বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই সড়ক তলিয়ে গিয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে বন্যায় ফসল, বসতবাড়ি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গবেষক ও সাবেক অধ্যক্ষ ড. মো. ফোরকান আলী এক নিবন্ধে বলেন, এ সংকট কেবল প্রাকৃতিক নয়; অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-জলাশয় ভরাট, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাও জলাবদ্ধতা ও বন্যার তীব্রতা বাড়াচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান অবকাঠামো বাড়তি চাপ সামলাতে পারছে না। ফলে শহরে জলাবদ্ধতা এবং গ্রামাঞ্চলে বন্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
নিবন্ধে বলা হয়, আকস্মিক বন্যায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট, পানিবাহিত রোগের বিস্তার এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় লেখক বাস্তবসম্মত নগর পরিকল্পনা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল-নদী পুনরুদ্ধার, জলাভূমি সংরক্ষণ, আগাম বন্যা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি করপোরেশন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু সহনশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাহলেই বর্ষার বৃষ্টি দুর্ভোগ নয়, দেশের জন্য সমৃদ্ধির বার্তা বয়ে আনতে সক্ষম হবে।