Category: স্বাস্থ্য

  • বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ৪০টি আইসিইউ বেড দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

    বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ৪০টি আইসিইউ বেড দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

    রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ৪০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুতির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। যেখানে দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূল্যে আইসিইউ সেবা ব্যবস্থা থাকবে। এসময় সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিতে অচিরেই সেবাটি চালু করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি আজ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবসের আলোচনা সভা শেষে হাসপাতালটির বিশেষায়িত অ্যাজমা সেন্টারে নবনির্মিত ৪০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুতি কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

    প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালে কয়েক বছর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ফ্লোরগুলো পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে কম খরচে এবং সুলভ মূল্যে আইসিইউ সেবা পেতে পারে সে জন্য এই ইউনিটটি যত দ্রুত সম্ভব চালু করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি নাগরিকের কাছে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া।

    পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ এবং চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

  • প্রথম ইন্টারন্যাশনাল হার্ট ফেলিউর কনফারেন্স ২০২৬-এর প্রি-কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

    প্রথম ইন্টারন্যাশনাল হার্ট ফেলিউর কনফারেন্স ২০২৬-এর প্রি-কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

    নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম ইন্টারন্যাশনাল হার্ট ফেলিউর কনফারেন্স ২০২৬ উপলক্ষে রবিবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রি-কনফারেন্স ওয়ার্কশপ। এ কর্মশালায় মেডিকেল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), কার্ডিয়াক ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (কার্ডিয়াক এমআরআই) এবং এন্ডোমায়োকার্ডিয়াল বায়োপসি-র আধুনিক অগ্রগতি ও ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
    বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো এআই-ভিত্তিক ডায়াগনস্টিকস এবং উন্নত কার্ডিয়াক ইমেজিং প্রযুক্তি নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, হার্ট ফেলিউর দ্রুত শনাক্তকরণ, নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং রোগীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মূল্যায়নে এআই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে কার্ডিয়াক এমআরআই হৃদযন্ত্রের গঠন ও কার্যকারিতা নির্ভুলভাবে মূল্যায়নে বর্তমানে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    ওয়ার্কশপে দেশি-বিদেশি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির বাস্তবায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর হৃদরোগ ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এআই ও আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তির সমন্বয় দেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ৫০৭ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এ প্রি-কনফারেন্সের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিএমইউ’র ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম।

    স্বাগত বক্তব্য রাখেন কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন।
    এআই-বেইজড মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার ডিজিটাল হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. সুলতান কাভেরি। এছাড়া বক্তব্য দেন এভায়কেয়ার হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মোঃ আতাহার আলী।

    অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত কার্ডিয়াক এমআরআই ওয়ার্কশপে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউ কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মনজুর মাহমুদ।
    ভাইস-চেয়ারের দায়িত্ব পালন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাফর ইকবাল জামালী। এ পর্বে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি হসপিটাল জুরিখের অধ্যাপক ডা. রোবার্ট মানকা ,বিএমইউ হার্ট ফেলিউর ডিভিশনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. দীনে মুজাহীদ মোঃ ফারুক ওসমানী

    সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাহিদুল হক এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, নিওনেটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল মান্নানসহ আরও অনেক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক।

    ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রশিক্ষণে গুরুত্ব গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্কশপটি একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ডিজাইন করা হয়, যেখানে লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন ও ব্যবহারিক সেশন অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেশনগুলোতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়
    এআই-সহায়ক কার্ডিয়াক ইমেজিং ব্যাখ্যা কার্ডিয়াক এমআরআই সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলজি কার্যপ্রবাহে এআই টুলের সংযুক্তি হার্ট ফেলিউর নির্ণয় ও ব্যবস্থাপনায় কেস-ভিত্তিক আলোচনা আয়োজকদের মতে, এসব সেশনের মূল লক্ষ্য ছিল উদীয়মান প্রযুক্তি ও বাস্তব ক্লিনিক্যাল প্রয়োগের মধ্যে ব্যবধান কমানো, যা কনফারেন্সের মূল থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    হার্ট ফেলিউর চিকিৎসায় এআই-এর সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞরা বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ইতোমধ্যে কার্ডিওভাসকুলার চিকিৎসায় বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। রোগী নির্বাচন, রোগ নির্ণয়, ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও প্রগনোসিস নির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই এআই কার্যকর সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।

    এআই সিস্টেম দ্রুত বৃহৎ ডেটাসেট বিশ্লেষণ করতে পারে এবং বিশেষ করে জটিল রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে সক্ষম।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, অধিকাংশ এআই টুল এখনও উন্নয়ন বা প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এগুলোকে ব্যাপক ব্যবহারের আগে বৈজ্ঞানিক যাচাই ও মানদণ্ডভিত্তিক মূল্যায়ন প্রয়োজন।
    কার্ডিয়াক এমআরআই কেন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কার্ডিয়াক এমআরআই উচ্চ রেজোলিউশনের নন-ইনভেসিভ ইমেজিং প্রদান করে এবং এতে রেডিয়েশন এক্সপোজার নেই। ফলে এটি হার্ট ফেলিউর রোগীদের সঠিক রোগ নির্ণয় ও ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত কার্যকর।

    ওয়ার্কশপে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় এআই ও কার্ডিয়াক এমআরআই-এর যৌথ ব্যবহারের সুবিধা। এর মাধ্যমে— কার্ডিয়াক স্ট্রাকচারের স্বয়ংক্রিয় সেগমেন্টেশন দ্রুত ইমেজ প্রসেসিং ও রিপোর্টিং ভেন্ট্রিকুলার ফাংশনের পরিমাণগত মূল্যায়ন
    সূক্ষ্ম মায়োকার্ডিয়াল অস্বাভাবিকতা শনাক্তকরণ আরও সহজ ও কার্যকরভাবে করা সম্ভব।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সমন্বয় চিকিৎসা-দক্ষতা বৃদ্ধি করে, পর্যবেক্ষকভেদে পার্থক্য কমায় এবং উন্নত কার্ডিয়াক ইমেজিংকে আরও সহজলভ্য করতে সাহায্য করে।

    বাংলাদেশে সফল বাস্তবায়নের জন্য যা প্রয়োজন ওয়ার্কশপে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের প্রযুক্তির কার্যকর ক্লিনিক্যাল বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ প্রয়োজন। যেমন—অবকাঠামো উন্নয়ন
    উন্নত কার্ডিয়াক ইমেজিং সেন্টার স্থাপনএমআরআই-সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্ডিয়াক সফটওয়্যার ও এআই টুলের প্রাপ্যতা
    নির্ভরযোগ্য ডেটা সংরক্ষণ ব্যবস্থাশক্তিশালী ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
    চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্টদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণপ্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ জনবল তৈরি ব্যয় ও প্রাপ্যতা
    প্রযুক্তি ব্যবহারের খরচ কমানো রোগী ও হাসপাতাল পর্যায়ে সহজলভ্যতা বৃদ্ধি নৈতিক ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো
    স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারের জন্য মানসম্মত গাইডলাইন ডেটা গোপনীয়তা ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
    স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এআই টুলের যাচাই ও গবেষণা নতুন যুগের সূচনা ,বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রি-কনফারেন্স ওয়ার্কশপ বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর কার্ডিওলজির নতুন যুগের সূচনা করেছে।

    মেডিকেল এআই ও কার্ডিয়াক এমআরআই-এর সমন্বয় হার্ট ফেলিউরের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, ঝুঁকি নির্ধারণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনতে পারে। তবে এই প্রযুক্তিকে নিয়মিত ক্লিনিক্যাল ব্যবহারে রূপ দিতে হলে বাংলাদেশকে অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
    সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব প্রযুক্তি দেশের কার্ডিওভাসকুলার চিকিৎসার মান এবং রোগীর চিকিৎসা-ফলাফল উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

  • সহকারী অধ্যাপক ডা. ফয়সল আমিন আহমেদ: স্পাইন চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

    সহকারী অধ্যাপক ডা. ফয়সল আমিন আহমেদ: স্পাইন চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

    উজ্জ্বল ভূঁইয়া,স্টাফ রিপোর্টের : ঢাকা: দেশের অর্থোপেডিক ও স্পাইন চিকিৎসা অঙ্গনে নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সহকারী অধ্যাপক ডা. ফয়সল আমিন আহমেদ। শিক্ষা, দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি ট্রমা, অর্থোপেডিক, আর্থোপ্লাস্টি ও স্পাইন চিকিৎসায় অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। রোগীবান্ধব মনোভাব, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ—সব মিলিয়ে তিনি চিকিৎসা জগতে প্রশংসিত একটি নাম।
    ডা:ফয়সল আমিন আহমেদ এমবিবিএস ও বিসিএস (স্বাস্থ্য) সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো থেকে এমআরসিপিএস এবং আমেরিকা থেকে এমএসিপি ডিগ্রি অর্জন করেন।

    পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) থেকে এমএস (অর্থোপেডিক সার্জারি) সম্পন্ন করে তিনি বিশেষায়িত দক্ষতায় নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর প্রশিক্ষণ ও সনদের তালিকায় রয়েছে,সুইজারল্যান্ড থেকে গ্লোবাল স্পাইন ডিপ্লোমা, আমেরিকা থেকে এফএসিএস ও এফআইসিএস, ভারত ও সুইজারল্যান্ডে এ.ও. স্পাইন ও এ.ও. ট্রমা বেসিক কোর্স, ভারত থেকে নি-অর্থোপেডিক (PKCS-APKCS) কোর্স, গঙ্গা হাসপাতাল থেকে বেসিক কোর্স অন আর্থোস্কপি, অ্যাডভান্সড কোর্স অন অর্থোপেডিক ও স্পোর্টস মেডিসিন এবং ফেলোশিপ ইন পেইন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড স্পাইন ইন্টারভেনশন।

    বর্তমানে তিনি ট্রমা, অর্থোপেডিক, আর্থোস্কপি, আর্থোপ্লাস্টি ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ও সার্জন হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় পঙ্গু হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকায় সহকারী অধ্যাপক ও কনসালট্যান্ট (এক্স) হিসেবে তাঁর কর্মজীবন রোগীসেবায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জটিল ভাঙন, জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট, স্পাইন সমস্যা ও ব্যথা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা প্রদান করে তিনি অসংখ্য রোগীর আস্থা অর্জন করেছেন।

    সহকর্মীদের মতে, ডা: ফয়সল আমিন আহমেদ কেবল দক্ষ সার্জনই নন—তিনি একজন মানবিক চিকিৎসক। রোগীর সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনা, স্বচ্ছভাবে চিকিৎসা পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করা এবং সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই তাঁর নীতি। নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনাতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।

    দেশ-বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগিয়ে ডা. ফয়সল আমিন আহমেদ প্রমাণ করেছেন,নিবেদন, দক্ষতা ও সততার সমন্বয়েই গড়ে ওঠে প্রকৃত চিকিৎসক। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা ও সেবামনোভাব ভবিষ্যতেও চিকিৎসা অঙ্গনে অনুপ্রেরণার আলো হয়ে থাকবে।

  • মাভাবিপ্রবিতে  আর্সেনিকজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার

    মাভাবিপ্রবিতে আর্সেনিকজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার

    মুহাম্মাদ তকীতাহমিদ, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি : মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশে আর্সেনিকজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত “Mechanistic Human Studies on the Effects of Arsenic on Cardiometabolic Diseases in Bangladesh” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল আজীম আখন্দ।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাপানের শোয়া মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, স্কুল অব ফার্মেসির ভিজিটিং প্রফেসর এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এনভায়রনমেন্টাল টক্সিকোলজি অ্যান্ড হিউম্যান হেলথ সায়েন্টিস্ট প্রফেসর ড. সেইইচিরো হিমেনো। তিনি আর্সেনিকের দীর্ঘমেয়াদি এক্সপোজারের ফলে মানবদেহে সৃষ্ট আণবিক ও যান্ত্রিক পরিবর্তন, বিশেষ করে হৃদরোগ, বিপাকীয় অসংগতি এবং এন্ডোথেলিয়াল ক্ষতির বৈজ্ঞানিক দিকসমূহ বিশদভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে আর্সেনিক দূষণের বর্তমান অবস্থা ও এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবু জুবাইর। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আছাদুজ্জামান শিকদার। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. খালেদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

    বক্তাগণ বলেন, আর্সেনিকজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক সেমিনার নীতিনির্ধারণ, জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ গবেষণার দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষকদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় দেশের বিজ্ঞানচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সেমিনার শেষে মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থী ও গবেষকরা আর্সেনিক দূষণ প্রতিরোধ, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

  • ভয়াবহ খাদ্যদূষণে দেশে স্বাস্থ্যঝুঁকি, জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    ভয়াবহ খাদ্যদূষণে দেশে স্বাস্থ্যঝুঁকি, জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    দেশে খাদ্যপণ্যে ভয়াবহ মাত্রায় দূষণ ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ভারী ধাতু, কীটনাশক, তেজস্ক্রিয়তা এবং জৈবদূষণ এই চার ধরনের দূষকে দেশের খাদ্যব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে ৬০ কোটি এবং বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি শিশু খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগে আক্রান্ত প্রতি তিন শিশুর একজনের মৃত্যু ঘটে।

    এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে গতকাল রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি খাদ্যদূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন।

    খাদ্যে সিসার উপস্থিতি ভয়াবহ মাত্রায়

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) জানায়, এ বছর পরীক্ষা করা ৮১৪টি খাদ্য নমুনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশে অতিরিক্ত সিসা বা সিসা ক্রোমেট পাওয়া গেছে। ১৮০টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে সিসা শনাক্ত হয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাড়ে ৩ কোটি শিশু সিসার সংক্রমণে আক্রান্ত। গর্ভবতী নারীদের ৫ শতাংশের দেহেও সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

    বিএফএসএ চেয়ারম্যান জানান, সিসা দেহে প্রবেশ করে মস্তিষ্ক, যকৃত্, কিডনি এবং হাড়ে জমা হয়। শিশুদের হাড় নরম থাকায় সিসা সহজেই মস্তিষ্কে গিয়ে মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে।

    অ্যান্টিবায়োটিক ও কীটনাশকের ভয়াবহ ব্যবহার

    বৈঠকে কৃষি কর্মকর্তারা জানান, অনেক পোলট্রি ফার্মে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে। মুরগিতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের অবশিষ্টাংশ ৭–২৮ দিন থাকে। কিন্তু ২৮ দিন অপেক্ষা না করে অনেকেই দ্রুত বাজারজাত করছে, ফলে মাংসের মাধ্যমে মানবদেহে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে।

    এক যৌথ গবেষণায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত পানির ৮৭টি নমুনা এবং ২৩ ধরনের মাছ পরীক্ষা করে ৩০০ ধরনের ওষুধ, ২০০ ধরনের কীটনাশক ও ১৬ ধরনের পিএফএএস (চিরস্থায়ী রাসায়নিক) পাওয়া গেছে।

    জরুরি নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
    “খাদ্যে বিভিন্ন দূষণের অস্তিত্ব আমরা জানি। আমাদের সন্তান ও পরিবারের কথা ভেবেই এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

    তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মন্ত্রণালয়কে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খাদ্যদূষণ মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে লিখিত প্রস্তাবনা দাখিলের নির্দেশ দেন।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা, মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বিএফএসএ, পরমাণু শক্তি কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

    অবৈধ পোলট্রি ফার্ম ও কৃষিতে বিষাক্ত কীটনাশন নিয়ে উদ্বেগ

    কর্মকর্তারা জানান, বড় প্রতিষ্ঠানে কিছুটা সতর্কতা থাকলেও অনেক চোরাগোপ্তা ফার্ম কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে বিপজ্জনকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ও কীটনাশক ব্যবহার করছে। মাছ, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যেও এর প্রভাব পড়ছে। কৃষিতে অবৈধ কীটনাশক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মত দেন কর্মকর্তারা।

    খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতার ওপর জোর

    খাদ্য উপদেষ্টা বলেন,
    “খাদ্য নিশ্চিত করতে গিয়ে তার নিরাপত্তার বিষয়টি অনেক সময় উপেক্ষিত হয়। গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আরও ভূমিকা রাখতে হবে।”

    তিনি পাঠ্যপুস্তকে খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক অধ্যায় যুক্ত করারও প্রস্তাব দেন।

    বৈঠকে প্রকাশিত তথ্য প্রমাণ করে, খাদ্যদূষণ এখন দেশের জন্য বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। শিশু ও পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে সিসা, কীটনাশক, অ্যান্টিবায়োটিক ও রাসায়নিক দূষণে। সরকারের জরুরি উদ্যোগই পারে এই সংকট মোকাবিলার পথ সুগম করতে।

  • গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫৬৫ জন

    গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫৬৫ জন

    দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম মঙ্গলবার দেওয়া এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, গত একদিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১২৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৮৮ জন এবং ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে ৯৫ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ৮২ জন, বরিশালে ৫১ জন, খুলনা বিভাগে ৪৩ জন, ময়মনসিংহে ৪৫ জন, রাজশাহীতে ৩০ জন, রংপুরে ৩ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন ভর্তি হয়েছেন।

    এ সময়ে সারা দেশে ৫৭৮ জন রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। চলতি বছর মোট ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ১৯৬ জনে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৫ হাজার ৫৭৭ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৮৬ জনের।

    এর আগে ২০২৪ সালে মোট এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। ২০২৩ সালে মৃত্যু হয়েছিল এক হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হয়েছিলেন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭০ হাজার ছাড়াল

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭০ হাজার ছাড়াল

    চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ভাইরাসটিতে কারও মৃত্যু হয়নি।

    শনিবার (১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বছর এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৫১৩ জনে। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৪৫৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    গত এক দিনে সর্বাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে বরিশাল বিভাগে ১২৯ জন, এরপর চট্টগ্রামে ৯৮ জন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ৩৫৭ জন, ময়মনসিংহে ২৯ জন, রাজশাহীতে ২২ জন, খুলনায় ১৩ জন এবং সিলেটে ৩ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৭৮ জনের। গত বছর (২০২৪) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।

  • রংপুরে অ্যানথ্রাক্স থামছেই না, টিকার বাইরে ৮৩% গবাদিপশু

    রংপুরে অ্যানথ্রাক্স থামছেই না, টিকার বাইরে ৮৩% গবাদিপশু

    রংপুরে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ থামছে না। তিন মাস পরও মাত্র ১৭ শতাংশ গরুকে অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়া হয়েছে। জেলায় এখনও ৮৩ শতাংশ গরু টিকার বাইরে রয়েছে, আর ছাগল ও ভেড়ার টিকা কার্যক্রম শুরু হয়নি।

    জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ প্রতিদিন ৮–১০ হাজার গরুকে টিকা দিচ্ছে। তারা বলছে, ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর ভ্যাকসিন শেষ হলে অ্যানথ্রাক্স টিকাদান শুরু হবে। তবে আক্রান্ত গবাদিপশুর শ্লেষ্মা, লালা, রক্ত, মাংস বা চামড়ার সংস্পর্শে মানুষও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

    জেলায় গরু ১৬ লাখ, ভেড়া ও ছাগল ১১ লাখ, মহিষ ৪০০। ২৬ আগস্ট থেকে টিকাদান শুরু হয়ে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০ মাত্রা প্রয়োগ করা হয়েছে। আগামী রোববার আরও এক লাখ মাত্রা আসার কথা রয়েছে।

    স্থানীয় স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, অসুস্থ গবাদিপশু জবাই করলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে চার উপজেলার ৩১ খামারির ১১৩ গবাদিপশুর মধ্যে ৫০টি আক্রান্ত হয়েছে; ১৯টি মারা গেছে, ৩০টি জবাই করা হয়েছে।

    খামারিরা অভিযোগ করছেন, জুলাই–আগস্টে শুধু পীরগাছায় শতাধিক গরু-ছাগল মারা গেছে। মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, যদিও চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
    প্রাণিসম্পদ ও স্বাস্থ্য বিভাগ জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উঠান বৈঠক, পথসভা, কসাইখানা পরিদর্শন এবং অসুস্থ গরু-ছাগল জবাই না করার পরামর্শ দিচ্ছে।

  • সারাদেশে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি শুরু

    সারাদেশে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি শুরু

    দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হলো জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে সারাদেশের ১০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে শুরু হয় এই টিকাদান কার্যক্রম। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই টিকা নিতে পারবে। আগামী ১০ দিন পর্যন্ত শুধুমাত্র স্কুলপড়ুয়া শিশুদের এই টিকার আওতায় আনা হবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সব শিশুকে এই ক্যাম্পেইনে টিকা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “টাইফয়েডে এখনও শিশুদের মৃত্যু হয়— এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। ডায়রিয়া ও রাতকানা রোগের মতো টাইফয়েডকেও আমরা প্রতিরোধ করতে চাই।” তিনি প্রত্যেক অভিভাবক ও শিক্ষককে আহ্বান জানান, যেন কোনো শিশুই এই টিকার বাইরে না থাকে।

    সকাল ৯টা ২০ মিনিটে রাজধানীর সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানায় একশ’র বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ও সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জন্মসনদ না থাকা শিশুরাও এই কর্মসূচির আওতায় আসবে, যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে।

    একই দিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার মোহাম্মদপুরের রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

    এটি দেশের ইতিহাসে প্রথম জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে এই টিকাটি, যা বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহযোগিতায়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশা করছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে টাইফয়েড প্রতিরোধে দেশে শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

  • ঘরে ঘরে জ্বর, হাসপাতালে রোগীর ঢল

    ঘরে ঘরে জ্বর, হাসপাতালে রোগীর ঢল

    নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসজনিত জ্বর। সেই সঙ্গে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে ধীরে ধীরে আক্রান্ত হচ্ছেন অন্য সদস্যরাও।

    জ্বরের পাশাপাশি শরীরে ব্যথা, সর্দি-কাশি, বমি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষ।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ৬৫০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই ভাইরাসজনিত জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও সাপে কাটা রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

    রবিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। হাসপাতালে কার্যকর শয্যা মাত্র ৩১টি থাকায় অনেকে মেঝে বা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। দশ মাসের শিশুকে নিয়ে আসা সাথী আক্তার বলেন, “তিন দিন ধরে বাচ্চার জ্বর-কাশি। ডাক্তার দেখানোর জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছি।”
    অন্যদিকে তিন বছরের ছেলে জুনায়েদকে নিয়ে ভর্তি হওয়া আফরোজা বেগম জানান, “গত রাত থেকে জ্বরে ভুগছে, বমি হচ্ছে, পাতলা পায়খানাও শুরু হয়েছে।”

    হাসপাতালে ভর্তি নাসিমা আক্তার বলেন, “প্রথমে জ্বর, পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাই ভর্তি হতে হলো।”

    ডা. রেজাউল করিম জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন ও বাতাসে আর্দ্রতার কারণে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। তিনি পরামর্শ দেন—শিশু ও বয়স্কদের আলাদা যত্ন নিতে হবে, শরীর ভিজে গেলে শুকনো করতে হবে, ঘরে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সূচনা মনোহরা বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে রোগীরা দ্রুত সেরে উঠবেন।”

    বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাইরাসজনিত জ্বর ও ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। নাটোরের বাগাতিপাড়ায়ও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে সচেতন থাকতে ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।