডিম তৈরির সময় ক্ষুদ্র একটি রক্তনালি ফেটে যাওয়ার কারণে এমন দাগ তৈরি হতে পারে। এটি ডিম নিষিক্ত হওয়ারও প্রমাণ নয়।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমটি তাজা থাকলে এবং ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করা হলে কুসুমের রক্তের দাগ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। অস্বস্তি লাগলে চামচ দিয়ে ওই অংশটি তুলে ফেলে বাকি ডিম রান্না করে খাওয়া যেতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, একটি মাঝারি আকারের ডিমে প্রায় ৭৫ কিলোক্যালরি শক্তি, ৮ গ্রাম প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন এ, ডি, বি-১২, ফসফরাস, জিংক, লুটেইন ও জিয়াজেনথিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে, যা চোখ, হাড় ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার জন্য উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
- খোসা ফাটা বা দুর্গন্ধযুক্ত ডিম এড়িয়ে চলুন।
- ডিম সবসময় ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খান।
- কুসুমে রক্তের ছোট দাগ থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই; ডিমটি তাজা হলে তা সাধারণত নিরাপদ।