তেলের সরবরাহ সংকটের মধ্যেই ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজটি বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছায়। চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক চুক্তি অনুযায়ী এ জ্বালানি সরবরাহ করেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, জাহাজটিতে থাকা ১০ হাজার টন ডিজেল দেশের পরিবহন ও শিল্পখাতে ব্যবহার করা হবে এবং ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে বিভিন্ন বিমানবন্দরে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল মজুত ছিল, নতুন এ চালান যুক্ত হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বস্তিদায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, চলতি মাসে এটি নবম তেলবাহী জাহাজ। মোট ১৭টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও বাকি কয়েকটির সময়সূচি এখনো অনিশ্চিত। এর আগে আরও আটটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও জেট ফুয়েলসহ পাঁচ ধরনের জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে ডিপো ও পাইপলাইনে থাকা মজুত দিয়ে এপ্রিল পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানানো হয়েছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাহাজটি এসেছে এবং দেশে বর্তমানে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকার-টু-সরকার চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিপিসি প্রতিবছর প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল দেশে পরিশোধন করা হয় এবং বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।