ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে যে ওয়ার্ডে, তার বরাবর নিচেই জমে আছে বৃষ্টির পানি। সেই পানির আশপাশে মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কোথাও জমে থাকা পানিতে শ্যাওলা, কোথাও আবর্জনা সব মিলিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডের পাশেই যেন ডেঙ্গুর প্রজননক্ষেত্র।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতাল ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের আশপাশে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যখন নগরজুড়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তখন খোদ সরকারি হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের পাশেই পানি জমে থাকার বিষয়টি প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে। যে হাসপাতালে মানুষ রোগ নিরাময়ের আশায় আসে, সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের ওয়ার্ডের পাশেই মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ তৈরি হওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য? এমন প্রশ্ন তুলছেন রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগীর স্বজন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। অথচ সেই ওয়ার্ডের পাশেই যদি পানি জমে থাকে এবং সেখানে মশা জন্মানোর সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। হাসপাতাল তো মানুষের সুস্থ হওয়ার জায়গা। হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশই যদি অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর থাকে, তাহলে রোগীরা আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে স্বজনকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। বাইরে মশা নিধনের কথা বলা হচ্ছে, আর হাসপাতালের ভেতরেই যদি মশার প্রজননের সুযোগ থাকে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের আশপাশে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
হাসপাতালের আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। হাসপাতালের দেয়াল ও স্থাপনার কারণে কিছু জায়গায় পানি সহজে বের হতে পারছে না। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার প্রজননের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নারায়ণগঞ্জ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাশার বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। হাসপাতালের দুই ভবনের মাঝে ভেতরে দেয়াল থাকায় বৃষ্টির পানি জমে ছিলো। জমে থাকা পানি ও সংশ্লিষ্ট জায়গা ভেঙে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালের পুরো এলাকা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তবে হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় পানি জমে থাকা এবং ডেঙ্গু ওয়ার্ডের আশপাশে মশার প্রজননের সম্ভাব্য পরিবেশ তৈরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত স্থানের আশপাশে পরিচ্ছন্নতা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা জরুরি বলে মনে করছেন রোগী ও স্বজনরা।
নগরবাসীর দাবি, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালের বাইরে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করলেই হবে না; হাসপাতালের ভেতর ও আশপাশের পরিবেশও নিয়মিত পরিদর্শন করে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তা না হলে রোগ নিরাময়ের জন্য যে হাসপাতাল, সেটিই মশার বংশবিস্তারের অনিচ্ছাকৃত উৎস হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply