বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের প্রথম আসরেই ইতিহাস গড়ে চলেছেন নরওয়ের তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ড। ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জিতিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের সমান সাত গোল করে নতুন এক রেকর্ডের অংশ হয়েছেন হালান্ড।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো এক আসরে তিনজন ফুটবলার অন্তত সাতটি করে গোল করার কীর্তি গড়লেন। মেসি, এমবাপে ও হালান্ড—তিনজনই এখন সমান সাত গোল নিয়ে শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকায় রয়েছেন।
ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে হালান্ড শুধু দলকে জেতাননি, নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লিখেছেন। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।
জাতীয় দলের জার্সিতে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন হালান্ড। সর্বশেষ ১৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি করেছেন ২৭ গোল। বিশ্বকাপেও সেই দুর্দান্ত ফর্ম বজায় রেখে নিজের অভিষেক আসরেই গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন।
এবারের বিশ্বকাপে এটি হালান্ডের তৃতীয় ম্যাচ, যেখানে তিনি একাধিক গোল করেছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে এর চেয়ে বেশি ম্যাচে একাধিক গোল করার রেকর্ড রয়েছে শুধু জাস্ট ফঁতেঁন (১৯৫৮) ও শান্দর কশিচ (১৯৫৪)-এর।
এছাড়া ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে জোড়া গোল করা মাত্র তৃতীয় ফুটবলারও হয়েছেন হালান্ড। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন টনি ক্রুস ও আন্দ্রে শুরলে।
আরেকটি অনন্য কীর্তিও গড়েছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে অন্তত চারটি ম্যাচে জয়সূচক গোল করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এই তালিকায় আগে ছিলেন গার্ড মুলার, সালভাতোর শিল্লাচি এবং গ্রেজেগর্জ লাতো।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়া নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা এখন আর্লিং হালান্ড। তার দুর্দান্ত গোল করার ধার অব্যাহত থাকলে গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি নরওয়ের স্বপ্নও আরও বড় হতে পারে।