মাত্র ১৯ বছর বয়সেই যেন ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে ফেলেছেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। অভিষেকের আগেই ‘ওয়ান্ডার কিড’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই তরুণ প্রতিভা মাঠে নামার পর থেকে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন। এবার বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে ইউরোর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শিরোপাই নিজের করে নিলেন তিনি।
বার্সেলোনার হয়ে ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অভিষেক হয়েছিল ইয়ামালের। এরপর প্রতিটি ম্যাচেই যেন নতুন ইতিহাস লিখেছেন। সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন, কখনো ছুঁয়েছেন, কখনো ছাড়িয়ে গেছেন ফুটবল কিংবদন্তিদের কীর্তি।
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল লিওনেল মেসির সঙ্গে ইয়ামালের আবেগঘন আলিঙ্গন। ম্যাচ শেষে যখন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি হতাশ হয়ে মাঠে বসে ছিলেন, তখন উদযাপন ছেড়ে তার কাছে যান ইয়ামাল। দুজনের সেই আলিঙ্গন অনেকের চোখে হয়ে উঠেছে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে ফুটবলের মশাল হস্তান্তরের প্রতীক।
আরও আবেগ যোগ করেছে ২০০৭ সালের একটি পুরোনো ছবি। সেখানে দেখা যায়, তরুণ মেসি ছোট্ট শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করাচ্ছেন। প্রায় দুই দশক পর সেই শিশুই বিশ্বকাপজয়ী, আর মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায় সম্ভবত শেষ।
হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে টুর্নামেন্টের শুরুটা কঠিন হলেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে তিনি সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ইউরো ও বিশ্বকাপ—দুই শিরোপাই জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছেন।
স্পেনের জার্সিতে ইয়ামালের প্রভাবও অসাধারণ। এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ২৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেও হারেননি একটিতেও। বড় টুর্নামেন্টে শুরুর একাদশে থেকে ১৩ ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছেন, যা ইউরোপীয় ফুটবলারদের মধ্যে শতভাগ জয়ের দীর্ঘতম রেকর্ড।
স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচ শেষে ইয়ামালের প্রশংসায় বলেন, তিনি শুধু অসাধারণ ফুটবলই খেলেননি, দলের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ত্যাগও স্বীকার করেছেন। কোচের মতে, এবারের বিশ্বকাপে ইয়ামালই ছিলেন সেরা পারফর্মার।
বিশেষ প্রতিভার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও দেখিয়েছেন ইয়ামাল। প্রতিপক্ষের উসকানি উপেক্ষা করে ঠাণ্ডা মাথায় খেলেছেন এবং দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরো ও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া ইয়ামালের সামনে এখনও দীর্ঘ ক্যারিয়ার অপেক্ষা করছে। বর্তমান সাফল্য ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পথেই এগিয়ে থাকবেন স্পেনের এই তরুণ তারকা।