৩০ উপজেলায় একযোগে হাম-রুবেলা টিকাদান

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় একযোগে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়, যা প্রতিদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।

গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা গেলে হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগ থেকে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, সরকার এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং টিকার কোনো সংকট হবে না। আন্তর্জাতিক কয়েকটি স্বাস্থ্য সংস্থাও এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৮ হাজার শিশুকে এই টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক অস্থায়ী ও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। কর্মসূচিটি টানা ১৫ দিনব্যাপী চলবে।

গাজীপুরের সদর, টঙ্গী, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিগঞ্জ ও পুবাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে সুশৃঙ্খলভাবে শিশুদের টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ বাড়তে দেখা গেছে, যা শিশুদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

তারা আরও বলেন, অভিভাবকদের সচেতনতা এই কর্মসূচির সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুশৃঙ্খলভাবে টিকা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম-রুবেলা টিকা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে মারাত্মক জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *