কাদা-পাথরে আটকে ১০ দিন, নেপালে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত চীনা নাগরিক

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ১০ দিন পর নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ২২৫ মিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ থেকে লু হাইতাও নামের ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।

গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর, কাদা ও পানির ভয়াবহ স্রোত নেপালের উত্তরাঞ্চলের ত্রিশুলি নদী উপত্যকায় আছড়ে পড়ে। এতে নেপালের রাসুয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়। সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বন্যায় দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ৮৮৭ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর একাধিক সুড়ঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

লু হাইতাওকে উদ্ধারের আগে শুক্রবার আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আরেকটি সুড়ঙ্গ থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ফলে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এ পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার হওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে।

নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারের সময় লু হাইতাওয়ের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাত পাওয়া যায়নি এবং তার গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। তবে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা, খাবার ও পানির সংকটের মধ্যে সুড়ঙ্গে আটকে থাকায় তিনি মৃদু হাইপোথার্মিয়ায় ভুগছিলেন।

উদ্ধারের সময় তাকে ক্লান্ত ও কিছুটা বিভ্রান্ত অবস্থায় দেখা যায়। তার শরীর ও পোশাক শুকনো কাদা ও ধুলায় ঢেকে ছিল। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে নেপালের সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে ও সুড়ঙ্গগুলোতে এখনো বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। জীবিতদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *