রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পর শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হওয়ার মতো বার্তা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে একটি অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন বলেছেন, যুদ্ধের অবসানে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বাস্তব সুযোগ রয়েছে। একই সময়ে সিবিহাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন গতি আসার কথা জানিয়েছেন।
পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ কয়েকটি দেশ রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়া দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত সংঘাতের সমাধান রাশিয়া ও ইউক্রেনকেই করতে হবে। তাঁর ভাষায়, একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ বর্তমানে রয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা আবার সক্রিয় হচ্ছে। এর ফলে শান্তি প্রচেষ্টায় একটি নতুন গতিশীলতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও এখনো কোনো পক্ষই বাস্তব অগ্রগতির নির্দিষ্ট প্রমাণ দেয়নি।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সর্বশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও বেড়েছে। কৃষ্ণসাগর ও বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফলে যুদ্ধের অবসানে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
তবে শান্তির সম্ভাবনার পাশাপাশি মতপার্থক্যও স্পষ্ট। পুতিন ইউক্রেনের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেছেন, বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও বিমান চলাচল নিয়ে হুমকির অভিযোগ শান্তি আলোচনার পরিবেশকে জটিল করছে। ইউক্রেন অবশ্য দাবি করছে, তাদের হামলার লক্ষ্য সামরিক স্থাপনা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফরের প্রস্তুতিও নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে নিরাপত্তা ও যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ সংঘাতের পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে তুলনামূলক ইতিবাচক বক্তব্য এলেও যুদ্ধ অবসানের পথ এখনো কঠিন। কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়লেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে দুই পক্ষকে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত মতপার্থক্য অতিক্রম করতে হবে।

Leave a Reply