Category: স্বাস্থ্য

  • বাংলাদেশে হাম এখন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগ

    বাংলাদেশে হাম এখন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগ

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩০৬ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২৮ জন। ১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৫০ হাজার ৫৫৮ জন। সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ৪৬ হাজার ২১৪ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগে কেউ মারা যায়নি। গত ১৫ মার্চ হতে অদ্যাবধি মোট নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৮৬ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৪২ জন।

    আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।

  • হাম রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলক : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

    হাম রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলক : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

    দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকারি ও বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন চালু বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও রোগীদের কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা কেবিন চালু করতে হবে। আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনায় আরও বলা হয়, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রাউন্ড দিতে হবে।

    রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি অভিভাবক বা দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভর্তি রোগীদের তথ্য প্রতিদিন এমআইএস সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • লিভারের ক্ষতি হলে ত্বকই দেয় প্রথম সংকেত, অবহেলা নয় সতর্কতা জরুরি

    লিভারের ক্ষতি হলে ত্বকই দেয় প্রথম সংকেত, অবহেলা নয় সতর্কতা জরুরি

    মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার। এই অঙ্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ধীরে ধীরে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের কার্যকারিতাও কমতে শুরু করে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভার, লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিল রোগ বাড়ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভারে সমস্যা দেখা দিলে শরীর আগে থেকেই কিছু সতর্ক সংকেত দেয়। এর মধ্যে ত্বকের কিছু পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। এসব লক্ষণ অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    জন্ডিস

    লিভারের সমস্যার সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া। লিভার ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে বিলিরুবিন জমতে থাকে। এর ফলে ত্বক ও চোখে হলদে ভাব দেখা দেয়, যা জন্ডিস নামে পরিচিত। এটি গুরুতর লিভার সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

    ত্বকে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া

    লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হতে থাকে। পাশাপাশি পিত্তরস সঠিকভাবে নির্গত না হলে ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। এমন সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    ত্বকে ফুসকুড়ি বা ফোঁড়া

    লিভার দুর্বল হলে রক্ত সঞ্চালনেও প্রভাব পড়ে। এর ফলে ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি, ছোট ফোঁড়া বা ব্রণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণ ওষুধে এসব সমস্যা না কমলে লিভার পরীক্ষা করানো জরুরি।

    চোখ ও মুখ ফুলে যাওয়া

    লিভার ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে শুরু করে। এর প্রভাবে চোখ ও মুখ ফুলে যেতে পারে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ বা মুখ অস্বাভাবিক ফোলা দেখালে তা অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং ৬ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ১৯২ শিশু।

    মঙ্গলবার (১২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত দেড় মাসে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৬৮ শিশু। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৫৬ শিশু।

    একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ২৪ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫১ হাজার ৫৬৭ শিশু।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগ-এ। এ বিভাগে হাম ও হাম-সন্দেহে ১৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ৯৩২ শিশু।

    এই পরিসংখ্যান গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ১২ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

  • অসুস্থ ভিপি হানিফকে দেখতে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস

    অসুস্থ ভিপি হানিফকে দেখতে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস

    মোঃ উজ্জ্বল ভূঁইয়া : নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মো. হানিফ। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালের বেডে শুয়ে তিনি দেশবাসীর কাছে নিজের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

    জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১৭ আসনে থেকে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তখন থেকেই সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    এদিকে, তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালে গিয়ে তাকে পরিদর্শন করেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। মন্ত্রী অসুস্থ হানিফের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সান্ত্বনা দেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত ভিপি হানিফ ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “সারা জীবন রাজনীতি করেছি, ১৭ বছর নির্যাতনের মধ্যে থেকেছি। আজ দল ভালো অবস্থানে—এই সময়টায় আনন্দ করার কথা ছিল। কিন্তু আমার সেই আনন্দ যেন হঠাৎ করেই থেমে গেছে।

    তিনি আরও বলেন, আমার রাজনীতির জীবনে কারও সঙ্গে কখনো বিরোধ সৃষ্টি হয়নি। সবাই আমার আপনজন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন—আমি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি, মানুষের সেবা করতে পারি।

    হাসপাতালের নিঃশব্দ কক্ষে তার এই আবেগঘন আহ্বান যেন ছুঁয়ে যায় উপস্থিত সবার হৃদয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই নেতার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসী।

  • প্রায় প্রতিটি বাড়িতে অসুস্থ শিশু: হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে শিবগঞ্জে

    প্রায় প্রতিটি বাড়িতে অসুস্থ শিশু: হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে শিবগঞ্জে

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম। বিশেষ করে শিবগঞ্জ উপজেলার রানিহাটি, ঘোড়াপাখিয়া, মনাকষা ও শ্যামপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ বাড়িতেই শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।

    অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক শিশুর চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও দুর্বলতার লক্ষণও রয়েছে। তবে অনেকেই এটিকে সাধারণ জ্বর মনে করে গুরুত্ব না দেওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার প্রবণতা কম থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের গোলাপের হাট এলাকার বাসিন্দা আলি হাসানের ৪ বছর বয়সী ছেলে আব্দুর রহমান গত ৮ দিন ধরে হামের উপসর্গে ভুগলেও তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি।

    চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া এবং সময়মতো টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। টিকা না নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ; অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

  • ৩ মে থেকে সারাদেশে একযোগে হামের টিকাদান শুরু হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ৩ মে থেকে সারাদেশে একযোগে হামের টিকাদান শুরু হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশের সব জেলা ও উপজেলায় আগামী ৩ মে থেকে একযোগে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    রোববার (৫ এপ্রিল) নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

    মন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির সময় অব্যবহৃত থাকা ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে হামের ভ্যাকসিন কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ৮২ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। তাই প্রথম ধাপে এই বয়সসীমার শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ ময়মনসিংহ ও বরিশালে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর ৩ মে থেকে সারাদেশে একযোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণেই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

  • ৩০ উপজেলায় একযোগে হাম-রুবেলা টিকাদান

    ৩০ উপজেলায় একযোগে হাম-রুবেলা টিকাদান

    দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় একযোগে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়, যা প্রতিদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।

    গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা গেলে হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগ থেকে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, সরকার এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং টিকার কোনো সংকট হবে না। আন্তর্জাতিক কয়েকটি স্বাস্থ্য সংস্থাও এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৮ হাজার শিশুকে এই টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক অস্থায়ী ও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। কর্মসূচিটি টানা ১৫ দিনব্যাপী চলবে।

    গাজীপুরের সদর, টঙ্গী, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিগঞ্জ ও পুবাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে সুশৃঙ্খলভাবে শিশুদের টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ বাড়তে দেখা গেছে, যা শিশুদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

    তারা আরও বলেন, অভিভাবকদের সচেতনতা এই কর্মসূচির সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুশৃঙ্খলভাবে টিকা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম-রুবেলা টিকা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে মারাত্মক জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

  • সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর হাম শনাক্ত

    সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর হাম শনাক্ত

    সিরাজগঞ্জে সংক্রামক রোগ হাম-এর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৩৯ জন শিশু হাম আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং বর্তমানে ১৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    আক্রান্তদের মধ্যে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, উল্লাপাড়া, বেলকুচি ও চৌহালী হাসপাতালে একজন করে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই হামের টিকা নেওয়ার আগেই সংক্রমিত হয়েছে। আবার কেউ কেউ টিকা নেওয়ার পরও পুরোপুরি সুরক্ষা পায়নি।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রথমে জ্বর ও সর্দি-কাশির উপসর্গ দেখা দেয়। পরে শরীরে ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতাও যুক্ত হচ্ছে।

    সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্তদের জন্য বিশেষ ইউনিট চালু করা হয়েছে।

    এদিকে, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

  • হামের উপসর্গে ১৯ দিনে ৯৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত বেড়ে ৫৭৯২

    হামের উপসর্গে ১৯ দিনে ৯৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত বেড়ে ৫৭৯২

    দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ১৯ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে রোগটিতে আক্রান্তের সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে ৯৪৭ জনের মধ্যে হাম-সদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪২ জনের ক্ষেত্রে রোগটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৯২ জনে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ১৫ মার্চ থেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ শুরু করা হয়।

    এছাড়া, ১৫ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৭৭৬ জন। তাদের মধ্যে ৭৭১ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায় এবং শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।