Category: ফিচার

  • রূপগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পাতিল দৌড় প্রতিযোগিতা, হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস

    রূপগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পাতিল দৌড় প্রতিযোগিতা, হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস

    নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও বিনোদনের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা পাতিল দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার কেরাব গ্রামে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিযোগীরা অংশ নেন। জমজমাট এই আয়োজনে শত শত দর্শকের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। গ্রামীণ পরিবেশে এই খেলাটি উপভোগ করতে বিভিন্ন স্থান থেকে নারী-পুরুষরা ভিড় জমায় । সুন্দর ও সুশৃংখল পরিবেশে খেলাটি পরিচালনা করা হয়। হারিয়ে যাওয়া এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী খেলার আয়োজনের জন্য আয়োজকদের সাধুবাদ জানান উপস্থিত দর্শনার্থীরা।

    একসময় বর্ষার মৌসুম আসলেই রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠতো বাতিল ও নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ধরনের খেলা। এখন শিল্পকলা কারখানা, নগরায়নসহ বিভিন্ন হাউজিং প্রকল্পের কারণে পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। যার ফলে এখন আর সেই ঐতিহ্যবাহী খেলা গুলো বিলুপ্তির পথে।

    পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখার লক্ষে শনিবার বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাব গ্রামে স্থানীয় যুবদলের উদ্যোগে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত পাতিল দৌড় প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে খেলোয়াররা এসে টিকিট কেটে নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। গ্রামীণ ক্রীড়ার এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন দেখতে সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন।
    প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ব্যবসায়ী দেওয়ান আশরাফুল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাঞ্চন পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মফিকুল ইসলাম।

    প্রতিযোগিতায় মোট নয ৯জন প্রতিযোগী অংশ নেন। নির্ধারিত নিয়মে একাধিক ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন দিঘুলিয়া গ্রামের সোলমান মিয়া। চূড়ান্ত পর্বে তার দক্ষতা দর্শকদের ব্যাপক ভাবে মুগ্ধ করে। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন কেরাবো গ্রামের নুরুল হক ও তৃতীয় স্থান কলাতলী গ্রামের আলামিন ।

    প্রথম পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ২১ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন। দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল একটি মোবাইল ফোন এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি ঘড়ি। প্রথম স্থান অধিকার করায় বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন দিঘুলিয়া গ্রামের দর্শকরা।

    খেলা দেখতে আসা দর্শকরা জানান, পাতিল দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, পাতিল দৌড় খেলাটি একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানিরা পুকুর নালা বালু ভরাট করে ফেলেছে। ছোট ছোট পুকুর গুলোতে এখন খেলা হচ্ছে। এই খেলা দেখতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষের আগমন ঘটেছে। খুবই উৎসব মুখুর পরিবেশে সবাই খেলা উপভোগ করছে। এই খেলাটি যেন টিকিয়ে রাখা যায় সেই দাবি সকলের।

    ব্যবসায়ী দেওয়ান আশরাফুল জানান, আমাদের এলাকার যুবকদেরকে মাদক থেকে দূরে রাখার জন্য আমরা এই পাতিল দৌড় খেলার পাশাপাশি ক্রিকেট, ফুটবল, হাডুডু টুর্নামেন্ট খেলার আয়োজন করে থাকি। এতে  সকল দর্শকরা আনন্দ পায়। আমরা এই খেলা ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাবো।

    কাঞ্চন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিকুল ইসলাম খান জানান, এই ঐতিহ্যবাহী খেলা গুলো আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে। আমাদের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু তিনি সকলকে আশ্বস্ত করছেন মাদক থেকে দূরে গিয়ে খেলাধুলার করতে এবং উৎস দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন নেতাকর্মীদেরও নির্দেশ দিয়ে থাকেন খেলাধুলার ব্যাপারে মনোযোগী হওয়ার জন্য।

  • হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের মাটির ঘর

    হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের মাটির ঘর

    নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :

    একসময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই দেখা মিলত মাটির ঘরের। চারপাশে সবুজ গাছপালা আর মাঝখানে সারি সারি মাটির ঘর—এ দৃশ্যই ছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ। সময়ের পরিবর্তনে ইট, সিমেন্ট ও কংক্রিটের দালানের ভিড়ে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ প্রাকৃতিকভাবে শীতল পরিবেশ, কম নির্মাণ ব্যয় এবং পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যের কারণে একসময় গ্রামবাসী মাটির ঘরকে আদর করে ডাকতেন ‘গরিবের এসি’।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রূপগঞ্জে এখনো প্রায় দুই শতাধিক মাটির ঘর টিকে আছে। তবে নতুন করে আর খুব একটা নির্মাণ হচ্ছে না। ফলে শত বছরের এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।

    মাটির ঘর নির্মাণে সাধারণত এঁটেল বা দো-আঁশ মাটি ব্যবহার করা হয়। মাটির সঙ্গে খড়, ধানের তুষ কিংবা পাটের আঁশ মিশিয়ে তা আরও শক্ত করা হয়। এরপর স্তরে স্তরে দেয়াল গেঁথে নির্মাণ করা হয় পুরো ঘর। প্রতিটি স্তর শুকাতে সময় লাগে প্রায় এক মাস। এভাবে ধাপে ধাপে একটি ঘর নির্মাণে ছয় থেকে সাত মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। তবে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে এমন ঘর ৫০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।

    মাটির ঘরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা। দিনের গরম ধীরে ধীরে শোষণ করে রাতের দিকে তা ছেড়ে দেয় মাটির দেয়াল। ফলে গ্রীষ্মে ঘরের ভেতর থাকে শীতল, আবার শীতকালে বাইরের ঠান্ডা সহজে প্রবেশ করতে পারে না। এই কারণেই গ্রামবাংলার মানুষ একে ‘গরিবের এসি’ হিসেবে চিনতেন।

    কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রা, ইট-পাথরের দালানের প্রতি মানুষের ঝোঁক, দক্ষ কারিগরের সংকট এবং অতিবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কারণে মাটির ঘরের নির্মাণ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

    স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “মাটি হচ্ছে খাঁটি। আগে আমাদের মাটির ঘর ছিল। গরমের দিনে পাখা ছাড়াই আরাম লাগত। এখন ছেলেরা দালান করেছে, কিন্তু ছাদে এত গরম লাগে যে সেই আরাম আর পাই না। এখনো কেউ বাড়িতে এলে আমি মাটির ঘরের গল্প করি।”

    তিনি জানান, নতুন প্রজন্মকে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে রূপগঞ্জের সি-শেল পার্কে দুটি মাটির ঘর সংরক্ষণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা সেখানে গিয়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী আবাসন সম্পর্কে জানতে পারেন।

    মাটির ঘর নির্মাণের কারিগরদের একজন জানান, “আগে এই কাজ করেই সংসার চলত। এখন কাজ নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে মুদির দোকান করেছি। একটি মাটির ঘর করতে ছয়-সাত মাস সময় লাগে। লাল মাটি, তুষ আর কাদা মিশিয়ে ধাপে ধাপে দেয়াল তুলতে হয়। গরমে ঠান্ডা আর শীতে গরম থাকে বলে এই ঘর মানুষের শরীরের জন্যও ভালো।”

    পরিবেশবিদ মীর আব্দুল আলীম বলেন, “মাটির ঘরের কথা মনে হলেই শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে। একসময় বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামেই অসংখ্য মাটির ঘর ছিল। এগুলো শুধু বসতবাড়ি নয়, আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। বিভিন্ন পার্ক ও উন্মুক্ত জাদুঘরে মাটির ঘর সংরক্ষণ করে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা উচিত।”

    রূপগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিব জুবায়ের নাদিম বলেন, “মাটির ঘরের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর প্রাকৃতিক ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা। এতে ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে। গরমে ঠান্ডা এবং শীতে উষ্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। মানুষের সুস্থ থাকার জন্য তাপমাত্রার ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া প্রকৃতির কাছাকাছি বসবাস মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।”

    স্থানীয়দের মতে, মাটির ঘর কেবল একটি বসতবাড়ি নয়; এটি বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য, পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতীক। তাই এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর সংরক্ষণ, কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে মাটির ঘরের প্রদর্শন বাড়ানো গেলে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে।

  • ভারী বর্ষণে বন্যা-জলাবদ্ধতা: পরিকল্পনাহীন উন্নয়নই দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে

    ভারী বর্ষণে বন্যা-জলাবদ্ধতা: পরিকল্পনাহীন উন্নয়নই দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে

    বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই সড়ক তলিয়ে গিয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে বন্যায় ফসল, বসতবাড়ি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    গবেষক ও সাবেক অধ্যক্ষ ড. মো. ফোরকান আলী এক নিবন্ধে বলেন, এ সংকট কেবল প্রাকৃতিক নয়; অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-জলাশয় ভরাট, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাও জলাবদ্ধতা ও বন্যার তীব্রতা বাড়াচ্ছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান অবকাঠামো বাড়তি চাপ সামলাতে পারছে না। ফলে শহরে জলাবদ্ধতা এবং গ্রামাঞ্চলে বন্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

    নিবন্ধে বলা হয়, আকস্মিক বন্যায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট, পানিবাহিত রোগের বিস্তার এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় লেখক বাস্তবসম্মত নগর পরিকল্পনা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল-নদী পুনরুদ্ধার, জলাভূমি সংরক্ষণ, আগাম বন্যা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি করপোরেশন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু সহনশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাহলেই বর্ষার বৃষ্টি দুর্ভোগ নয়, দেশের জন্য সমৃদ্ধির বার্তা বয়ে আনতে সক্ষম হবে।

  • সোনারগাঁওয়ের লিটল ম্যাগাজিন কিনতু’র এক যুগ, বর্ষা সংখ্যা প্রকাশ

    সোনারগাঁওয়ের লিটল ম্যাগাজিন কিনতু’র এক যুগ, বর্ষা সংখ্যা প্রকাশ

     

    সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় লিটল ম্যাগাজিন কিনতু এর প্রকাশনার এক যুগ হলো। এ বছরের জুলাই মাসে এর এক যুগ পূর্ন হয়েছে। গত ২০১৪ সালের জুলাই মাসে কিনতু’র যাত্রা শুরু করে প্রথম সংখ্যা বের হয়। এক যুগ পূর্তীতে কিনতুর বিশেষ আয়োজন ‘বর্ষা সংখ্যা’ প্রকাশ হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ) কিনতুর বর্ষা সংখ্যা প্রকাশ প্রায়।

    সোনারগাঁওয়ের লেখক ও সাংবাদিক হাসান মাহমুদ রিপন এর সম্পাদনায় কিনতু এক যুগ ধরে সুনামের সাথে প্রকাশ হচ্ছে। প্রতিটি সংখ্যাই যেন বিশেষ বিশেষ আয়োজন ছিল। কিনতু’র বর্ষা সংখ্যায় লিখেছেন সোনারগাঁওয়ে গুণীজন খ্যাতিমান, প্রবীন তরুণ লেখক, কবি, সাংবাদিকরা। লিখেছেন কাব্য গল্প, ছড়া কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ। এবারের বর্ষা সংখ্যাটি কিনতু’র ২৫ তম সংখ্যা।

    কবি রহমান মজিব বলেন, কিনতু দেখতে দেখতে এক যুগ হয়ে গেল। কিনতুর জন্য অনেক শুভ কামনা। কবি সাহিত্যিতদের পদচারনায় প্রতিটি কিনতু সমৃদ্ধ হয়ে উঠে। বরাবরের মতোই কিনতু লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার মানসিক চাহিদা পূরন করছে এবং আগামীর দিনগুলোতে করবে-এই প্রত্যাশা করি। কিনতু’এর এ চলামান প্রকাশের ধারা অব্যাহত থেকে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক সাহিত্যাঙ্গনে ভূমিকা রাখবে।

    কিনতু’র সম্পাদক লেখক ও সাংবাদিক হাসান মাহমুদ রিপন জানান, সোনারগাঁওয়ে কবি সাহিত্যিকদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় কিনতু এ অগ্রযাত্রা। সাহিত্যের ইতিহাসের ক্রমবর্ধমান ধারায় ‘লিটল ম্যাগাজিনে’র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই গত ২০১৪ সাল থেকে এ কিনতু প্রকাশ করে আসছি। লিটল ম্যাগাজিনকে সাধারণত সাহিত্যের এমন একটি মাধ্যম হিসেবে ধরা হয় যেখানে ব্যতিক্রমধর্মী চিন্তাধারা ও অকুতোভয় মতামতের ছোঁয়া পাওয়া যায়। আমি চেষ্টা করছি কিনতুর মাধ্যমে এ ধরনের কিছু কাজ করার। জানি না কতটুকু করতে পারছি। তবে এটা বলবো সোনারগাঁওয়ে প্রতিটি লেখক সাংবাদিক এবং বিজ্ঞাপনদাতারা কিনতুর অনুপ্রেরণা। কিনতুর জন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।

  • বন্দী হাতিদের বনে ফিরিয়ে দেবে বাংলাদেশ

    বন্দী হাতিদের বনে ফিরিয়ে দেবে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ সরকার বহু বছর ধরে বন্দিদশায় থাকা হাতিদের বনে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। মংগাবে এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দী হাতিদের বর্তমান মালিকদের কাছ থেকে ফিরিয়ে এনে বনাঞ্চলে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৬৮টি বন্য হাতি আছে, যাদের আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ‘অতিমাত্রায় বিপন্ন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এসব হাতি মূলত চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস ও কক্সবাজারের বনাঞ্চলে বাস করে।

    এ ছাড়া দেশে আরও ৯৬টি হাতি বন্দিদশায় রয়েছে, এর মধ্যে ১৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং ৮২টি ব্যক্তিমালিকানায়। আগে কাঠ টানা, মাল পরিবহন ও সার্কাসে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে অনেক হাতিকে অবৈধভাবে চাঁদা তোলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সায়েদা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, “হাতির প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রথমে তাদের একটি নির্দিষ্ট বনে রাখা হবে, তারপর দেখা হবে তারা বনে মানিয়ে নিতে পারে কি না। ফলাফল যাই হোক, আর কোনো হাতিকে বন্দী রাখা হবে না।”

  • আজ বিশ্ব গন্ডার দিবস

    আজ বিশ্ব গন্ডার দিবস

    আজ ২২ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব গন্ডার দিবস। ২০১০ সালে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড সাউথ আফ্রিকা দিনটিকে বিশ্ব গন্ডার দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতিবছরই এদিন বিশ্বব্যাপী নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

    এখানে গন্ডার সম্পর্কে আমাদের সেরা 10টি তথ্য রয়েছে | WWF

    বিভিন্ন দেশের সরকার, এনজিও, চিড়িয়াখানা ও সাধারণ মানুষ মিলে এই দিনটি পালন করে। বিশ্বব্যাপী গন্ডার শিকার রোধ ও গন্ডারের বাসভূমি সংরক্ষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশে এই দিবস পালন করা হয়।

    সব বন্য প্রাণীর মধ্যে গন্ডার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। বিপন্ন প্রজাতির গন্ডার বাঁচানোর জন্য এই দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশ্ব গন্ডার দিবস আজ

    বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মোট ৫ ধরনের গন্ডার দেখা যায়। এর মধ্যে আফ্রিকায় পাওয়া যায় সাদা ও কালো গন্ডার, আর এশিয়ায় একশৃঙ্গ, জাভা ও সুমাত্রার গন্ডার। এরা চোরাকারবারি, বন ধ্বংস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে।

    গন্ডার বাঁচানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই দিনটি একেকটি দেশে একেক রকমভাবে পালিত হয়। যেমন— নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, বিতর্ক সভার আয়োজন, স্কুল কলেজের ছাত্রদের এ ব্যাপারে জানানো, চিত্র প্রদর্শনী এবং স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা, পোস্টার বিলি ইত্যাদি।

    প্রাকৃতিক বিপর্যয়, চোরাকারবারি, বন ধ্বংসসহ নানা কারণে গন্ডার এখন বিলুপ্তির পথে। এদের যদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হয়, তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে গন্ডার প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই তাদের সংরক্ষণ করার জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিশ্ব গন্ডার দিবস পালিত হয়।

     

  • আজ বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু হচ্ছে

    আজ বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু হচ্ছে

    বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২৫ শুরু হচ্ছে সোমবার। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৪০টি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় ৬ শতাধিক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী অংশ নেবেন।

    রোববার ঢাকার বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওই বিনিয়োগ সম্মেলনে কী কী ইভেন্ট থাকছে তা তুলে ধরেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

    তিনি জানান, প্রথম দিন দুটি ট্র্যাকে অনুষ্ঠানটি হবে। প্রথম ট্র্যাকে ৬০ জনের বেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীকে নিয়ে একটি স্পেশাল ফ্লাইট চট্টগ্রাম যাবে। সেখান থেকে কোরিয়ান ইপিজেড ও মিরসরাইতে স্পেশাল ইকোনমিক জোন পরিদর্শন শেষে রাতে ফিরে আসবেন তারা।

    বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, “সেখানে যেসব উদ্যোক্তা যাচ্ছেন তারা মনে করছেন সেখানে একটি কারখানা স্থাপন করতে হবে, সেজন্য তাদের জায়গা জমি লাগবে। আমরা তাদের কী ধরনের সাপোর্ট সিস্টেম তৈরি করতে পারি তা তারা সরেজমিন দেখবেন।”

    এছাড়া সোমবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে স্টার্টআপ কানেক্ট নামে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানসূচি রয়েছে। সেখানে যেসব আরলি স্টেজ স্টার্টআপ এবং ভেঞ্চার বিনিয়োগকারী আসছেন তাদের মধ্যে ম্যাচ মেকিং ইভেন্ট, নেটওয়ার্কিং ও প্যানেল হবে।

    সারাদিন স্টার্টআপ ইভেন্টকে ফোকাস করা হবে। চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, ৮ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালের দিকে বিনিয়োগকারীরা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি ইকোনমিক জোন সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। তারা সেখানের কারখানার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে কী ধরনের কর্মকাণ্ড হচ্ছে তা বুঝে তাদের বিনিয়োগের জন্য কতটুকু সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তা দেখবেন।

    দ্বিতীয় ধাপে বিশ্বব্যাংক ও আইএলওর সঙ্গে কিছু এনগেইজমেন্ট আছে। তাদের এফডিআই সম্পর্কিত কিছু ব্যাপারে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিনিয়োগের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ৯ এপ্রিল বুধবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়া সারাদিনই একাধিক (৩-৪টা) প্যারালাল অনুষ্ঠান চলবে।

  • এবার মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

    এবার মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

    দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রতীক ও মুক্ত চিন্তার প্রতিচ্ছবি হিসেবে পরিচিত আবরার ফাহাদকে নিজ ক্যাম্পাসে পিটিয়ে হত্যা করে পতিত সরকারের ছাত্র সংগঠনের কিছু সদস্য।

    আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবরার ফাহাদের স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তিসহ তার আত্মত্যাগকে স্বরণ করে একটি পোস্ট দেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    তিনি পোস্টে লেখেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসিকতার প্রতীক, মুক্ত চিন্তার এক প্রতিচ্ছবি—আবরার ফাহাদ। মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক ২০২৫-এ ভূষিত হওয়া তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। তার আদর্শ আমাদের আলোকিত করে, ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেয়। জাতি তোমাকে ভুলবে না, আবরার!’

    উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার নির্মম মৃত্যু সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা হয় তাকে।

     

  • মারা গেলেন পরীমণির প্রথম সিনেমার পরিচালক

    মারা গেলেন পরীমণির প্রথম সিনেমার পরিচালক

    এবার মারা গেলেন পরীমণির প্রথম সিনেমার পরিচালক পরিচালক শাহ আলম মণ্ডল। শনিবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে খবরটি জানিয়েছেন পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক।

    মানিক নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। প্রিয় শাহ আলম মণ্ডল ভাই আর নেই। খুব কাছের মানুষ ছিলেন। দেখা হলেই দারুণ আড্ডা জমত আমাদের। আর আড্ডা হবে না, আর কথা হবে না। ভাবতেই চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। বড় অসময়ে চলে গেলেন শাহ আলম ভাই। চলে গেলেও আপনি থেকে যাবেন আপনার সৃষ্টিতে, আমাদের অন্তরে। মহান মালিক আপনার আত্মাকে শান্তি প্রদান করুন।’

    জানা গেছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহ আলম। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে। এরপর অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। পরে ৫ হাসপাতাল ঘুরে শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ভর্তি করা হয় গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আজ শনিবার ভোরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। তবুও শেষ রক্ষা হলো না।

    পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের সহকারী ছিলেন শাহ আলম মণ্ডল। এরপর সহকারী হিসেবে কাজ করেন বদিউল আলম এবং এফআই মানিকের সঙ্গেও।

    এবার মারা গেলেন পরীমণির প্রথম সিনেমার পরিচালক
    বিচ্ছেদের যন্ত্রণা নিয়ে পরীমণির স্ট্যাটাস
    শাহ আলমের হাত ধরে সিনেমায় আসেন পরীমণি। এই পরিচালক তাকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘ভালোবাসা সীমাহীন’। তার নির্মিত অন্য ছবিগুলো হচ্ছে ‘আপন মানুষ’, ‘ডনগিরি’ এবং ‘লকডাউন লাভ স্টোরি’।

    এর আগে, গতকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা মহাসড়কের শিবচরের পাচ্চর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান পরীমণির প্রথম স্বামী ইসমাইল হোসেন জমাদ্দার।

    এক পোস্টে পরীমণি লেখেন, ‘নিয়তির ডাকে দিলে যে সাড়া ফেলে গেলে শুধু নীরবতা। যার চলে যায় সেই বোঝে হায় বিচ্ছেদের কী যন্ত্রণা!’

    হঠাৎ পরীমণির এমন স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় ভক্তরা এর কারণ খুঁজে পাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন প্রথম স্বামীর মৃত্যুর খবরে এই স্ট্যাটাস দিয়েছেন পরী।

    আবার অনেকেই পরীমণির নানা শামসুল হক গাজীর মৃত্যুর সঙ্গে এই স্ট্যাটাসের যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন। কারণ এক বছর আগে ঠিক এইদিনেই নানা শামসুল হক গাজীকে হারিয়েছেন তিনি।

    আর এরই মধ্যে পরীমণির প্রথম পরিচালক চলে গেলেন।

  • পণ্যের মূল্য বাড়ার জন্য দায়ী যে বাজার ব্যবস্থা

    পণ্যের মূল্য বাড়ার জন্য দায়ী যে বাজার ব্যবস্থা

    অদক্ষ বাজার ব্যবস্থা পণ্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এ ছাড়া পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, বাজার আধিপত্য প্রভৃতি কারণে স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। কৃত্রিম সংকট, ঋণপত্র খোলায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, টাকার মূল্যমান হ্রাস, সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থায় অদক্ষতা প্রভৃতি বিষয় পণ্যমূল্য ওঠানামায় ভূমিকা রাখছে।

     

    নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদকের ভূমিকাই প্রধান। মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফার হার তুলনামূলক কম। দেশে উৎপাদিত ১৬টি পণ্যের মধ্যে ১৩টিরই উৎপাদন খরচের তুলনায় খুচরা পর্যায়ে যেতে দাম দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। চাল, পেঁয়াজ, আদা, আলু, লবণ, মরিচসহ এসব পণ্যে ১০২ থেকে ৮৩০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। উৎপাদকরা ৪৪ থেকে ৪৮০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা করেছেন।

    ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সম্প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে এক জরিপে এমন তথ্য পেয়েছে। জরিপের ফল পর্যালোচনায় ঢাকা চেম্বার গতকাল ‘খাদ্য মূল্যস্ফীতি; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নির্ধারণে গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে।

    গত ২০ থেকে ২৯ আগস্ট দেশের আটটি বিভাগের ৪৯টি জেলায় জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে ৬০০ জনের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী রয়েছেন। মোট ২১টি খাদ্যপণ্যের ওপর তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

    জরিপে দেখা যায়, পণ্যের চাহিদা, উৎপাদন, জোগান এবং আমদানির সমন্বয়হীনতার কারণেও অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের দাম বাড়ছে। অদক্ষ বাজার ব্যবস্থা, তথ্যের অসামঞ্জস্য, স্থানীয়ভাবে পণ্য উৎপাদন হ্রাস, সার, বীজ, তেল ও কীটনাশকের উচ্চমূল্য এবং জেলাভিত্তিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমও এ ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

    ঢাকা চেম্বারে এ বিষয়ে অনুষ্ঠানে চেম্বারের সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়লেও উৎপাদকরা ন্যায্য মূল্য পান না। কখনও কখনও দাম বাড়ানোর জন্য পরোক্ষ খরচ জড়িত হয়। স্টোরেজ, পরিবহন এবং পণ্য প্রক্রিয়াকরণ পর্যায়ে খরচ কমাতে পারলে দাম তুলনামূলকভাবে কমে। ঢাকা চেম্বারের নির্বাহী সচিব (গবেষণা) একেএম আসাদুজ্জান পাটোয়ারী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

    নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ড. সায়েরা ইউনুস বলেন, শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে পণ্যের দাম কমানো সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারকে প্রান্তিক পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৯বার নীতি সুদহার পরিবর্তন করলেও বাজারে এর প্রভাব তেমন উল্লেখজনক নয়।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড সাপোর্ট মেজারস উইংয়ের যুগ্ম সচিব ড. সাইফ উদ্দিন আহম্মদ আমদানি খরচ কমানো, বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধা বাড়ানো, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা বাড়ানো প্রভৃতির ওপর জোর দেন।