বাবা আলাদা, তবু অটুট দুই ভাইয়ের বন্ধন—ইয়ামালের ছোট ভাই কিয়েনকে ঘিরে কৌতূহল

স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে যেমন বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তেমনি এবারের বিশ্বকাপে আলোচনায় উঠে এসেছে তার তিন বছর বয়সী ছোট ভাই কিয়েন। গ্যালারিতে তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি, গোল উদযাপন ও শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

কে এই কিয়েন?

কিয়েনের জন্ম ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। তিনি লামিনে ইয়ামালের সৎ ভাই। ইয়ামালের মা শেইলা এবানা ও বাবা মুনির নাসরাউই আলাদা হওয়ার পর শেইলা নতুন সম্পর্কে জড়ান। সেই সম্পর্কেই জন্ম হয় কিয়েনের। ফলে ইয়ামাল ও কিয়েন একই মায়ের সন্তান হলেও তাদের বাবা ভিন্ন।

প্রায় ১৫ বছরের বয়সের ব্যবধান থাকলেও দুই ভাইয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বিশ্বকাপ জয়ের পর মাঠে তাদের আবেগঘন উদযাপন এবং সামাজিক মাধ্যমে একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো সেই বন্ধনেরই প্রমাণ।

‘সে যেন আমার নিজের সন্তানের মতো’

বিশ্বকাপ চলাকালে এক সাক্ষাৎকারে ছোট ভাইকে নিয়ে ইয়ামাল বলেন, “সে আমার কাছে সবকিছু। অনেক সময় মনে হয়, সে যেন আমার নিজের ছেলের মতো।”

বিশ্বকাপের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা গেছে কিয়েনকে। স্পেন গোল করলেই তার উচ্ছ্বাস, হাত নেড়ে ‘ভামোস’ বলা এবং মিষ্টি অভিব্যক্তি ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। ফলে ম্যাচের পাশাপাশি আলোচনায় ছিল এই ছোট্ট সমর্থকও।

বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছেও পরিচিত মুখ

বিশ্বকাপে ভাইরাল হওয়ার আগেই বার্সেলোনার সমর্থকদের কাছে পরিচিত ছিল কিয়েন। ইউরো ২০২৪ জয় উদযাপন, লা লিগা শিরোপা উৎসব এবং ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা গেছে তাকে। লাল গালিচায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বল নিয়ে খেলার ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জনপ্রিয়

কিয়েনের নিজস্ব কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট না থাকলেও ইয়ামাল ও তার মা শেইলা এবানার পোস্টে নিয়মিত দেখা যায় তাকে। দুই ভাইয়ের নাচ, খেলা ও পারিবারিক মুহূর্তের ভিডিও টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে লাখো দর্শক দেখছেন।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের পর ইয়ামালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী প্রায় ৪ কোটি, আর টিকটকে ৩ কোটির বেশি

কেন এত জনপ্রিয় কিয়েন?

শুধু ইয়ামালের ভাই হওয়ার কারণেই নয়, কিয়েনের স্বতঃস্ফূর্ত হাসি, গোল উদযাপন, বড় ভাইকে উৎসাহ দেওয়া এবং শিশুসুলভ আচরণ ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করেছে। অনেক সমর্থক মজা করে তাকে ‘স্পেনের সবচেয়ে ছোট সুপারফ্যান’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

ভবিষ্যতে কি ফুটবলার হবেন?

মাত্র তিন বছর বয়সী কিয়েন ভবিষ্যতে ফুটবলার হবেন কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে ফুটবলঘন পরিবেশে বেড়ে ওঠায় তাকে নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ ইতোমধ্যেই তুঙ্গে। যদিও এ বিষয়ে পরিবার এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্ব ফুটবলে লামিনে ইয়ামাল যেমন নতুন প্রজন্মের প্রতীক হয়ে উঠেছেন, তেমনি তার ছোট ভাই কিয়েনও নিজের নিষ্পাপ হাসি ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি দিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত শিশু মুখে পরিণত হয়েছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *