Category: ফুটবল

  • মেসির গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল? সাবেক দুই রেফারির ভিন্ন মত

    মেসির গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল? সাবেক দুই রেফারির ভিন্ন মত

    ফুটবল বিশ্বে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে লিওনেল মেসির একটি বিতর্কিত গোল। গোলটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাবেক দুই আন্তর্জাতিক রেফারি সম্পূর্ণ ভিন্ন মত দিয়েছেন। ফলে সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল নাকি ভুল—তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    সাবেক রেফারি অ্যান্তি ডেভিস মনে করেন, আক্রমণ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড়ের স্পষ্ট ফাউলের কারণে মেসির গোলটি বাতিল করা নিয়মসঙ্গত ছিল। তাঁর মতে, সেই ফাউলের ফলেই আর্জেন্টিনা আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং শেষ পর্যন্ত গোলটি আসে। তাই ফুটবলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী গোল বাতিলের সিদ্ধান্তই সঠিক।

    অন্যদিকে, সাবেক রেফারি গ্রাহাম স্কট সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গোলের ঠিক আগে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর যে চ্যালেঞ্জটি হয়েছিল, সেটি ছিল স্বাভাবিক শারীরিক লড়াই (কনট্যাক্ট)। তাই সেটিকে ফাউল হিসেবে ধরা উচিত ছিল না। তাঁর মতে, ওই পরিস্থিতিতে মেসির গোলটি বৈধ হওয়ারই কথা।

    দুই অভিজ্ঞ রেফারির বিপরীতমুখী বিশ্লেষণের ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা ফুটবলের নিয়ম প্রয়োগে রেফারিদের বিচার-বিবেচনার গুরুত্বকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

    ফিফা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নতুন মন্তব্য না করলেও, ঘটনাটি ফুটবল বিশ্বে বিতর্কের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের

    ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের

    অন্তত ৩৩ জন ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা একটি চিঠিতে ফিফার স্বাধীন নৈতিকতা কমিটির মাধ্যমে ইনফান্তিনোর ভূমিকা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর বলোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ফুটবলের নিরপেক্ষতা ও ফিফার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

    প্রকাশিত এক যৌথ চিঠিতে ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা ফিফার স্বাধীন নৈতিকতা কমিটির মাধ্যমে ইনফান্তিনোর ভূমিকা তদন্তের আহ্বান জানান। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর বাংলাদেশ সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের স্বাধীনতা ও সুশাসনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    আইনপ্রণেতারা চিঠিতে উল্লেখ করেন, কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবের ভিত্তিতে ফুটবল প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ফিফার নিরপেক্ষ অবস্থানকে দুর্বল করে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আস্থা নষ্ট করতে পারে। তারা বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    এদিকে ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তদন্তের দাবি নিয়ে ফিফার অবস্থানই এখন নজরকাড়া বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড

    টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড

    ৭২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে সুইসরা।

    নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। পরে টাইব্রেকারে গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে সুইজারল্যান্ডকে জয় এনে দেন। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

    ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে তুলনামূলক বেশি সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া। তবে সুইস গোলরক্ষক কোবেলের দৃঢ়তা এবং কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসের দুর্দান্ত সেভে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

    দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল একাধিক সুযোগ পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। অতিরিক্ত সময়ে জন লুকুমির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, অন্যদিকে জেকি আমদুনির শক্তিশালী শট রুখে দেন ভার্গাস। ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ নষ্ট করেন কলম্বিয়ার জামিন্তন কাম্পাজ, যিনি একা গোলরক্ষকের সামনে থেকেও বল জালে জড়াতে পারেননি।

    টাইব্রেকারে প্রথমে এগিয়ে যায় কলম্বিয়া। তবে দাভিনসন সানচেজের শট ক্রসবারে লাগে এবং কুচো হার্নান্দেজের পেনাল্টি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন কোবেল। শেষ পর্যন্ত রুবিন ভার্গাসের সফল শটে ৪-৩ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড।

  • আর্জেন্টিনার জয় নিয়ে রেফারিং বিতর্ক, ফিফায় অভিযোগ মিসরের

    আর্জেন্টিনার জয় নিয়ে রেফারিং বিতর্ক, ফিফায় অভিযোগ মিসরের

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে রেফারিং। একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, যা নিয়ে ফিফার কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছে।

    আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই চমক দেখায় মিসর। ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তাফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ম্যাচে একটি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন।

    ম্যাচের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্ত আসে ৫৮তম মিনিটে। সে সময় মোস্তাফা জিকো আরও একটি গোল করলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল করা হয়। রিপ্লেতে আক্রমণ শুরুর আগে একটি ফাউলের বিষয়টি চিহ্নিত করে রেফারি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন। তবে মিসর শিবিরের দাবি, ঘটনাটি গোলের অনেক আগে ঘটেছিল এবং এমন সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক।

    ম্যাচের শেষদিকে আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয়, যখন মিসরের এক আক্রমণের সময় ডি-বক্সে ফাউলের অভিযোগ উঠলেও পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। মিসরের ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ, সেই মুহূর্তে তারা স্পষ্ট পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    এরপর দ্রুত দুই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। প্রথমে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমান, পরে লিওনেল মেসি সমতাসূচক গোল করেন। অতিরিক্ত সময়ে এনসো ফার্নান্দেসের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিসরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ। মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তার সহকারীদের সিদ্ধান্তের তদন্ত দাবি করেছে।

    বিশ্বকাপে বিতর্কিত রেফারিংয়ের অভিযোগ নতুন নয়। তবে মিসরের দাবি, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে ধারাবাহিকভাবে তাদের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত গেছে, যা ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

    অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা এই জয় দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ম্যাচে গোল করে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও সমৃদ্ধ করেন এবং নতুন কয়েকটি রেকর্ডও গড়েন।

    উল্লেখ্য, ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ইউরোপের অন্যতম অভিজ্ঞ ম্যাচ কর্মকর্তা। এর আগে তিনি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল, উয়েফা সুপার কাপ ও ইউরোপা লিগের ফাইনালসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তবে এই ম্যাচের পর তার পারফরম্যান্স নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।

    এই প্রতিবেদনে রেফারিং-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফিফা এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেনি।

  • বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল সূচি প্রকাশ, শেষ আটে জমজমাট লড়াই

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল সূচি প্রকাশ, শেষ আটে জমজমাট লড়াই

    শেষ ষোলোর উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে নির্ধারিত হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আট দল। আগামী ৯ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে শেষ আটের লড়াই, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই হতে যাচ্ছে হাইভোল্টেজ।

    শেষ ষোলোর বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো, ফ্রান্স, নরওয়ে, ইংল্যান্ড, স্পেন, বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা এবং সুইজারল্যান্ড। শেষ দল হিসেবে টিকিট নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড।

    অন্যদিকে নকআউট পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তিন স্বাগতিক দেশ কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোকে। পাশাপাশি ব্রাজিল, পর্তুগাল, প্যারাগুয়ে, মিশর ও কলম্বিয়ারও বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়েছে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে।

    কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৯ জুলাই রাত ২টায় বোস্টন স্টেডিয়ামে। সেখানে আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধি মরক্কোর মুখোমুখি হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।

    দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল হবে ১০ জুলাই রাত ১টায় লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে। ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও বেলজিয়াম মুখোমুখি হবে সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে।

    তৃতীয় ম্যাচে ১১ জুলাই রাত ৩টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। দুই দলের আক্রমণভাগের শক্তির কারণে ম্যাচটি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

    শেষ কোয়ার্টার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুলাই সকাল ৭টায় কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি হতে পারে এটি।

    কোয়ার্টার ফাইনাল সূচি

    • ৯ জুলাই | রাত ২:০০ — ফ্রান্স 🆚 মরক্কো (বোস্টন)
    • ১০ জুলাই | রাত ১:০০ — স্পেন 🆚 বেলজিয়াম (লস অ্যাঞ্জেলস)
    • ১১ জুলাই | রাত ৩:০০ — নরওয়ে 🆚 ইংল্যান্ড (মায়ামি)
    • ১২ জুলাই | সকাল ৭:০০ — আর্জেন্টিনা 🆚 সুইজারল্যান্ড (কানসাস সিটি)

    চারটি ম্যাচের বিজয়ী দল সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করবে এবং বিশ্বকাপ শিরোপার দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

  • বিদায়ের পরও থামছে না রোনালদো বিতর্ক, কোচ মার্টিনেজের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন

    বিদায়ের পরও থামছে না রোনালদো বিতর্ক, কোচ মার্টিনেজের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পরও পর্তুগাল শিবিরে থামছে না ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে বিতর্ক। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে প্রধান কোচ রবার্তো মার্টিনেজের কৌশল নিয়ে—গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন গনসালো রামোসকে এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামানো হলো না?

    স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো পুরো সময় মাঠে থাকলেও আক্রমণভাগে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি। ম্যাচের ৯১তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর গোলে পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়।

    এর আগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করে দলকে শেষ ষোলোয় তুলেছিলেন গনসালো রামোস। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে তাকে বেঞ্চেই বসিয়ে রাখেন কোচ মার্টিনেজ, যা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও রামোসের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপে পেনাল্টি ছাড়া রোনালদোর গোল যেখানে দুটি, সেখানে অনেক কম সময় মাঠে থেকেও গনসালো রামোস করেছেন চারটি গোল। ফলে গোলের প্রয়োজন থাকা ম্যাচে তাকে সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষক ও সমর্থকরা।

    অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, ম্যাচের শেষদিকে রামোসকে নামানো হলে পর্তুগালের আক্রমণে নতুন গতি আসতে পারত। তবে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ রোনালদোর ওপরই আস্থা রাখেন, যা প্রত্যাশিত ফল এনে দিতে পারেনি।

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো নিশ্চিত করেছেন, এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার।

  • প্রিয় দল আর্জেন্টিনা, তবু আজ মিশরের পক্ষেই অভিনেত্রী বর্ষা

    প্রিয় দল আর্জেন্টিনা, তবু আজ মিশরের পক্ষেই অভিনেত্রী বর্ষা

    বিশ্বকাপ ফুটবলে বরাবরই আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী আফিয়া নুসরাত বর্ষা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করলেও এবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে ঘিরে ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন তিনি।

    মঙ্গলবার রাত ১০টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে মিশর। এই ম্যাচের আগে নিজের ফেসবুক পোস্টে বর্ষা জানান, আর্জেন্টিনা হারলেও তার মন খারাপ হবে না।

    ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আজ প্রিয় দল আর্জেন্টিনা হারলেও আমার মনে কষ্ট লাগবে না। কারণ মন থেকে চাই দুনিয়ার বুকে মুসলিমদের জয় হোক; আমিন।’

    বর্ষার এই মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক অনুসারী তার অনুভূতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আবার অনেকে মন্তব্য করেছেন, খেলাধুলার সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়কে যুক্ত করা উচিত নয়।

    আর্জেন্টিনার প্রতি দীর্ঘদিনের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও এই ম্যাচে মিশরের জয় কামনা করায় তার পোস্টটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

    প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় আফিয়া নুসরাত বর্ষার। মূলত স্বামী অনন্ত জলিলের প্রযোজনা ও অভিনীত চলচ্চিত্রেই তাকে বেশি দেখা গেছে। গত বছর অভিনয় থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিলেও পরে হাতে থাকা কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে নতুন চলচ্চিত্র ‘কিল হি ২’-এর কাজ নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

  • কান্নায় ভেঙে পড়লেন নেইমার, শেষ ম্যাচের ইঙ্গিত ব্রাজিল তারকার

    কান্নায় ভেঙে পড়লেন নেইমার, শেষ ম্যাচের ইঙ্গিত ব্রাজিল তারকার

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে জাতীয় দলের ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার

    ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নেইমার বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন সব শেষ। আমি এখানেই শুরু করেছিলাম, আর এখানেই শেষ করছি।’

    নেইমারের এই বক্তব্যকে জাতীয় দল থেকে বিদায়ের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে ব্রাজিলের গণমাধ্যম। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল তার। ১৬ বছর পর একই ভেন্যুতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিলেন এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার।

    নরওয়ের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। তবে তার সেই গোল পরাজয় এড়াতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজার পর আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

    এই বিশ্বকাপে নেইমারের নামের পাশে যুক্ত হয়েছে আরেকটি হতাশার পরিসংখ্যান। তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসে দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও শিরোপা জিততে পারেননি। এর আগে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন থিয়াগো সিলভা

    যদি এটিই জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকে, তবে তিনি ব্রাজিলের জার্সিতে ক্যারিয়ার শেষ করবেন ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে। সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে তার একমাত্র বড় শিরোপা ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ। এছাড়া ২০১৬ সালের ২০১৬ রিও অলিম্পিক-এ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো অলিম্পিক ফুটবলের স্বর্ণপদক জিতিয়েছিলেন তিনি।

    ব্রাজিলের অন্যতম সেরা ফুটবলারের বিদায়ের এই সম্ভাব্য মুহূর্ত তাই শুধু দেশটির জন্য নয়, বিশ্ব ফুটবলের জন্যও একটি আবেগঘন অধ্যায় হয়ে থাকবে।

  • হালান্ডের জোড়া গোলে বিদায় ব্রাজিল, ইতিহাসে প্রথমবার তিন ফুটবলারের ৭ গোল

    হালান্ডের জোড়া গোলে বিদায় ব্রাজিল, ইতিহাসে প্রথমবার তিন ফুটবলারের ৭ গোল

    বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের প্রথম আসরেই ইতিহাস গড়ে চলেছেন নরওয়ের তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ড। ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জিতিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসিকিলিয়ান এমবাপের সমান সাত গোল করে নতুন এক রেকর্ডের অংশ হয়েছেন হালান্ড।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো এক আসরে তিনজন ফুটবলার অন্তত সাতটি করে গোল করার কীর্তি গড়লেন। মেসি, এমবাপে ও হালান্ড—তিনজনই এখন সমান সাত গোল নিয়ে শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকায় রয়েছেন।

    ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে হালান্ড শুধু দলকে জেতাননি, নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লিখেছেন। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।

    জাতীয় দলের জার্সিতে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন হালান্ড। সর্বশেষ ১৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি করেছেন ২৭ গোল। বিশ্বকাপেও সেই দুর্দান্ত ফর্ম বজায় রেখে নিজের অভিষেক আসরেই গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন।

    এবারের বিশ্বকাপে এটি হালান্ডের তৃতীয় ম্যাচ, যেখানে তিনি একাধিক গোল করেছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে এর চেয়ে বেশি ম্যাচে একাধিক গোল করার রেকর্ড রয়েছে শুধু জাস্ট ফঁতেঁন (১৯৫৮) ও শান্দর কশিচ (১৯৫৪)-এর।

    এছাড়া ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে জোড়া গোল করা মাত্র তৃতীয় ফুটবলারও হয়েছেন হালান্ড। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন টনি ক্রুসআন্দ্রে শুরলে

    আরেকটি অনন্য কীর্তিও গড়েছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে অন্তত চারটি ম্যাচে জয়সূচক গোল করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এই তালিকায় আগে ছিলেন গার্ড মুলার, সালভাতোর শিল্লাচি এবং গ্রেজেগর্জ লাতো

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়া নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা এখন আর্লিং হালান্ড। তার দুর্দান্ত গোল করার ধার অব্যাহত থাকলে গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি নরওয়ের স্বপ্নও আরও বড় হতে পারে।

  • আনচেলত্তির ওপর আস্থা রাখছে ব্রাজিল, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব নিশ্চিত

    আনচেলত্তির ওপর আস্থা রাখছে ব্রাজিল, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব নিশ্চিত

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিলেও প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর আস্থা হারাচ্ছে না ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক রদ্রিগো কায়েতানো নিশ্চিত করেছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইতালিয়ান এই কোচ।

    নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের পরাজয়ের পর কায়েতানো বলেন, দলের জন্য এখন স্থিতিশীলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, শান্ত পরিবেশে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায় সিবিএফ এবং সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন আনচেলত্তি।

    তিনি বলেন, ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য একটি স্থায়ী পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাই আনচেলত্তির নেতৃত্বেই ভবিষ্যতের পথচলা অব্যাহত থাকবে।

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করলেও আনচেলত্তি ও কোচিং স্টাফের কাজের প্রশংসা করেন কায়েতানো। তার ভাষায়, গত ৩৮ দিনে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ যে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও পরিশ্রম দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।

    তিনি আরও বলেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছে। অনেক ম্যাচেই দল ভালো ফুটবল খেলেছে এবং সিবিএফের বিশ্বাস ছিল, সেলেসাওরা আরও অনেক দূর এগিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারবে।

    ২০২৫ সালে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আনচেলত্তি। তার অধীনেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব সফলভাবে শেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেয় ব্রাজিল। যদিও প্রথম বিশ্বকাপ মিশনে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তবুও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে না ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন।

    এখন ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন করে দল গঠনের কাজ শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সেই মিশনের নেতৃত্বে থাকবেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তিই।