ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি খাবার খেয়ে ৭৭৭ শিক্ষার্থী-শিক্ষক অসুস্থ

ইন্দোনেশিয়ার সরকারের বহুল প্রচারিত বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচিতে ফের বড় ধরনের খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় জাভার লাসেম এলাকায় সরকারি খাবার খেয়ে ৭৫২ শিক্ষার্থী ও ২৫ শিক্ষকসহ ৭৭৭ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ডায়রিয়া ও বমি বমি ভাবসহ নানা উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় এই কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে।

লাসেমের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে বুধবার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গ্রিল করা মুরগির মাংস পরিবেশন করা হয়েছিল। স্কুলের অধ্যক্ষ জুহারতুক জানান, খাবার পরিবেশনের আগে কিছু মাংস পিচ্ছিল অবস্থায় পাওয়া যায় এবং সেগুলো আলাদা করে ফেলা হয়েছিল। রান্নাঘরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খাবার ভোর ৩টার দিকে রান্না করা হয়েছিল এবং দুপুর ১২টার দিকে তা পরিবেশন করা হয়। স্থানীয় চিকিৎসক জোকো পারিয়ান্তোর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পাশাপাশি পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোতে ৬৬৪ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রান্নাঘরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পূর্ব জাভার এনগানজুকে আরও ৪৯ জন এবং পশ্চিম সুমাত্রার আগাম এলাকায় ২৩৭ জন অসুস্থ হওয়ার তথ্যও জানিয়েছেন এক আইনপ্রণেতা। সব মিলিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বড় পরিসরে খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।

প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর উদ্যোগে চালু হওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য দেশের কোটি কোটি শিশু ও অন্যান্য উপকারভোগীকে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ এবং অপুষ্টি মোকাবিলা করা। কর্মসূচিটির জন্য ১২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চালুর পর থেকেই খাদ্য নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগসহ নানা বিতর্কের মুখে রয়েছে প্রকল্পটি।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার দেরিতে সরবরাহ করার কারণে এ ধরনের খাদ্য বিষক্রিয়া ঘটতে পারে। জাতীয় পুষ্টি সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এর আগে সিদোয়ারজোর ঘটনায় সন্দেহভাজন একটি রান্নাঘরকে ৩০ দিনের জন্য কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা কমনাস এইচএএম পুলিশকে এসব খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, নিরাপদ খাবার পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের পুষ্টি কর্মসূচির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

এরই মধ্যে একজন আইনপ্রণেতা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে দাবি করেছেন, কর্মসূচি শুরুর পর ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যাটি আইনপ্রণেতার উদ্ধৃত সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও হালনাগাদ পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *