Category: এক্সক্লুসিভ

  • ঈদের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত, ফিরছে কর্মব্যস্ত রাজধানী

    ঈদের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত, ফিরছে কর্মব্যস্ত রাজধানী

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষে আজ থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে কর্মজীবী মানুষ নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় রাজধানী ঢাকায় ফিরেছে কর্মব্যস্ততার চিরচেনা দৃশ্য।

    ঈদের ছুটি শেষে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে রাজধানীতে ফিরেছেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ। রোববার থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে অফিসপাড়ায় কর্মচাঞ্চল্য কিছুটা কম দেখা গেলেও সহকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে কর্মদিবস। অনেক প্রতিষ্ঠানেই ঈদ-পরবর্তী সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।

    গত ২৮ মে সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। ঈদ উপলক্ষে সরকার প্রথমে ছয় দিনের ছুটি ঘোষণা করলেও ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নির্বাহী আদেশে আরও একদিন ছুটি বাড়ানো হয়। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি ভোগ করেন। একই সুবিধা পান ব্যাংক, বিমা ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও।

    তবে অতিরিক্ত ছুটির সমন্বয়ের অংশ হিসেবে গত ২৩ মে, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সরকারি অফিস খোলা রাখা হয়েছিল।

    অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবাসহ জরুরি সেবাখাতের কর্মীরা ছুটির আওতার বাইরে ছিলেন।

    এছাড়া হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহন এবং অন্যান্য জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীরাও ঈদের ছুটির সুবিধা পাননি। জনসেবামূলক এসব প্রতিষ্ঠান ঈদের পুরো সময়জুড়েই নিরবচ্ছিন্নভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

    রাজধানীতে কর্মজীবী মানুষের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে দেশের প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড।

  • প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে প্রাণভরে দোয়া করলেন দৃষ্টিহীন নূরজাহান বেগম

    প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে প্রাণভরে দোয়া করলেন দৃষ্টিহীন নূরজাহান বেগম

    বয়সের ভারে নুয়ে পড়া, দৃষ্টিশক্তিহীন ও স্বজনহারা নূরজাহান বেগমের বহুদিনের একটি স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হলো। দীর্ঘদিন ধরে বুকের ভেতর লালন করা সেই স্বপ্ন ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একবার দেখা করা ও কথা বলার। শনিবার (৩০ মে) সেই সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

    রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার বাসিন্দা নূরজাহান বেগম।

    চোখে দেখতে না পারলেও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি অনুভব করে তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান এই বৃদ্ধা। কথোপকথনের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য প্রাণভরে দোয়া করেন এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আনন্দ নূরজাহান বেগমের কণ্ঠে ও অনুভূতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা এবং আন্তরিক দোয়া উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়। তবে অনুষ্ঠানের নানা আয়োজনের মধ্যে নূরজাহান বেগমের বহুদিনের স্বপ্নপূরণের ঘটনাটি উপস্থিত মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

  • তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নুরুন্নাহার নিম্নি

    তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নুরুন্নাহার নিম্নি

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উড়ল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। বাংলাদেশি পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি সফলভাবে এভারেস্ট জয় করে দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন। বুধবার (২৭ মে) ভোরে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করেন। তাঁর এই অর্জনের খবর নিশ্চিত করেছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)।

    এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নুরুন্নাহার নিম্নি। এর আগে ২০১২ সালের ১৯ মে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন নিশাত মজুমদার। একই বছরের ২৬ মে শিখর জয় করেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও কোনো বাংলাদেশি নারী এভারেস্টের চূড়ায় উঠলেন।

    গত ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন নিম্নি। কাঠমান্ডু হয়ে লুকলা পৌঁছে তিনি এভারেস্ট বেজক্যাম্পে যান। সেখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে অতিউচ্চতার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নেন। সাধারণত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে এভারেস্ট সামিটের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ধরা হয়।

    গত ১৭ মে চূড়ান্ত অভিযানের উদ্দেশ্যে বেজক্যাম্প ত্যাগ করেন নিম্নি। ধাপে ধাপে বিভিন্ন ক্যাম্প অতিক্রম করে ২৩ মে পৌঁছান ক্যাম্প-৪ এ। তবে সেদিন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শিখরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেও ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি। পরে কয়েকদিন ক্যাম্প-২ এ অবস্থান করে অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষা করেন।

    অবশেষে ২৫ মে আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবারও নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করেন নুরুন্নাহার নিম্নি। সোমবার ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছে সন্ধ্যার পর শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহণ। তীব্র ঠান্ডা, অক্সিজেন সংকট এবং প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে মঙ্গলবার ভোরে তিনি এভারেস্টের শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে গৌরবের নতুন ইতিহাস রচনা করেন তিনি। অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের এক শেরপা।

    বর্তমানে নুরুন্নাহার নিম্নি পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর এই অভিযানের স্পনসরও ছিল প্রতিষ্ঠানটি।

    রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্নি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ২০০৬ সালে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ফিল্ডওয়ার্কে গিয়ে পাহাড়ের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয় তাঁর। এরপর ধীরে ধীরে পর্বতারোহণের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে।

    বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ে ভ্রমণের পাশাপাশি ভুটান, ভারতের সিকিম এবং নেপালের বিভিন্ন পর্বতে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। ২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্প ভ্রমণের পর আরও বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন নিম্নি। পরে ২০২০ সালে এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক সম্পন্ন করার পর পেশাদার পর্বতারোহী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    নিজেকে প্রস্তুত করতে ২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে অবস্থিত হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। একই বছর যুক্ত হন বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সঙ্গে।

    বাংলাদেশের হয়ে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহীম। তিনি ২০১০ সালের ২৩ মে এভারেস্টের শিখরে পৌঁছান। এরপর এম এ মুহিত দুবার এভারেস্ট জয় করেন। ২০১৩ সালে এভারেস্ট জয় করেছিলেন সজল খালেদ, তবে ফেরার পথে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

    দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালে এভারেস্ট জয় করেন বাবর আলী। আর ২০২৫ সালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে হেঁটে এভারেস্ট চূড়ায় পৌঁছে আলোচনায় আসেন ইকরামুল হাসান শাকিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশের একমাত্র অভিযাত্রী হিসেবে এভারেস্ট জয় করে ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন নুরুন্নাহার নিম্নি।

    নুরুন্নাহার নিম্নির এই সাফল্যে দেশজুড়ে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

  • ভালুকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ৭ বসতঘর, ছাইয়ের মধ্যেও অক্ষত কোরআনের হরফ

    ভালুকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ৭ বসতঘর, ছাইয়ের মধ্যেও অক্ষত কোরআনের হরফ

    ইমন সরকার : ময়মনসিংহের ভালুকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাতটি বসতঘর, মূল্যবান আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও বহু বছরের কষ্টার্জিত সম্পদ। আগুনের লেলিহান শিখায় যখন সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তখন সেই ছাইয়ের স্তূপের মধ্যেই অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে পবিত্র কোরআন শরীফের হরফ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বিস্ময় ও আবেগঘন পরিবেশ।

    সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ হবিরবাড়ী গ্রামের খন্দকার পাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলামের টিনশেড ঘর থেকে হঠাৎ বিকট শব্দের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    অগ্নিকাণ্ডে আশরাফুল ইসলামের চারটি এবং মিতু আক্তারের তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, শিক্ষাগত সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ভস্মীভূত হয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত আশরাফুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
    “আমার বসতবাড়ির ৪টি ঘরে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বর্তমানে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই বা এক মুঠো খাবারও অবশিষ্ট নেই। তবে এই ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আল্লাহর কালামের হরফগুলো অক্ষত দেখে মনে এক অন্যরকম সান্ত্বনা পাচ্ছি।”

    অপর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মিতু আক্তারের মা বলেন, “হঠাৎ আগুন দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন, জীবনের সব সঞ্চয় পুড়ে গেছে কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।”

    স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজ খন্দকার বলেন, “হঠাৎ লাগা এই আগুনে দুটি পরিবারের সবকিছু পুড়ে গেছে। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে একেবারে নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আগুনে সবকিছু শেষ হলেও কোরআন শরীফের পাতাগুলোর এই অবস্থা সবাইকে বিস্মিত করেছে।”

    এ বিষয়ে ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি রওনা হয়েছিল। তবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ফলে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করা সম্ভব হয়নি।”

    এদিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা না পেলে পরিবার দুটি চরম মানবিক সংকটে পড়বে।

  • সৌদিয়ার একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার: বাংলাদেশি যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা

    সৌদিয়ার একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার: বাংলাদেশি যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা

    ঢাকা, মে ০৩, ২০২৬ – সৌদি আরবের জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন সৌদিয়া ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল ক্যাটারিং অ্যান্ড অনবোর্ড সার্ভিসেস এক্সপো (WTCE)-তে সর্বাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত এয়ারলাইন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাভেলপ্লাস, অনবোর্ড হসপিটালিটি এবং PAX ইন্টারন্যাশনাল রিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস-এ মোট ১২টি আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছে।

    এই অর্জনটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য। সৌদিয়া নিয়মিতভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে জেদ্দা ও রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা করে, যা ওমরাহ, হজ এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থাপন করে।

    এয়ারলাইনটির এই স্বীকৃতি তাদের সকল শ্রেণির কেবিনে আরাম, সেবা ও উদ্ভাবনে ধারাবাহিক বিনিয়োগের প্রতিফলন। এর সুফল সরাসরি পাচ্ছেন বাংলাদেশি যাত্রীরা, যারা ধর্মীয়, ব্যবসায়িক ও পারিবারিক প্রয়োজনে নিয়মিত এই এয়ারলাইন ব্যবহার করেন।অনবোর্ড হসপিটালিটি অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ সৌদিয়া “বেস্ট ফার্স্ট ক্লাস ফুড সার্ভিস (লাঞ্চ ও ডিনার)” এবং “বেস্ট অ্যামেনিটিজ: ইকোনমি” বিভাগে পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া “বেস্ট ওয়্যারেবল টেক্সটাইলস” বিভাগে ‘হাইলি কমেন্ডেড’ সম্মাননা লাভ করে।

    ট্রাভেলপ্লাস এয়ারলাইন অ্যামেনিটি অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ সৌদিয়া ছয়টি স্বীকৃতি অর্জন করে, যার মধ্যে পাঁচটি গোল্ড অ্যাওয়ার্ড। এসবের মধ্যে রয়েছে ইকোনমি ক্লাস অ্যামেনিটি কিট, কমফোর্ট আইটেম, বিজনেস ক্লাস মিল সার্ভিসওয়্যার, ফার্স্ট ক্লাস স্লিপার/লাউঞ্জ স্যুট এবং বিজনেস ক্লাস অ্যামেনিটি কিট (মধ্যপ্রাচ্য)। এছাড়া “ফার্স্ট ক্লাস লেডিস কিট” বিভাগে ‘হাইলি কমেন্ডেড’ সম্মাননা লাভ করে।একই সঙ্গে সৌদিয়া “ট্রাভেলপ্লাস প্যাসেঞ্জার অ্যামেনিটিজ ফাইভ স্টার রেটিং ২০২৬” অর্জন করেছে, যা বিশ্বব্যাপী অল্পসংখ্যক এয়ারলাইনকে প্রদান করা হয়।

    অন্যদিকে, PAX ইন্টারন্যাশনাল রিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ সৌদিয়া “বেস্ট ইনফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট (IFE) অ্যান্ড কানেক্টিভিটি – মধ্যপ্রাচ্য” এবং “বেস্ট চিলড্রেনস অ্যামেনিটি কিট – মধ্যপ্রাচ্য” বিভাগে পুরস্কার জিতেছে।সৌদিয়া বর্তমানে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গেস্ট এক্সপেরিয়েন্স উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ডিজিটাল সেবা, উন্নত কেবিন সুবিধা, উচ্চগতির ইনফ্লাইট ইন্টারনেট এবং অনবোর্ড পণ্য ও সেবার মানোন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—যা সবই প্রকৃত সৌদি আতিথেয়তার আদলে যাত্রীদের জন্য উপস্থাপিত হচ্ছে।

     

     

     

  • ইতিহাস গড়লেন বাবর আলী: বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা

    ইতিহাস গড়লেন বাবর আলী: বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা

    বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করলেন বাবর আলী। তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত মাকালু জয় করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার পাঁচটি পর্বত জয় করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন।

    শনিবার (২ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার উচ্চতার এই দুর্গম শৃঙ্গের চূড়ায় পৌঁছান তিনি। নেপালের মহালাঙ্গুর হিমাল অঞ্চলে অবস্থিত মাকালু দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম কঠিন পর্বতারোহণ শৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত।

    ‘এক্সপিডিশন মাকালু: দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক এই অভিযানের আয়োজন করে চট্টগ্রামভিত্তিক পর্বতারোহণ সংগঠন ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স। সংগঠনটির সভাপতি ফরহান জামান নেপালের আউটফিটার সূত্রে এ সাফল্য নিশ্চিত করেন।

    গত ৭ এপ্রিল দেশ থেকে যাত্রা শুরু করেন বাবর আলী। ১৮ এপ্রিল তিনি বেসক্যাম্পে পৌঁছে ধাপে ধাপে উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ৩০ এপ্রিল চূড়ান্ত অভিযানে নামার পর পরদিনই তিনি শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

    অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শীর্ষ জয় শেষে বাবর আলী বর্তমানে নামার পথে রয়েছেন এবং আগামী ৩ মে বেসক্যাম্পে পৌঁছাতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    ২০১৪ সালে পর্বতারোহণ শুরু করা বাবর আলী এর আগে এভারেস্ট, লোৎসে, অন্নপূর্ণা-১ এবং মানাসলুসহ একাধিক উচ্চ শৃঙ্গ জয় করেছেন। তার এই সাফল্য বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।

  • নিউ হোস্টেল গ্র্যান্ড রিইউনিয়নের নিবন্ধন ৭ মে পর্যন্ত, অনুষ্ঠান ৩১ মে

    নিউ হোস্টেল গ্র্যান্ড রিইউনিয়নের নিবন্ধন ৭ মে পর্যন্ত, অনুষ্ঠান ৩১ মে

    কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের নিউ হোস্টেলের সাবেক শিক্ষার্থীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ‘নিউ হোস্টেল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে একটি আনন্দঘন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। উক্ত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নিউ হোস্টেলের সকল সাবেক শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

    নিবন্ধনের শেষ সময়: ৭ই মে, ২০২৬
    প্রোগ্রামের স্থান: বার্ড, কুমিল্লা
    তারিখ: ৩১ শে মে, রবিবার

    রেজিষ্ট্রেশন বা রিইউনিয়নের যেকোন বিষয় জানতে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করুনঃ

    +8801521251558
    +8801521558116
    +8801839335067
    +880 1875-094020

    নিউ হোস্টেল অ‍্যালামনাই অ‍্যাসোসিয়েশন,কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ

     

     

  • বর্ণাঢ্য আয়োজনে চ্যানেল 1-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    বর্ণাঢ্য আয়োজনে চ্যানেল 1-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে চ্যানেল 1। দিনটি উপলক্ষে নানা আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পথচলা, সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেলটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সাংবাদিক, কলাকুশলীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, দর্শকদের ভালোবাসা ও আস্থার ওপর ভর করেই চ্যানেলটি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন জনপ্রিয় শিল্পীরা, যা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

    আয়োজকরা জানান, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সম্প্রচার ও নতুন নতুন কনটেন্টের মাধ্যমে দর্শকদের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে কাজ করে যাচ্ছে চ্যানেলটি।

    উল্লেখ্য, যাত্রা শুরুর পর থেকে সংবাদ ও বিনোদন—দুই ক্ষেত্রেই নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে চ্যানেল 1, যা দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • চট্টগ্রাম বন্দরে ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ

    চট্টগ্রাম বন্দরে ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ

    তেলের সরবরাহ সংকটের মধ্যেই ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল।

    চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজটি বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছায়। চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক চুক্তি অনুযায়ী এ জ্বালানি সরবরাহ করেছে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, জাহাজটিতে থাকা ১০ হাজার টন ডিজেল দেশের পরিবহন ও শিল্পখাতে ব্যবহার করা হবে এবং ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে বিভিন্ন বিমানবন্দরে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল মজুত ছিল, নতুন এ চালান যুক্ত হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

    তিনি আরও বলেন, চলতি মাসে এটি নবম তেলবাহী জাহাজ। মোট ১৭টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও বাকি কয়েকটির সময়সূচি এখনো অনিশ্চিত। এর আগে আরও আটটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে।

    বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও জেট ফুয়েলসহ পাঁচ ধরনের জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে ডিপো ও পাইপলাইনে থাকা মজুত দিয়ে এপ্রিল পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানানো হয়েছে।

    বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাহাজটি এসেছে এবং দেশে বর্তমানে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    সরকার-টু-সরকার চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিপিসি প্রতিবছর প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল দেশে পরিশোধন করা হয় এবং বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

  • তাজু বলেন, “সাংবাদিক নই, পরিবার-সংক্রান্ত দুঃখ ভুলতে ভিডিও করি”

    তাজু বলেন, “সাংবাদিক নই, পরিবার-সংক্রান্ত দুঃখ ভুলতে ভিডিও করি”

    কুড়িগ্রামের নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া চর গ্রামের তাইজুল ইসলাম তাজু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি পরিচিতি তৈরি করেছেন। তাজু ভিডিও তৈরি করে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন, হাতে লম্বা বুম ব্যবহার করেন এবং টেলিভিশন সাংবাদিকদের মতো ভঙ্গি গ্রহণ করেন। সম্প্রতি জিলাপির সরকারি দামের বিষয়ে তার তৈরি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং ফলে তার ফলোয়ার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

    তাজু বলেন, “আমার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতে আমি ভিডিও বানাই। আমি সাংবাদিক নই। আপনারা সাংবাদিকরা নারায়ণপুরে আসেন না, আমাদের এলাকার খবর করেন না—তাই আমি নিজেই ভিডিও করি।” তিনি আরও যোগ করেন, “মানুষ যেভাবে ভালোবাসা দিচ্ছে, তা নতুন উদ্যমের উৎস হিসেবে কাজ করছে। ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, কিন্তু সংসার চালানো কষ্ট হয়, তাই আবার ঢাকা গিয়ে কাজ করতে হবে।”

    স্থানীয়রা জানান, তাজু কখনো নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে দাবি করেননি; তিনি শুধু এলাকার কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম বলেন, “তাজুর পরিবার নদী ভাঙনের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের জায়গায় বসবাস করছে। তাজু নিজে সংবাদিক নন, তিনি কেবল এলাকার সমস্যাগুলো সামনে তুলে ধরেন।”

    তাজু সিরাজ-তাহেরা দম্পতির ছয় সন্তানদের মধ্যে বড় সন্তান। বর্তমানে তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে পরিবার চালান। মাত্র ৮ হাজার টাকার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করেন এবং বর্তমানে পেইজ মনিটাইজেশন না থাকার কারণে তাতে আয়ের সুযোগ নেই। স্থানীয়রা তার সরলতা ও উদ্যমকে প্রশংসা করছেন।

    উল্লেখ্য, ‘তাজু ভাই ২.০’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে মহান স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে নারায়ণপুর বাজারে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও করা হয়। ভিডিওতে তিনি দোকানিদের কাছে জানতে চেয়েছেন, জিলাপি ‘সরকারি রেটে’ বিক্রি হচ্ছে কি-না। তার এই সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং গ্রামের সরল ভাষা ভিডিওটিকে মুহূর্তেই ভাইরাল করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই ভিডিও তাজুর উদ্যম, সরলতা এবং গ্রামের সমস্যাগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যকে ফুটিয়ে তোলে।