যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার মতো সামরিক সক্ষমতা এখনো ইরানের রয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পিসতাই। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মার্কিন হামলায় ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি অচল হয়ে যায়নি।
পিসতাইয়ের মতে, ইরান অন্তত সামরিক দিক থেকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ওপর একাধিক বড় হামলা হলেও হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা এখনো রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এর আগে ইরান দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে। পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌ চলাচল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষক পিসতাই মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জটি শুধু সামরিক সক্ষমতার নয়, বরং রাজনৈতিকও। তার মতে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও বাস্তবে তা কতটা কমেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন পিসতাই। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলেও সংঘাত যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলে তিনি মনে করেন।
তার ধারণা, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কৌশলের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এরই মধ্যে আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত এখন দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইরানের সামরিক কৌশলেও দীর্ঘ সময় ধরে আঘাত সহ্য করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply