Category: খেলা

  • ব্যাটিংয়ে ধস, বোলিংয়ে ঝড়—আমিরাতকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

    ব্যাটিংয়ে ধস, বোলিংয়ে ঝড়—আমিরাতকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

    নারী এশিয়া কাপের বাঁচা-মরার ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে না পারলেও বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জয় তুলে নেয় নিগার সুলতানার দল। গ্রুপ ‘বি’-এর রানার্সআপ বাংলাদেশ এখন সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে শক্তিশালী ভারতের।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৮ রানের মধ্যে হারায় দুই উইকেট। এরপর জুরাইরা ফেরদৌস ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা ২৯ রানের জুটি গড়ে সাময়িকভাবে বিপদ সামাল দেন। কিন্তু এরপর আবারও ব্যাটিংয়ে ধস নামে। ৫৫ রানের মধ্যেই ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

    সেখান থেকে দলের হাল ধরেন শারমিন আক্তার ও নাহিদা আক্তার। দুজনের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। শারমিন ৩১ বলে ৩৮ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার। নাহিদা ২৬ বলে অপরাজিত ১৬ রান করেন।

    ম্যাচ শেষে শারমিন আক্তার বলেন, দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তার লক্ষ্য ছিল ক্রিজে টিকে থেকে শেষের ব্যাটারদের সঙ্গে জুটি গড়া। তার মতে, শুরুতেই পাঁচ-ছয়টি উইকেট পড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই দল চাপে পড়ে যায়।

    দলীয় সংগ্রহ নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও জানান শারমিন। ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০০ রান পার করাটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তার। নাহিদার সঙ্গে ব্যাটিং করার সময় আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

    বাংলাদেশের দেওয়া ১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। মারুফা আক্তারের সুইং এবং বাংলাদেশের স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ৬৯ রানের বেশি করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ফলে ৩৪ রানের জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

    বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন রাবেয়া খান। চার ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। নাহিদা আক্তার ও মারুফা আক্তার নেন দুটি করে উইকেট। সুলতানা খাতুন ও ফাহিমা খাতুনও একটি করে উইকেট শিকার করেন।

    ব্যাটিংয়ে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্য পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন শারমিন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দর্শকেরা চার-ছক্কার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি ও উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই একজন খেলোয়াড়কে ব্যাট করতে হয়।

    এই জয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী বৃহস্পতিবার প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগ্রেসরা। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান।

    কম রানের ম্যাচে ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট যেভাবে ১০৩ রান সফলভাবে রক্ষা করেছে, সেটিই এখন দলের সবচেয়ে বড় আত্মবিশ্বাস। তবে শিরোপার লড়াইয়ে ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে আরও উন্নতি করতে হবে বাংলাদেশকে।

  • নতুন ক্লাবে হামজার শুরুটা কেমন, কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন বাংলাদেশি তারকা

    নতুন ক্লাবে হামজার শুরুটা কেমন, কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন বাংলাদেশি তারকা

    লেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টেনে নতুন ঠিকানায় পা রেখেছেন বাংলাদেশের তারকা ফুটবলার হামজা দেওয়ান চৌধুরী। এবার শেফিল্ড ইউনাইটেডের জার্সিতে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে তার। নতুন দলের মাঝমাঠে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করার লড়াইয়ে থাকা হামজার শুরুটা এখন পর্যন্ত বেশ ইতিবাচক।

    মাত্র ৭ বছর বয়সে লেস্টার সিটির একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন হামজা। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ২০১৭ সালে ক্লাবটির মূল দলে অভিষেক হয় তার। লেস্টারের হয়ে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর এবার স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন এই বাংলাদেশি মিডফিল্ডার।

    শেফিল্ডের সঙ্গে অবশ্য হামজার পরিচয় নতুন নয়। এর আগে ধারে ক্লাবটির হয়ে খেলেছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার স্থায়ীভাবেই শেফিল্ডে যোগ দেন। চলতি মৌসুমে দলটির হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়মিত মাঠে নামার সুযোগও পাচ্ছেন তিনি।

    বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে তিন ম্যাচে মাঠে নেমেছেন হামজা। ১ সেপ্টেম্বর বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট এবং ৫ সেপ্টেম্বর নরউইচ সিটির বিপক্ষেও ৯০ মিনিট খেলেন তিনি। সর্বশেষ ৮ সেপ্টেম্বর ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের বিপক্ষে খেলেছেন ৫৮ মিনিট। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে তার মাঠে থাকার সময় ২৩৮ মিনিট।

    সর্বশেষ ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে হামজার পারফরম্যান্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দ্বিতীয়ার্ধের গোললাইন ক্লিয়ারেন্স। শেফিল্ডের লিড ধরে রাখতে ওই মুহূর্তে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে তাকে তুলে নেন কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার।

    হামজার পরিসংখ্যানে এখনো গোল বা অ্যাসিস্ট যোগ হয়নি। তবে একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে তার মূল্যায়ন শুধু গোল কিংবা অ্যাসিস্ট দিয়ে করার সুযোগ নেই। প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানো, বলের দখল ধরে রাখা, রক্ষণকে সহযোগিতা করা এবং মাঝমাঠে দলের ভারসাম্য বজায় রাখাই তার প্রধান দায়িত্ব।

    শেফিল্ড ইউনাইটেডও মৌসুমের শুরুতে লড়াইয়ের মধ্যেই রয়েছে। সর্বশেষ ব্ল্যাকবার্নকে ২-১ গোলে হারিয়ে দলটি গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়েছে। ওই জয়ে শেফিল্ডের হয়ে গোল করেন থমাস ক্যানন ও সিডি পেক।

    নতুন ক্লাবে হামজার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিয়মিত একাদশে নিজের জায়গা ধরে রাখা। সর্বশেষ তিনটি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচেই তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। ফলে দলের কৌশলে তার ওপর আস্থার ইঙ্গিতও মিলছে।

    বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হামজার ক্লাব পারফরম্যান্সের গুরুত্ব আরও বেশি। জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো সামনে থাকায় শেফিল্ডে তার নিয়মিত খেলা ও ম্যাচ ফিটনেস বাংলাদেশের জন্যও স্বস্তির খবর। নতুন ক্লাবে যত বেশি সময় মাঠে থেকে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, জাতীয় দলের জন্যও তত বেশি কার্যকর হয়ে ওঠার সুযোগ থাকবে।

    লেস্টারের দীর্ঘ অধ্যায় পেছনে ফেলে শেফিল্ডে এখন হামজার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। শুরুতে নিয়মিত একাদশে জায়গা করে নেওয়ার যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেটিকে আরও ধারাবাহিকতায় রূপ দিতে পারলেই নতুন ক্লাবের অধ্যায়টি তার ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • পোর্তোর মাঠে হালান্ড ঝড়, ২-০ গোলে জিতল ম্যানসিটি

    পোর্তোর মাঠে হালান্ড ঝড়, ২-০ গোলে জিতল ম্যানসিটি

    নতুন মৌসুমে দুর্দান্ত জয় দিয়ে শুরু করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে পোর্তোর মাঠে স্বাগতিকদের ২-০ গোলে হারিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। দুই গোলই করেছেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।

    ম্যাচের প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি সিটি। বিশেষ করে হালান্ডকে একাধিকবার আটকে দেন পোর্তোর গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। প্রথমার্ধে তার দুর্দান্ত সেভে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

    বিরতির পর অবশ্য আর হালান্ডকে আটকে রাখা যায়নি। ৪৭তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে দারুণ হেডে বল জালে পাঠিয়ে সিটিকে এগিয়ে দেন এই নরওয়েজিয়ান তারকা। এরপর সমতায় ফিরতে আক্রমণে ওঠে পোর্তো। তবে সিটির রক্ষণ ও গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার দৃঢ়তায় গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা।

    ম্যাচের যোগ করা সময়ে আবারও জ্বলে ওঠেন হালান্ড। রায়ান আইত-নুরির বাড়িয়ে দেওয়া বল নিয়ন্ত্রণ করে ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। এতে ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় সিটির।

    এই জোড়া গোলের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ ম্যাচে ৫৯টি। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে মাত্র ৫৯ ম্যাচেই ৫৯ গোলের মাইলফলকে পৌঁছেছেন তিনি।

    ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে হালান্ডের গোলসংখ্যাও দাঁড়িয়েছে ৩৬-এ, যেখানে তিনি ক্লাবটির চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা সার্জিও আগুয়েরোর রেকর্ড স্পর্শ করেছেন।

    অন্যদিকে, পেপ গার্দিওলার অধ্যায়ের পর মারেসকার অধীনে সিটির ইউরোপীয় অভিযানের শুরুটাও হলো জয় দিয়ে। পোর্তোর বিপক্ষে এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট পেল ইংলিশ জায়ান্টরা।

  • ইংল্যান্ডে আগুন ঝরাচ্ছেন খালেদ-হাসান, প্রথম তিন উইকেটই বাংলাদেশের

    ইংল্যান্ডে আগুন ঝরাচ্ছেন খালেদ-হাসান, প্রথম তিন উইকেটই বাংলাদেশের

    ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের পেসারদের দাপট অব্যাহত। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের হয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছেন হাসান মাহমুদ ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ। ম্যাচের শুরুতেই ডার্বিশায়ারের প্রথম তিন উইকেটের তিনটিই শিকার করেছেন বাংলাদেশের দুই পেসার।

    ম্যাচের প্রথম ওভারেই বল হাতে নেন হাসান মাহমুদ। নতুন বলে অসাধারণ সুইং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন তিনি। এরপর পরের বলেই ম্যাট মন্টগোমেরিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন হাসান। অর্থাৎ টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে শুরুতেই ডার্বিশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন এই বাংলাদেশি পেসার।

    এরপর কেন্টের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক হয় সৈয়দ খালেদ আহমেদের। অভিষেক ম্যাচেই উইকেটের দেখা পান তিনি। ইউসুফ বিন নাইমকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে নিজের প্রথম কাউন্টি উইকেট তুলে নেন খালেদ। ফলে ডার্বিশায়ারের প্রথম তিন উইকেটই আসে বাংলাদেশের দুই পেসারের হাত ধরে।

    কাউন্টিতে এরই মধ্যে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। কেন্টের হয়ে আগের তিন ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি। সর্বশেষ উস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচেও ৭ উইকেট নিয়েছিলেন এই পেসার। সেই পারফরম্যান্সের পর ডার্বিশায়ারের বিপক্ষেও একাদশে জায়গা ধরে রাখেন হাসান।

    অন্যদিকে, খালেদ আহমেদের জন্য এটি দেশের বাইরে কোনো দলের হয়ে খেলার প্রথম সুযোগ। কেন্টের সঙ্গে চার ম্যাচের চুক্তিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। কাউন্টিতে খেলার সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশকে গর্বিত করার প্রত্যয়ও জানিয়েছিলেন এই পেসার।

    ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের দুই পেসারের বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় ডার্বিশায়ার। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ছিল ৫৯ রান। কেন্টের হয়ে একই ম্যাচে দুই বাংলাদেশি পেসারের এমন দাপুটে বোলিংয়ে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকেরাও।

  • ৪ ম্যাচে ১৭ গোল, তবুও নতুন স্ট্রাইকারের প্রয়োজন দেখছেন ফ্লিক

    ৪ ম্যাচে ১৭ গোল, তবুও নতুন স্ট্রাইকারের প্রয়োজন দেখছেন ফ্লিক

    রবার্ট লেভানডোভস্কি, ফেরান তোরেস ও মার্কাস র‌্যাশফোর্ড চলে যাওয়ার পর বার্সেলোনার আক্রমণভাগ নিয়ে তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ। বিশেষ করে একজন স্বীকৃত ‘নম্বর ৯’-এর ঘাটতি পূরণে নতুন স্ট্রাইকার খুঁজছিল কাতালান ক্লাবটি। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়াতে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

    আলভারেজকে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জেসুস গ্যাব্রিয়েলের সঙ্গে চুক্তি করেছে বার্সেলোনা। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে বার্সার জার্সিতে অভিষেকও হয়েছে তার।

    তবে নতুন স্ট্রাইকারের ঘাটতি থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার বড় কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। লা লিগায় চার ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার গোলসংখ্যা ১৭। এর মধ্যে তিন ম্যাচেই পাঁচটি করে গোল করেছে দলটি।

    অস্থায়ী স্ট্রাইকার হিসেবে খেলা রাফিনিয়া একাই করেছেন ছয় গোল। ফারমিন লোপেজ ও লামিন ইয়ামাল করেছেন চারটি করে গোল। ফলে আক্রমণভাগে গোলের ধারায় কোনো ঘাটতি নেই বললেই চলে।

    তবুও একজন প্রকৃত স্ট্রাইকারের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছেন না বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। তার মতে, দল যেভাবেই গোল করুক না কেন, একজন স্বীকৃত ‘নম্বর ৯’ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

    ফ্লিক বলেন, “এটা আমাদের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনছে না। আমাদের সাধারণত সত্যিকারের একজন ৯ নম্বর দরকার, এটা স্পষ্ট। কিন্তু আক্রমণভাগে, এমনকি মাঝমাঠেও আমাদের অনেক সামর্থ্যবান খেলোয়াড় আছে। প্রত্যেকেই গোল করতে পারে।”

    অর্থাৎ, চার ম্যাচে ১৭ গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও বার্সেলোনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় একজন স্বীকৃত স্ট্রাইকারের প্রয়োজন এখনো রয়েছে। গোলের এই ধারাবাহিকতা সেই প্রয়োজনকে হয়তো সাময়িকভাবে আড়াল করছে, কিন্তু কোচ ফ্লিকের বক্তব্যে বিষয়টি যে ক্লাবের ভাবনায় এখনো রয়েছে, তা স্পষ্ট।

  • এমবাপের পেনাল্টি মিস, বেটিসের কাছে মরিনিয়োর রিয়ালের প্রথম হার

    এমবাপের পেনাল্টি মিস, বেটিসের কাছে মরিনিয়োর রিয়ালের প্রথম হার

    দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হওয়ার পর প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছেন হোসে মরিনিয়ো। লা লিগার চতুর্থ ম্যাচে রিয়াল বেটিসের কাছে ১–০ গোলে হেরেছে তাঁর দল। ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ বেশ কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি।

    রিয়াল মাদ্রিদের একাধিক সুযোগ নষ্টের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি। যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। কিন্তু এমবাপের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন বেটিস গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস। এর আগে ভিনিসিয়ুসের একটি শট পোস্টে লাগে এবং এমবাপের আরেকটি প্রচেষ্টা ক্রসবারে আঘাত করে।

    অন্যদিকে ম্যাচের ৮১ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে রিয়াল বেটিসকে এগিয়ে দেন ট্রয় প্যারট। থিবো কোর্তোয়া একটি হেড ঠেকানোর পর বলের ফিরতি শটে গোল করেন এই আইরিশ ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত তাঁর গোলই রিয়ালের বিপক্ষে বেটিসের জয় নিশ্চিত করে।

    ম্যাচ শেষে মরিনিয়ো বলেন, কখনো কখনো একটি দল হেরে যায়, কিন্তু কেন হারল তার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাঁর মতে, রিয়াল ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, মনোযোগ ধরে রেখেছিল এবং প্রচুর আক্রমণও করেছিল। এমনকি ড্র হলেও তিনি হতাশ হতেন বলে জানান, কারণ তাঁর দলের আরও বেশি পাওয়ার যোগ্যতা ছিল।

    তবে নিজেদের খেলোয়াড়দের ম্যাচ পরিচালনার ধরন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মরিনিয়ো। তাঁর মতে, বেটিসের খেলোয়াড়রা রেফারিকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের চেয়ে বেশি ‘বুদ্ধিমান’ ছিল। বিপরীতে তাঁর খেলোয়াড়রা অনেক বেশি সরলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।

    ম্যাচে রিয়ালের আরও একটি গোল বাতিল হয়। কার্লোস এস্পির বাইসাইকেল কিক থেকে পাওয়া গোলটি অফসাইডের কারণে ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয়। ফলে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পেলেও সমতা ফেরাতে পারেনি রিয়াল।

    এই পরাজয়ে মরিনিয়োর দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়ালের টানা তিন জয়ের সূচনা থেমে গেল। একই সঙ্গে চলতি লা লিগা মৌসুমে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট হারাল দলটি।

  • বিপিএলে আবারও বড় তারকাদের দেখতে চান হাবিবুল বাশার

    বিপিএলে আবারও বড় তারকাদের দেখতে চান হাবিবুল বাশার

    নানা অনিয়ম, পারিশ্রমিক জটিলতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক বছর ধরে সমালোচনার মুখে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। এসব বিতর্কের কারণে এবারের আসর স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে বিরতি নিয়ে আরও ভালোভাবে বিপিএল আয়োজনের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্টে আবারও বড় তারকা ক্রিকেটারদের দেখতে চান বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।

    বাশারের মতে, সময় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিপিএল আয়োজন করা গেলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও প্রতিযোগিতার মান আরও ভালো হবে। আগে বিপিএলে অনেক বড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার অংশ নিতেন, যা টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় ক্রিকেটারদেরও ভালো খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শেখার সুযোগ করে দিত। তাই সেই পরিবেশ আবার ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা তাঁর।

    বিপিএলকে শুধু একটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বাশার। তাঁর মতে, টুর্নামেন্টটি একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়মিত ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করা জরুরি। আইপিএল, পিএসএল ও বিগ ব্যাশের মতো বড় টি-টোয়েন্টি লিগগুলো নিজেদের ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারলেও বিপিএল এখনো সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    বিপিএল না হলেও জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় খুঁজে বের করার সুযোগ থাকবে বলে মনে করেন সাবেক এই জাতীয় অধিনায়ক। ২০২৮ বিশ্বকাপের আগে বিসিবি আরও একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সেখানে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে নতুন ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে তাঁর আশা।

    বাশারের বক্তব্য অনুযায়ী, বিপিএল ক্রিকেটারদের জন্য যেমন আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জাতীয় দলের জন্য প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে। তাই সব বিতর্ক পেছনে ফেলে ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত, প্রতিযোগিতামূলক ও তারকাসমৃদ্ধ বিপিএল দেখতে চান তিনি।

  • সোনারগাঁওয়ে ৫৩ তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুলের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

    সোনারগাঁওয়ে ৫৩ তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুলের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

     

    সোনারগাঁও ( নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ৫৩ তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সোনারগাঁওয়ের মেঘনা শিল্প নগরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে খেলাধুলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি, সোনারগাঁও শাখার উদ্যোগে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    মেঘনা শিল্পনগরী স্কুল এন্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের রাজনৈতিক সচিব খাইরুল ইসলাম সজিব।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত ও মেঘনা শিল্পনগরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ তৈরির ক্ষেত্রেও স্কুল পর্যায়ের এসব প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তারা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে দেশব্যাপী ৫৩ তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  • লিটনের নেতৃত্বে এশিয়ান গেমসে শক্তিশালী বাংলাদেশ দল

    লিটনের নেতৃত্বে এশিয়ান গেমসে শক্তিশালী বাংলাদেশ দল

    জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০তম এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে এবার পরীক্ষামূলক দল নয়, পূর্ণশক্তির স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ইভেন্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলের নেতৃত্বে থাকবেন লিটন দাস, আর সহ-অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়।

    এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বাংলাদেশের লক্ষ্য এবার সোনা জয়। র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। ফলে গ্রুপপর্বে না খেলেই নকআউট পর্বে অভিযান শুরু করবে লিটন-হৃদয়ের দল। ২৮ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে প্রথম পর্বের ‘বি’ গ্রুপের বিজয়ী দল।

    বাংলাদেশের স্কোয়াডে সবচেয়ে আলোচিত নাম নাজমুল হোসেন শান্ত। দীর্ঘ বিরতির পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন টেস্ট অধিনায়ক। ২০২৫ সালের মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সর্বশেষ এই সংস্করণে খেলেছিলেন তিনি। শান্তর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে আরও অভিজ্ঞতা ও স্থিরতা দিতে পারে।

    অধিনায়ক লিটন দাসও চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তাওহিদ হৃদয়কে করা হয়েছে তাঁর ডেপুটি। দুজনের নেতৃত্বের পাশাপাশি ব্যাটিং পারফরম্যান্সও বাংলাদেশের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    ব্যাটিং বিভাগে লিটন, শান্ত ও হৃদয়ের সঙ্গে রয়েছেন তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ সাইফ হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও ইয়াসির আলী চৌধুরী। ফলে টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার—দুই জায়গাতেই একাধিক বিকল্প থাকছে বাংলাদেশের হাতে।

    অলরাউন্ড বিভাগেও রয়েছে বৈচিত্র্য। রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দলের ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই বাড়তি বিকল্প তৈরি করবেন। স্পিনে নাসুম আহমেদের সঙ্গে রিশাদ ও মেহেদীর উপস্থিতি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে বৈচিত্র্যময় করতে পারে।

    পেস আক্রমণে রয়েছেন শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ। তবে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা এবারের স্কোয়াডে জায়গা পাননি। নুরুল হাসানও নেই দলে।

    এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে মোট ১০টি দল অংশ নেবে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি নকআউট পর্বে জায়গা পেয়েছে। অন্য দলগুলো প্রথম পর্বে লড়াই করে কোয়ার্টার ফাইনালের বাকি চারটি জায়গা পূরণ করবে।

    আগের আসরে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার লিটন দাসের নেতৃত্বে সেই সাফল্যকে ছাড়িয়ে সোনার পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগাররা। পূর্ণশক্তির দল ঘোষণায় বিসিবির সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

    মেসি-নির্ভরতা বা কোনো একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরতার মতো নয়, টি-টোয়েন্টিতে দলগত পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেবে। লিটন-শান্ত-হৃদয়ের ব্যাটিং, মোস্তাফিজ-শরিফুল-হাসানের পেস এবং রিশাদ-মেহেদীদের অলরাউন্ড সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারলে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনার স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেতে পারে।

    লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয় (সহ-অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলী চৌধুরী, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ।

  • মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে যে বড় চ্যালেঞ্জ

    মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে যে বড় চ্যালেঞ্জ

    একটি যুগের শেষ মানেই শুধু একজন কিংবদন্তির বিদায় নয়; অনেক সময় সেটি একটি দলের পরিচয় বদলে যাওয়ার মুহূর্তও। লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা তাই আর্জেন্টিনার জন্য নিছক আবেগের খবর নয়, বরং তাদের ফুটবলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

    ৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পরই সিদ্ধান্তটি নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন তিনি। অবশেষে ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

    মেসির বিদায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কে নেবেন তার জায়গা? কে সামলাবেন তার গোল, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব কিংবা কঠিন মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সেই অসাধারণ ক্ষমতা?

    তবে আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় ভুল হবে একজন ‘নতুন মেসি’ খোঁজা। মেসির মতো একজন ফুটবলার তৈরি হয় না পরিকল্পনা করে, আর তার সরাসরি বিকল্পও তৈরি করা সম্ভব নয়। বরং মেসির সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হতে পারে এমন একটি দল, যেখানে একজন খেলোয়াড়ের ওপর পুরো দায়িত্ব নির্ভর করবে না।

    এই জায়গাতেই বড় পরীক্ষা কোচ লিওনেল স্কালোনির। দীর্ঘদিন মেসিকে ঘিরে যে আর্জেন্টিনা নিজেদের শক্তি তৈরি করেছে, এখন সেই দলকে ধীরে ধীরে মেসি-নির্ভরতা থেকে বের করে আনতে হবে। পরিবর্তনটা শুধু একাদশে নয়, দলের চিন্তাভাবনাতেও আনতে হবে।

    আক্রমণে জুলিয়ান আলভারেজ হতে পারেন নতুন কেন্দ্রবিন্দু। তবে তার ওপর মেসির মতো খেলা নিয়ন্ত্রণ করার প্রত্যাশা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। বরং তার গতি, পজিশনিং ও গোল করার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন আক্রমণভাগ গড়ে তুলতে পারে আর্জেন্টিনা।

    মাঝমাঠেও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে ঘিরে এমন একটি মিডফিল্ড গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে দলের সৃজনশীলতা কোনো একক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করবে না। ভবিষ্যতের জন্য নিকো পাজ ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোর মতো তরুণদেরও ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে।

    রক্ষণভাগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের অভিজ্ঞতা দলকে স্থিরতা দিতে পারে। অন্যদিকে গারনাচো, সোল ও এচেভেরির মতো আক্রমণাত্মক প্রতিভাদের সামনে থাকবে নিজেদের পরিচয় তৈরি করার বড় সুযোগ।

    মেসির বিদায়কে তাই আর্জেন্টিনার দুর্বলতার শুরু হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা দেখা হবে না। বরং এটি হতে পারে নতুন একটি আর্জেন্টিনা তৈরির সবচেয়ে বড় সুযোগ। এমন একটি দল, যেখানে মেসির অনুপস্থিতি পূরণ করার চেষ্টা না করে তার রেখে যাওয়া মানদণ্ডকে সামনে রেখে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে।

    আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। দীর্ঘ ২১ বছরের যাত্রায় তিনি দেশের হয়ে রেকর্ড ২০৭ ম্যাচ খেলেছেন এবং করেছেন ১২৫ গোল। তার সবচেয়ে বড় সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি।

    মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অবশ্য সবসময় সাফল্যে মোড়া ছিল না। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর সাময়িক অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তখন জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা না জেতায় তাকে ঘিরে ছিল তীব্র সমালোচনা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই গল্প পুরোপুরি বদলে যায়।

    তাই মেসির বিদায়ের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু ম্যাচ জেতা নয়, প্রত্যাশার সেই পাহাড় সামলানো। মেসির যুগে আর্জেন্টিনার জয় অনেক সময় নির্ভর করেছে তার ব্যক্তিগত জাদুর ওপর। মেসি-পরবর্তী সময়ে জয়কে হতে হবে পুরো দলের কৃতিত্ব।

    সম্ভবত এটাই মেসির পর আর্জেন্টিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—একজন কিংবদন্তির জায়গা আরেকজন নিতে পারেন না, কিন্তু একটি দল মিলে সেই শূন্যতার ভার বহন করতে পারে।

    মেসি চলে যাচ্ছেন। এখন আর্জেন্টিনার সামনে প্রশ্নটা তাই ‘পরের মেসি কে?’ নয়। আসল প্রশ্ন—মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা নিজেদের নতুন করে কতটা আবিষ্কার করতে পারে?

    সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে, মেসির পরের আর্জেন্টিনা শুধু একটি কিংবদন্তির উত্তরাধিকার বহন করবে, নাকি নিজের নতুন ইতিহাস লিখবে।