সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তার দলীয় অবস্থান ও সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জামায়াত কোনো চূড়ান্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়নি।
গাজী নজরুল ইসলাম ভিডিওতে থাকা নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
জামায়াতের গঠনতন্ত্র কী বলছে?
জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারায় বলা হয়েছে, দলীয় নীতির পরিপন্থী কোনো কাজ করলে সদস্যপদ বাতিল বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের পরামর্শক্রমে আমিরে জামায়াত যেকোনো সদস্যকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা রাখেন।
দলের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো সদস্যের কর্মকাণ্ডে দলের নৈতিক অবস্থান বা মর্যাদা ক্ষুণ্ন হলে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
দল কী বলেছে?
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর বক্তব্যসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এমপি পদ থাকবে কি?
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হয়।
তবে দল যদি কোনো সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করে, সে ক্ষেত্রে তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে—এমন বিধান সংবিধানে সরাসরি নেই।
আইনজীবীদের মতে, অতীতেও দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও কয়েকজন সংসদ সদস্য তাদের আসন বহাল রেখেছেন। ফলে শুধু দলীয় বহিষ্কারই এমপি পদ হারানোর জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এ ধরনের বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা নির্বাচন কমিশন নিষ্পত্তি করবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
ভিডিও নিয়ে বিতর্ক
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে জামায়াতের কিছু নেতা-কর্মী ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ভিডিওটিকে আসল বলে উল্লেখ করে।
পরবর্তীতে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই জানান, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় এখনো জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা বা নির্বাচন কমিশনের কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। তাই তার দলীয় সদস্যপদ ও সংসদ সদস্য পদ—দুটিই বর্তমানে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।