Category: ফুটবল

  • ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া, এবার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড

    ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া, এবার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড

    বিশ্বকাপ ফুটবলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জন আরিয়াসের একমাত্র গোলেই জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

    শুক্রবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই সংগঠিত ফুটবল উপহার দেয় নেস্টর লরেঞ্জোর শিষ্যরা। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে জন আরিয়াসের গোলে এগিয়ে যায় কলম্বিয়া, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়।

    তবে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় কলম্বিয়া। অষ্টম মিনিটে ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে হয় স্ট্রাইকার জন কর্ডোবাকে। তার পরিবর্তে নামা লুইস সুয়ারেজই আক্রমণে নতুন গতি এনে দেন। তার নিখুঁত ক্রস থেকেই গোল করেন আরিয়াস।

    প্রথমার্ধে লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য ধরে রাখে কলম্বিয়া। লুইস দিয়াজ একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। শেষদিকে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি-জিগি দুর্দান্ত সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি।

    অন্যদিকে ঘানার আক্রমণভাগ কলম্বিয়ার সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচজুড়ে কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে না পারায় হতাশা নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে আফ্রিকার দলটিকে।

    ম্যাচ শেষে কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার গুস্তাভো পুয়ের্তা বলেন, এই জয় দলের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত। প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করছে দল।

    অন্যদিকে ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ স্বীকার করেন, পুরো ম্যাচেই কলম্বিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল এবং তারাই যোগ্য দল হিসেবে জয় পেয়েছে।

    এই জয়ের ফলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ের পর দক্ষিণ আমেরিকার চতুর্থ দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল কলম্বিয়া। আগামী মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুভারে শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লস ক্যাফেতেরোসরা।

  • কেপ ভার্দের লড়াকু ফুটবলে মুগ্ধ নেটিজেনরা, প্রশংসায় ভাসছে ফেসবুক

    কেপ ভার্দের লড়াকু ফুটবলে মুগ্ধ নেটিজেনরা, প্রশংসায় ভাসছে ফেসবুক

    বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় জয় করেছে কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও দলটির সাহসী পারফরম্যান্স এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

    প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলেছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাদের লড়াকু মানসিকতা ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।

    ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেপ ভার্দেকে নিয়ে প্রশংসার ঢল নামে। অনেকেই দলটির নির্ভীক ফুটবল, গোলরক্ষকের অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    নেটিজেন নকিব মুকশি লিখেছেন, “কী ফাইটটাই না দিল কেপ ভার্দে! আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে এমন লড়াই আজীবন মনে থাকবে।”

    খাইরুল বাশার মন্তব্য করেন, “আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও কেপ ভার্দের জন্য মন থেকে শুভকামনা। তাদের এই পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”

    হাস্যরসের ছলে তাহমিনা শিল্পী লিখেছেন, “আর্জেন্টিনা জিতেছে ঠিকই, কিন্তু কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার খেলায় আমি মুগ্ধ।”

    টিএম ইমরান তারেক লিখেছেন, “কেপ ভার্দে কাঁদিয়ে দিয়েছে। অভিনন্দন মেসিবাহিনী, তবে কেপ ভার্দেও সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছে।”

    অন্যদিকে জাহিদ হাসান লিখেছেন, “শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ! ভোজিনিয়ার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ।” শাম্মি তুলতুলের ভাষায়, “আজ আর্জেন্টিনাকে সত্যিই কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল কেপ ভার্দে।”

    ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল যাই হোক না কেন, বড় দলের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। দলটির এই পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতা এবং দারুণ পারফরম্যান্স ইতোমধ্যেই কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

  • কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার একাদশে তিন পজিশনে ধোঁয়াশা

    কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার একাদশে তিন পজিশনে ধোঁয়াশা

    ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সুখকর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। মূল একাদশের তিনটি পজিশন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তিনি।

    সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আক্রমণভাগে। অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে স্ট্রাইকার হিসেবে শুরু করবেন লাউতারো মার্তিনেজ, নাকি হুলিয়ান আলভারেজ—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। অনুশীলনে দুজনকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন স্কালোনি।

    রক্ষণভাগেও রয়েছে সুখবর। ইনজুরি কাটিয়ে ক্রিস্টিয়ান “কুটি” রোমেরো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন। তিনি ফিট থাকলে নিকোলাস ওতামেন্দির পরিবর্তে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে সেন্টার-ব্যাক জুটি গড়বেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

    লেফট-ব্যাক পজিশনেও চলছে তুমুল লড়াই। ইনজুরির কারণে সুযোগ পাওয়া ফাকুন্দো মেদিনা গ্রুপ পর্বে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন। অন্যদিকে অভিজ্ঞ নিকোলাস তাগলিয়াফিকোও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে দলে ফিরেছেন। ফলে এই পজিশনেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকতে পারে।

    মঙ্গলবারের রুদ্ধদ্বার অনুশীলনে স্কালোনি ১৩ জন খেলোয়াড়কে বিশেষ ট্রেনিং বিব পরিয়ে বিভিন্ন সমন্বয় পরীক্ষা করেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, কৌশলগত পরিকল্পনা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখতে চাইছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    সবকিছু ঠিক থাকলে গোলবারে থাকবেন এমিলিয়ানো “দিবু” মার্তিনেজ। রক্ষণে নাহুয়েল মোলিনা, রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং তাগলিয়াফিকো বা মেদিনা। মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আক্রমণে মেসির সঙ্গে থাকবেন থিয়াগো আলমাদা এবং লাউতারো মার্তিনেজ অথবা হুলিয়ান আলভারেজ।

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয় দিয়ে নকআউট অভিযান শুরু করতে চায় আর্জেন্টিনা। আর সেই লক্ষ্যেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিপক্ষের কাছে নিজেদের পরিকল্পনা গোপন রাখছেন স্কালোনি।

  • রেকর্ডের রাজা রোনালদো, তবু বিশ্বকাপ নকআউটে এখনো গোলশূন্য!

    রেকর্ডের রাজা রোনালদো, তবু বিশ্বকাপ নকআউটে এখনো গোলশূন্য!

    ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখনো গোলের দেখা পাননি। শুক্রবার ভোরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের শেষ-৩২ ম্যাচে মাঠে নামার আগে এই পরিসংখ্যানই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

    ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর থেকে শেষ ষোল, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল মিলিয়ে আটটি নকআউট ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। এই সময়ে ৬৫০ মিনিটের বেশি মাঠে থাকলেও জালের দেখা পাননি তিনি। অথচ ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তার ক্যারিয়ারে গোলসংখ্যা ৯৭৫-এর কাছাকাছি।

    চলতি বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দারুণ প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও কলম্বিয়ার বিপক্ষে ছিলেন নিষ্প্রভ। ফলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি রোনালদোর জন্য কেবল শেষ-৩২-এর লড়াই নয়, বিশ্বকাপের নকআউট গোলখরা কাটানোরও বড় সুযোগ।

  • কেইনের জোড়া গোলে নাটকীয় জয়, শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড

    কেইনের জোড়া গোলে নাটকীয় জয়, শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় থাকা ইংল্যান্ডকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প উপহার দিলেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে থ্রি লায়ন্সকে তুলে দিলেন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে। একই সঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন কোচ টমাস টুখেলও।

    যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতেই চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে এগিয়ে যায় ডিআর কঙ্গো। গোল হজমের পর পুরো প্রথমার্ধে ছন্দহীন ফুটবল খেলতে থাকে ইংলিশরা। মাঝমাঠে আধিপত্য হারিয়ে একাধিক ভুলে তারা ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকেই যাচ্ছিল।

    দ্বিতীয়ার্ধেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখা না গেলেও শেষ মুহূর্তে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৮৪তম মিনিটে ডেক্লান রাইসের ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো বল দারুণ হেডে জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান হ্যারি কেইন।

    সমতায় ফেরার মাত্র এক মিনিট পর আবারও আঘাত হানেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। গর্ডনের পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল নিয়ন্ত্রণ করে ডান পায়ের নিখুঁত শটে জয়সূচক গোল করেন তিনি। কেইনের এই জোড়া গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

    এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা। পরবর্তী পর্বে তারা স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে। তবে জয় পেলেও ইংল্যান্ডের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নকআউট পর্বে আরও দূর যেতে হলে টমাস টুখেলের দলকে নিজেদের খেলায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনতে হবে।

  • ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবেন এই ১০ কিংবদন্তি

    ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবেন এই ১০ কিংবদন্তি

    চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু নতুন চ্যাম্পিয়নের লড়াই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের এক সোনালি প্রজন্মকে বিদায় জানানোরও মঞ্চ। বয়স ও ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে বিশ্বের অন্তত ১০ জন কিংবদন্তি ফুটবলার শেষবারের মতো বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে নেমেছেন।

    তালিকার শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলছেন। বিশ্বকাপে তার গোল, অ্যাসিস্ট ও ব্যক্তিগত অর্জনের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।

    অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সামনে এখনও অধরা বিশ্বকাপ ট্রফি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে রেকর্ড গড়া এই পর্তুগিজ তারকা শেষবারের মতো নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন।

    ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়ার, ব্রাজিলের নেইমার, বেলজিয়ামের কেভিন ডি ব্রুইন—প্রত্যেকেই নিজ নিজ দেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফুটবলার। তারা এবার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দিয়ে নিজেদের শেষ বিশ্বকাপ স্মরণীয় করে রাখতে চাইছেন।

    এছাড়া ভার্জিল ফন ডাইক, মোহাম্মদ সালাহ, সন হিউং-মিন এবং সাদিও মানেও সম্ভবত শেষবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলছেন। তাদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা তৈরি হবে।

    ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশ্বকাপ শুধু নতুন নায়কদের জন্মই দেবে না, একই সঙ্গে বিদায় জানাবে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় এক প্রজন্মকে। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠেছে ইতিহাসের অংশ।

  • এমবাপে-ওলিসের ঝড়ে সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স

    এমবাপে-ওলিসের ঝড়ে সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দারুণ ছন্দময় ফুটবল উপহার দিয়ে সুইডেনকে হারিয়ে নিজেদের শিরোপা জয়ের সামর্থ্যের শক্ত বার্তা দিয়েছে ফ্রান্স। নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোল এবং মাইকেল ওলিসের অসাধারণ সৃজনশীলতায় সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করে দিদিয়ের দেশাম্পের দল।

    বুধবার (১ জুলাই) ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে সুইডেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেয় ফ্রান্স। ধারাবাহিক আক্রমণে চাপে পড়ে সুইডিশ রক্ষণভাগ।

    ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের চমৎকার সমন্বয়ে বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপে। গোলটি উদযাপন করতে পুরো দল কোচ দিদিয়ের দেশাম্পকে ঘিরে ধরে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি করে।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৭৫তম মিনিটে আবারও ওলিসের অ্যাসিস্ট থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফ্রান্সের বড় জয় নিশ্চিত করেন এমবাপে।

    এই জোড়া গোলের মাধ্যমে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির সমকক্ষে পৌঁছেছেন এমবাপে। অন্যদিকে দুটি অ্যাসিস্ট ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মাইকেল ওলিস।

    ম্যাচ শেষে এমবাপে বলেন, দলের ঐক্য ও পারস্পরিক সমর্থনই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি। অন্যদিকে সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটার ফরাসি দলের আক্রমণভাগের বৈচিত্র্য ও পাসিং ফুটবলের প্রশংসা করে বলেন, এমন দলের বিপক্ষে রক্ষণ সামলানো যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন।

    তবে বড় জয়ের পরও সতর্ক অবস্থানেই রয়েছেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশাম্প। তিনি বলেন, সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে এবং শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে দলকে আরও উন্নতি করতে হবে।

  • তিনটি পেনাল্টি মিস করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেদারল্যান্ডস

    তিনটি পেনাল্টি মিস করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেদারল্যান্ডস

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ-৩২ পর্বে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে টাইব্রেকারের নাটকীয়তায় নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে তিনটি সুযোগ নষ্ট করে বিদায়ের বেদনায় ডুবে ডাচরা, আর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে উত্তর আফ্রিকার দল মরক্কো।

    মেক্সিকোর মনতেরেইতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় মরক্কো। প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। তবে নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন দুর্দান্ত সব সেভ করে প্রথমার্ধে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন। মরক্কোর দুটি নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা আবার পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

    ডাচ কোচ রক্ষণাত্মক কৌশলে দল সাজালেও মরক্কোর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। ১৮তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির কর্নার থেকে এল আইনাউইয়ের হেড রুখে দেন ভারব্রুগেন। ফিরতি বলে সুযোগ নষ্ট করেন বুয়াদ্দি। কিছুক্ষণ পর হাকিমির শক্তিশালী শটও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ভ্যান ডি ভেনের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে প্রতিহত করেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।

    দ্বিতীয়ার্ধেও মরক্কো আক্রমণের ধার বজায় রাখে। ৫২ মিনিটে আজেদিন উনাহির পাস থেকে হাকিমির আরেকটি শট ক্রসবারে আঘাত হানে। তবে ম্যাচের ৭২তম মিনিটে খেলার বিপরীতে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। সামারভিলের আক্রমণ থেকে গোল করে ডাচদের লিড এনে দেন কডি গাকপো।

    গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে মরক্কো। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে তালবির ক্রস থেকে ইসা দিওপের হেডে সমতায় ফেরে দলটি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

    অতিরিক্ত সময়েও আক্রমণ অব্যাহত রাখে মরক্কো। একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও জয়সূচক গোলের দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে।

    টাইব্রেকারে মরক্কোর হয়ে সফলভাবে গোল করেন রহিমি, দিওপ ও সাইবারি। নেদারল্যান্ডসের হয়ে কুপমেইনার্স ও ওয়েগহর্স্ট গোল করলেও জাস্টিন ক্লাইভার্টের শট পোস্টে লাগে, টিম্বারের প্রচেষ্টা বাইরে চলে যায় এবং সামারভিলের শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।

    শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করে মরক্কো। অন্যদিকে সুযোগ নষ্টের মিছিলে যোগ দিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় নেদারল্যান্ডসকে।

  • জার্মানির পেনাল্টির অজেয় রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়ল প্যারাগুয়ে

    জার্মানির পেনাল্টির অজেয় রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়ল প্যারাগুয়ে

    বিশ্বকাপের মঞ্চে পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানির অজেয় ইতিহাস ভেঙে নতুন অধ্যায়ের জন্ম দিল প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ম্যাচের নায়ক গোলরক্ষক ওর্লান্দো হিল, যিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি ঠেকিয়ে দলকে এনে দেন স্মরণীয় জয়।

    ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে ছিল জার্মানি। প্রথমার্ধে ৭৯ শতাংশ বল নিয়ন্ত্রণে রেখেও গোল করতে ব্যর্থ হয় ইউরোপের শক্তিশালী দলটি। বরং ৪২তম মিনিটে মাতিয়াস গালারজার ক্রস থেকে হুলিও এন্সিসোর দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচ গোলশূন্য থাকার পর গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচেই গোলের খরা কাটায় তারা।

    দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে জার্মানি। ৫৪তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসের নিখুঁত ক্রস থেকে কাই হাভার্টজ হেডে সমতা ফেরান। এরপর একাধিক আক্রমণ চালালেও প্যারাগুয়ের দৃঢ় রক্ষণ ভাঙতে পারেনি জার্মানরা।

    অতিরিক্ত সময়ের ১০২তম মিনিটে জোনাথন টাহ জালে বল পাঠালেও ভিএআরের সহায়তায় অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করেন রেফারি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব যায় টাইব্রেকারে।

    সেখানে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওর্লান্দো হিল। প্রথমেই কাই হাভার্টজের শট রুখে দিয়ে জার্মানিকে চাপে ফেলে দেন তিনি। পরে আরও একটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত হোসে কানালের সফল শটে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে উচ্ছ্বাসে মাতে প্যারাগুয়ে।

    এই জয়ের মাধ্যমে শুধু শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেনি প্যারাগুয়ে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানির শতভাগ জয়ের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে। এর আগে বিশ্বকাপে চারটি টাইব্রেকারের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছিল জার্মানি। পঞ্চমবারের চেষ্টাতেই সেই অজেয় রেকর্ডের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম লিখিয়ে নিল প্যারাগুয়ে।

  • পঞ্চমবারের মতো নকআউটে বিদায় এশিয়ার প্রতিনিধির

    পঞ্চমবারের মতো নকআউটে বিদায় এশিয়ার প্রতিনিধির

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ-৩২ পর্বে ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে জাপান। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে মাঠের লড়াই নয়, বরং গ্যালারিতে ধরা পড়া এক আবেগঘন মুহূর্ত।

    হিউস্টনের স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের জয় উদযাপনের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এক জাপানি সমর্থকের কান্নার ছবি। প্রিয় দলের বিদায় মেনে নিতে না পেরে অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি। সেই সময় কয়েকজন ব্রাজিলিয়ান সমর্থক এগিয়ে এসে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও এই মানবিক আচরণ ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

    ম্যাচের শুরুটা ছিল জাপানের স্বপ্নের মতো। কাইশু সানোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় এশিয়ার প্রতিনিধিরা। কিছু সময়ের জন্য মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে আরেকটি বড় অঘটনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব।

    তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ব্রাজিল ধারাবাহিক আক্রমণে জাপানের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত দুটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

    এই হারের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও থেমে গেল জাপানের যাত্রা। ইতিহাসে পঞ্চমবারের মতো শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো তাদের। নকআউট পর্বে প্রথম জয় পাওয়ার স্বপ্ন এবারও অধরাই থেকে গেল।

    ম্যাচ শেষে ভাইরাল হওয়া সেই কান্নার ছবি যেন জাপানি সমর্থকদের দীর্ঘদিনের অপূর্ণ স্বপ্ন ও হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের সহমর্মিতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—ফুটবল কেবল জয়-পরাজয়ের খেলা নয়, এটি মানবিকতা, শ্রদ্ধা এবং আবেগেরও এক অনন্য ভাষা।