রংপুরে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ থামছে না। তিন মাস পরও মাত্র ১৭ শতাংশ গরুকে অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়া হয়েছে। জেলায় এখনও ৮৩ শতাংশ গরু টিকার বাইরে রয়েছে, আর ছাগল ও ভেড়ার টিকা কার্যক্রম শুরু হয়নি।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ প্রতিদিন ৮–১০ হাজার গরুকে টিকা দিচ্ছে। তারা বলছে, ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর ভ্যাকসিন শেষ হলে অ্যানথ্রাক্স টিকাদান শুরু হবে। তবে আক্রান্ত গবাদিপশুর শ্লেষ্মা, লালা, রক্ত, মাংস বা চামড়ার সংস্পর্শে মানুষও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জেলায় গরু ১৬ লাখ, ভেড়া ও ছাগল ১১ লাখ, মহিষ ৪০০। ২৬ আগস্ট থেকে টিকাদান শুরু হয়ে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০ মাত্রা প্রয়োগ করা হয়েছে। আগামী রোববার আরও এক লাখ মাত্রা আসার কথা রয়েছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, অসুস্থ গবাদিপশু জবাই করলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে চার উপজেলার ৩১ খামারির ১১৩ গবাদিপশুর মধ্যে ৫০টি আক্রান্ত হয়েছে; ১৯টি মারা গেছে, ৩০টি জবাই করা হয়েছে।
খামারিরা অভিযোগ করছেন, জুলাই–আগস্টে শুধু পীরগাছায় শতাধিক গরু-ছাগল মারা গেছে। মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, যদিও চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
প্রাণিসম্পদ ও স্বাস্থ্য বিভাগ জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উঠান বৈঠক, পথসভা, কসাইখানা পরিদর্শন এবং অসুস্থ গরু-ছাগল জবাই না করার পরামর্শ দিচ্ছে।