তাজু বলেন, “সাংবাদিক নই, পরিবার-সংক্রান্ত দুঃখ ভুলতে ভিডিও করি”

কুড়িগ্রামের নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া চর গ্রামের তাইজুল ইসলাম তাজু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি পরিচিতি তৈরি করেছেন। তাজু ভিডিও তৈরি করে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন, হাতে লম্বা বুম ব্যবহার করেন এবং টেলিভিশন সাংবাদিকদের মতো ভঙ্গি গ্রহণ করেন। সম্প্রতি জিলাপির সরকারি দামের বিষয়ে তার তৈরি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং ফলে তার ফলোয়ার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাজু বলেন, “আমার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতে আমি ভিডিও বানাই। আমি সাংবাদিক নই। আপনারা সাংবাদিকরা নারায়ণপুরে আসেন না, আমাদের এলাকার খবর করেন না—তাই আমি নিজেই ভিডিও করি।” তিনি আরও যোগ করেন, “মানুষ যেভাবে ভালোবাসা দিচ্ছে, তা নতুন উদ্যমের উৎস হিসেবে কাজ করছে। ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, কিন্তু সংসার চালানো কষ্ট হয়, তাই আবার ঢাকা গিয়ে কাজ করতে হবে।”

স্থানীয়রা জানান, তাজু কখনো নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে দাবি করেননি; তিনি শুধু এলাকার কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম বলেন, “তাজুর পরিবার নদী ভাঙনের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের জায়গায় বসবাস করছে। তাজু নিজে সংবাদিক নন, তিনি কেবল এলাকার সমস্যাগুলো সামনে তুলে ধরেন।”

তাজু সিরাজ-তাহেরা দম্পতির ছয় সন্তানদের মধ্যে বড় সন্তান। বর্তমানে তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে পরিবার চালান। মাত্র ৮ হাজার টাকার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করেন এবং বর্তমানে পেইজ মনিটাইজেশন না থাকার কারণে তাতে আয়ের সুযোগ নেই। স্থানীয়রা তার সরলতা ও উদ্যমকে প্রশংসা করছেন।

উল্লেখ্য, ‘তাজু ভাই ২.০’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে মহান স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে নারায়ণপুর বাজারে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও করা হয়। ভিডিওতে তিনি দোকানিদের কাছে জানতে চেয়েছেন, জিলাপি ‘সরকারি রেটে’ বিক্রি হচ্ছে কি-না। তার এই সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং গ্রামের সরল ভাষা ভিডিওটিকে মুহূর্তেই ভাইরাল করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই ভিডিও তাজুর উদ্যম, সরলতা এবং গ্রামের সমস্যাগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যকে ফুটিয়ে তোলে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *