দামি গয়না নয়, নীতা আম্বানির সাজে নজর কাড়ল নকশার জাদু

অর্থ-বিত্ত কিংবা দামি গয়না—ফ্যাশনে নজর কাড়ার জন্য শুধু এগুলোই যথেষ্ট নয়। পোশাকের নকশা, রঙের নির্বাচন, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ভারসাম্য এবং ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাজের সামঞ্জস্য—সব মিলিয়েই তৈরি হয় একটি স্মরণীয় লুক। নীতা আম্বানির সাম্প্রতিক সাজ যেন সেই কথাটিই আবার মনে করিয়ে দিল।

প্রখ্যাত ভারতীয় ডিজাইনার জুটি আবু জানি ও সন্দীপ খোসলার ফ্যাশন-যাত্রার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুম্বাইয়ে আয়োজিত হয় বিশেষ উদযাপন। একই আয়োজনে তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্টোর ‘মুবারক বাগ’-এর উদ্বোধনও করা হয়। জমকালো এই আয়োজনে বলিউড ও ফ্যাশন অঙ্গনের বহু তারকার উপস্থিতির মধ্যে নীতা আম্বানির সাজ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।

এদিন নীতা বেছে নিয়েছিলেন গাঢ় মেরুন রঙের পিওর শিফন শাড়ি। শাড়িটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল ভেলভেটের বর্ডার, যেখানে জ্যামিতিক নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। হালকা ও প্রবাহমান শিফনের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত ভারী ভেলভেটের সমন্বয় পোশাকটিতে তৈরি করেছে বৈপরীত্যপূর্ণ অথচ ভারসাম্যপূর্ণ একটি আবহ।

শাড়ির সঙ্গে ছিল একই রঙের ফুল-স্লিভ ব্লাউজ। ব্লাউজে ব্যবহৃত ট্রেলিস বা জালি-ধাঁচের জ্যামিতিক নকশায় ফুটে উঠেছে আর্ট ডেকোর প্রভাব। মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে এই জ্যামিতিক নকশার যোগসূত্রই সাজটিকে কেবল একটি দামি পোশাকের বদলে একটি নান্দনিক ফ্যাশন স্টেটমেন্টে পরিণত করেছে।

পোশাকের সঙ্গে নীতা আম্বানি বেছে নিয়েছিলেন নিজের ব্যক্তিগত জুয়েলারি সংগ্রহের গয়না। লাল কর্ডেড নেকলেসের সঙ্গে টিয়ার-ড্রপ ডায়মন্ড পেন্ডেন্ট, ডায়মন্ডের ঝুলন্ত কানের দুল এবং স্টেটমেন্ট রিং তার সাজে যোগ করেছে বাড়তি আভিজাত্য। তবে পোশাকের নকশাকেই সামনে রাখতে গয়নার ব্যবহার ছিল তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত।

মেকআপেও ছিল ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়। কাজল-টানা চোখ, হালকা শিমারি আইশ্যাডো, ন্যাচারাল টোনের মেকআপ এবং কপালের লাল টিপ পুরো সাজে এনে দেয় ভারতীয় ঐতিহ্যের পরিচিত ছোঁয়া। চুলের সাজও রাখা হয়েছিল পরিপাটি ও নরম আবহে।

এই লুকের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব সম্ভবত এখানেই—অতিরিক্ত অলংকার বা চোখধাঁধানো নকশার পরিবর্তে রঙ, কাপড়, স্থাপত্য-অনুপ্রাণিত জ্যামিতিক নকশা এবং ব্যক্তিত্বের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ভারসাম্য তৈরি করা হয়েছে।

আবু জানি ও সন্দীপ খোসলা ১৯৮৬ সালে তাদের সৃজনশীল যাত্রা শুরু করেন। চার দশকের সেই পথচলা উদযাপনের আয়োজনে নীতা আম্বানির পোশাকও যেন ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাককে সমকালীন নকশার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার সেই দীর্ঘ ফ্যাশন-যাত্রারই একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

তাই নীতা আম্বানির ফ্যাশন নিয়ে আলোচনায় শুধু পোশাকের দাম বা গয়নার মূল্য নয়, বরং নকশার গল্প, রঙের ব্যবহার এবং পুরো লুকের সামঞ্জস্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেখানেই হয়তো অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে ওঠে তার ফ্যাশন রুচি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *