Category: ফুটবল

  • এমএলএসে ইতিহাস, টানা দ্বিতীয়বার সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি

    এমএলএসে ইতিহাস, টানা দ্বিতীয়বার সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি

    মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) আবারও সেরা খেলোয়াড়ের (এমভিপি) পুরস্কার জিতে অনন্য ইতিহাস গড়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। টানা দ্বিতীয়বার এ সম্মান অর্জন করে এমএলএস ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুই মৌসুমে এমভিপি জয়ের রেকর্ড গড়লেন ইন্টার মায়ামির এ তারকা।

    ৩৮ বছর বয়সী মেসি চলতি মৌসুমে ইন্টার মায়ামিকে এমএলএস কাপ জেতাতে মুখ্য ভূমিকা রাখেন। লিগে সর্বোচ্চ ২৯ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্ট করে তিনি ছিলেন অসাধারণ ফর্মে। এক মৌসুমে ২৯ গোল করা এমএলএস ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

    পুরস্কার জয়ের পর মেসি বলেন, ‘এই পুরস্কার পেয়ে আমি সত্যিই খুশি। টানা দুই বছর জিতে এমএলএস-এর ইতিহাসে প্রথম হতে পেরে গর্বিত। তবে আমার সতীর্থদের সহযোগিতা ছাড়া কিছুই সম্ভব হতো না এই সম্মান তাদেরও।’

    এর আগে এমএলএস ইতিহাসে দুইবার এমভিপি জয়ের কীর্তি ছিল কেবল প্রেকির; ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেছিলেন।

    মেসি এর আগের মৌসুমেও ছিলেন উজ্জ্বল। ২০২৪ সালে ১৯ ম্যাচে ২০ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট করে জিতেছিলেন এমভিপি পুরস্কার। ২০২৩ সালে পিএসজি থেকে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়ে প্রথম মৌসুমেই দলকে লিগস কাপ এনে দেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়। পরের মৌসুমে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে সাপোর্টার্স শিল্ড জেতাতেও তাঁর ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক।

  • ট্রফি বিতর্কে স্কালোনির কাছে ক্ষমা চাইলেন ইনফান্তিনোর

    ট্রফি বিতর্কে স্কালোনির কাছে ক্ষমা চাইলেন ইনফান্তিনোর

    ওয়াশিংটনে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ড্র অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া বিব্রতকর ঘটনার পর আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। অনুষ্ঠানে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী স্কালোনিকে ট্রফি ধরার আগে গ্লাভস পরতে বলা হয়, যা নিয়ে আর্জেন্টাইন প্রতিনিধিদল বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানায়।

    ঘটনার পরদিন ইনফান্তিনো ব্যক্তিগতভাবে স্কালোনির কাছে ক্ষমা চান এবং তাকে আবার মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত দুঃখিত। ফিফার পক্ষ থেকে আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ট্রফি স্পর্শ করতে পারে।” এরপর স্কালোনি খালি হাতে ট্রফি তুলে নেন।

    ঘটনা নিয়ে স্কালোনি মজা করে বলেন, “সম্ভবত আমাকে কারো সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছিল, তাই গতকাল ট্রফি ধরতে দেয়নি।”

    ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্রয়ে আর্জেন্টিনা পড়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্দানের সঙ্গে। আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অভিযান। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্কালোনির অধীনেই ৩৬ বছর পর তৃতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হয়েছিল তারা।

  • ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা আলাদা গ্রুপে, তবু নকআউটেই হতে পারে মহারণ

    ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা আলাদা গ্রুপে, তবু নকআউটেই হতে পারে মহারণ

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ড্র শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু দুটি গ্রুপ—সি ও জে। সি গ্রুপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আর জে গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ভিন্ন গ্রুপে থাকলেও দুই মহাতারকার দল নকআউটে দ্রুতই একে–অপরের মুখোমুখি হতে পারে এ কারণে জমে উঠেছে ফুটবলবিশ্বের আলোচনাও।

    জে গ্রুপে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা জর্ডান। কাগজে–কলমে সহজ গ্রুপ মনে হলেও আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির সতর্ক দৃষ্টি, ‘বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই। আমরা সর্বোচ্চটা দেওয়ার লক্ষ্যেই নামব।’

    প্রতিটি গ্রুপ থেকে প্রথম দুই দল ও সেরা আট তৃতীয় স্থানধারী দল মিলিয়ে উঠবে শেষ ৩২–এ। গ্রুপ সেরা হলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হওয়া সম্ভাবনা স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, কেপ ভার্দের যে কেউ। অর্থাৎ নকআউটের প্রথম ধাপেই কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে লিওনেল মেসির দেশের জন্য।

    স্কালোনি আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে ‘উপেক্ষার সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করেন। আলজেরিয়ার কোচ পেটকোভিচ তাঁর পুরোনো কোচিং সঙ্গী হওয়ায় প্রতিপক্ষকে আরও ভালো চেনেন স্কালোনি।

    অন্যদিকে ব্রাজিল আছে সি গ্রুপে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ড্রকে কঠিন বলে উল্লেখ করে জানান, ‘মরক্কো খুব শক্তিশালী দল, স্কটল্যান্ডও শারীরিকভাবে শক্ত প্রতিপক্ষ। তবে ব্রাজিলের সামর্থ্যে আমি আত্মবিশ্বাসী।’

    ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ দিয়েই ১৩ জুন শুরু হবে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ মিশন। আনচেলত্তির লক্ষ্য পরিষ্কার ‘তিনটি গ্রুপ ম্যাচই আমাদের জিততে হবে।’

    দুই পরাশক্তির সরাসরি লড়াই এখনো গ্রুপে না হলেও, নকআউটের হিসাব বলছে অল্প ভুলেই হতে পারে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার আগাম মহারণ।

  • ৫২ ম্যাচে ১৪৫ গোল, নাইকির চুক্তিতে বিস্ময়বালক লা মাসিয়া আলোচনার কেন্দ্রে

    ৫২ ম্যাচে ১৪৫ গোল, নাইকির চুক্তিতে বিস্ময়বালক লা মাসিয়া আলোচনার কেন্দ্রে

    বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমি লা মাসিয়া থেকে একের পর এক তারকা উঠে এসেছে মেসি, ইনিয়েস্তা, জাভি থেকে শুরু করে বুসকেটস, ফ্যাব্রেগাস, গাভি কিংবা লামিনে ইয়ামাল পর্যন্ত। সেই ধারা ধরে এবার আলোচনায় এসেছে মাত্র ১২ বছর বয়সী ডেসটিনি কোসিসো এজিফোর। অসাধারণ গোলদক্ষতার সুবাদে ইতোমধ্যেই উঠতি প্রতিভাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই কিশোর, যার সঙ্গে সম্প্রতি বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নাইকি।

    নাইজেরিয়ান বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ ডেসটিনি বর্তমানে বার্সেলোনার অনূর্ধ্ব–১২ দলে খেলছে। প্রথম মৌসুমে তাকে বড়দের দলে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়, যেখানে ৯ ম্যাচে সে করেন ১৬ গোল। তবে রীতিমতো বিস্ময় জাগিয়েছে গত মৌসুমের পারফরম্যান্স সাতজনের দলে ৫২ ম্যাচে তার গোল ১৪৫টি! সেই অনবদ্য পারফরম্যান্সের পরেই আলোচনায় উঠে আসে তার নাম।

    ডেসটিনির ফুটবল পরিবার তার বাবা এজিকে পাসচ্যাল স্পেনের তৃতীয় বিভাগে খেলেছেন, আর তার তিন ছেলেই আজ লা মাসিয়ায়। বড় ভাই ডেভিড খেলছে স্প্যানিশ ফুটবলের পঞ্চম স্তরে কর্নেলায়, আর মেজ ভাই ডিভাইন বার্সার অনূর্ধ্ব–১৫ দলে। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে ছোট ভাই ডেসটিনি।

    জ্যামন কাপ ও কোপা ইসকা প্রতিযোগিতায়ও ডেসটিনি ঝলক দেখিয়েছে। কোপা ইসকা ২০২৩–২৪ মৌসুমে ২০ গোল করে বার্সাকে চ্যাম্পিয়ন করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সে। শক্তিশালী পা, গতি, দুই পায়ে দক্ষতা এবং হেডে গোল করার ক্ষমতায় তাকে বয়স-সীমার সেরাদের একজন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে চলতি মাসেই নাইকি ডেসটিনির সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করে। এ চুক্তির সঙ্গে জড়িত বিখ্যাত ফুটবল এজেন্ট পিনি জাহাভির প্রতিষ্ঠান গোল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছরের আগে কোনো ফুটবলারের সঙ্গে প্রতিনিধিত্বমূলক চুক্তি করা নিষিদ্ধ হলেও বাণিজ্যিক দিক থেকে পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া বৈধ—এ পথেই ডেসটিনির চুক্তি সম্পন্ন হয়।

    জাহাভি বলেন, “ছেলেটা সত্যিই বিশেষ। যদি ভুল না করি, গত মৌসুমে সে ৫২ ম্যাচে ১৪৫ গোল করেছে। এমন প্রতিভাদের জন্যই বড় ব্র্যান্ডগুলো আগেভাগে যোগাযোগ করে।”

    ডেসটিনির ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সময়ই বলে দেবে, তবে ১২ বছর বয়সেই এমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা তাকে নিঃসন্দেহে লা মাসিয়ার নতুন বিস্ময়বালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

  • এমবাপ্পের সাত মিনিটের হ্যাটট্রিকে রিয়ালের রোমাঞ্চকর ৪-৩ জয়

    এমবাপ্পের সাত মিনিটের হ্যাটট্রিকে রিয়ালের রোমাঞ্চকর ৪-৩ জয়

    চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত এক রাত কাটালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে হ্যাটট্রিক এবং মোট চার গোল করে অলিম্পিয়াকোসের মাঠ থেকে রিয়াল মাদ্রিদকে এনে দিলেন শ্বাসরুদ্ধকর ৪-৩ গোলের জয়। ম্যাচের শুরু, মাঝামাঝি ও শেষ—তিন পর্যায়েই নাটকীয়তার জন্ম দেয় দুই দল, কিন্তু মঞ্চের সেরা তারকা ছিলেন এমবাপ্পেই।

    অলিম্পিয়াকোসের ঝটকা শুরু

    অ্যাথেন্সে ম্যাচের ৮ মিনিটেই চিকিনিয়োর গোল রিয়ালকে চাপে ফেলে দেয়। দ্রুতগতির আক্রমণে পাওয়া এই গোলের পরেই গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস, তবে মাঠের চিত্র বেশিক্ষণ একই থাকেনি।

    সাত মিনিটে হ্যাটট্রিক: খেলার মোড় ঘোরান এমবাপ্পে

    ২২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের থ্রু-পাস পেয়ে সমতায় ফেরান এমবাপ্পে।
    মাত্র দুই মিনিট পর আর্দা গুলেরের ভাসানো ক্রসে দারুণ হেডে দ্বিতীয় গোল।
    ২৯তম মিনিটে কামাভিঙ্গার ডিফেন্স-ভেদী পাস পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ফরাসি সুপারস্টার।

    ম্যাচের এই সময়টায় রিয়ালের আক্রমণ এতটাই প্রবল ছিল যে অলিম্পিয়াকোসের ডিফেন্ডাররা যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি।

    বিরতির আগে দুর্ভাগ্য রিয়ালের

    হাফটাইমে যাওয়ার আগে ভিনিসিয়ুসের একটি গোল ভিএআরে বাতিল হয়। পরে চুয়োমেনির শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হারায় অতিথিরা।

    দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের লড়াই

    বিরতির পর ফের চাপে পড়ে রিয়াল।
    ৪৯তম মিনিটে মেহদি তারেমির গোল ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে অলিম্পিয়াকোসকে।

    চতুর্থবার এমবাপ্পের জ্বলে ওঠা

    ৬০তম মিনিটে বক্সের ভিড়ে সুযোগ বুঝে নিখুঁত শটে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন এমবাপ্পে। আবারও দুই গোলের লিড পেয়ে অপেক্ষাকৃত স্বস্তি ফিরে পায় রিয়াল।

    শেষ মুহূর্তে রোমাঞ্চ

    ৮৮তম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল স্ত্রেফেজার ক্রস থেকে আয়ুব এল-কাবির গোল করে উত্তেজনা ফেরান। শেষদিকে পেনাল্টির দাবিও তোলে অলিম্পিয়াকোস, তবে রেফারি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
    শেষ মুহূর্তের চাপ সামলেও তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।

    পয়েন্ট টেবিলে রিয়ালের অবস্থান

    এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট টেবিলে উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে।


  • টাইব্রেকারের রোমাঞ্চে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে পর্তুগাল

    টাইব্রেকারের রোমাঞ্চে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে পর্তুগাল

    ফিফা অনূর্ধ্ব–১৭ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দোহায় সোমবার রাতে দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ টাইব্রেকারে ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়েছে পর্তুগাল। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৬–৫ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে পর্তুগিজ যুবারা।

    ম্যাচের শুরু থেকেই দু’দল আক্রমণ–প্রতিআক্রমণে ছিল সমান তালে। প্রথমার্ধে পর্তুগালের ছয়টি ও ব্রাজিলের আটটি শটই গোলপোস্ট অক্ষত রাখে। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র সুযোগ ছিল, গোল ছিল না। অনূর্ধ্ব–১৭ বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময় না থাকায় ৯০ মিনিট শেষে খেলা সরাসরি গড়ায় টাইব্রেকারে।

    পেনাল্টির প্রথম পাঁচ শটে উভয় দলই গোল করে। এরপর আসে নাটকীয়তা। পর্তুগালের গোলরক্ষক রোমারিও কুনিয়া নিজের শট বাইরে পাঠান। কিন্তু মুহূর্তেই তিনি ফিরে আসেন নায়ক হয়ে ব্রাজিলের রুয়ান পাবলোর শটটি ঠেকিয়ে দেন। সাডেন ডেথে শেষ পর্যন্ত হাসি হাসে পর্তুগাল; তাদের শট সফল হলেও ব্রাজিলিয়ান অ্যাঞ্জেলোর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

    এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে অস্ট্রিয়া ২–০ গোলে ইতালিকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। আগামী ২৭ নভেম্বর শিরোপা লড়াইয়ে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। একই দিনে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ব্রাজিল খেলবে ইতালির বিপক্ষে।

  • ৪০ বছরেও অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিকে রোনালদোর ঝলক

    ৪০ বছরেও অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিকে রোনালদোর ঝলক

    বাইসাইকেল কিকে গোল ফুটবলে বিরল দৃশ্য। কিন্তু ৪০ বছর বয়সেও তা যেন নৈমিত্তিকই করে তুলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সৌদি প্রো লিগে আল খালেজের বিপক্ষে আবারও এক চমকপ্রদ বাইসাইকেল কিকে গোল করে ফুটবলপ্রেমীদের হতবাক করেছেন পর্তুগিজ তারকা।

    রবিবার রাতে আল নাসর–আল খালেজ ম্যাচের যোগ করা সময়, ৯৬তম মিনিটে আসে দারুণ গোলটি। ডান প্রান্ত থেকে নাওয়াফ বাওশালের বাড়ানো বল বাইসাইকেল কিকে জালে পাঠান রোনালদো। খালেজ গোলরক্ষক আন্থনি মারেজ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তা ঠেকাতে পারেননি।

    গোল উদযাপনে সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দে ভাসেন রোনালদো। ম্যাচ শেষে গোলের ভিডিওটি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। তবে ক্যাপশন লেখার কাজ ভক্তদের হাতেই ছেড়ে দিয়ে লেখেন, “বেস্ট ক্যাপশন উইনস।”

    তার ডাকে সাড়া দিয়ে ভক্তরা ঝাঁপিয়ে পড়েন মন্তব্যের ঘরে। একজন লিখেছেন, “যে বাইসাইকেল কিক নিন্দুকদের অদৃশ্য করে দিয়েছে।”
    আরেকজন লিখেছেন, “আকাশে ভাসানো বলটির গন্তব্য ছিল কেবলই জালের ভেতর।”
    আরও একজন লিখেছেন, “সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন, এখনো মুকুট তাঁর মাথাতেই মানায়।”

    এই গোলের রাতে সৌদি প্রো লিগে টানা নবম জয় তুলে নিয়েছে আল নাসর। ৯ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট এখন ২৭, দ্বিতীয় স্থানে থাকা আল হিলালের পয়েন্ট ২৩।

    রোনালদোর আল নাসর আগামীকাল রাতেই খেলবে এএফসি কাপে, প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তানের ক্লাব ইস্তিকলোল।

  • ম্যারাডোনা আমার সবকিছুর ঊর্ধ্বে: মেসি

    ম্যারাডোনা আমার সবকিছুর ঊর্ধ্বে: মেসি

    ক্যারিয়ারে লিওনেল মেসির অর্জনের তালিকা যেন শেষই নেই ,চ্যাম্পিয়নস লিগ, কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ—সবই জিতেছেন তিনি। তবু অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে মেসির কাছে সবচেয়ে বড় নাম একটাই—ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

    যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, “আমাদের আর্জেন্টাইনদের জন্য ডিয়েগো ম্যারাডোনাই সবচেয়ে বড় আইডল। তিনি যা করেছেন, তাতে তিনিই আমাদের সর্বোচ্চ অনুপ্রেরণা। যদিও আমি ছোটবেলায় তাঁকে খুব বেশি সরাসরি খেলতে দেখিনি, তবু ডিয়েগো সবকিছুর ঊর্ধ্বে।”

    ম্যারাডোনার পাশাপাশি মেসি নিজের নায়কদের তালিকায় এনবিএ কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডান, টেনিস তারকা রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল, নোভাক জোকোভিচ, এবং বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমস ও স্টিফেন কারির নামও উল্লেখ করেন।

    মেসির ভাষায়, “টেনিসে ফেদেরার, নাদাল ও জোকোভিচ খেলাটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা খেলাকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। বাস্কেটবলে লেব্রন ও কারিও নিজেদের মতো করে খেলাকে অনেক কিছু দিয়েছেন।”

    একই সাক্ষাৎকারে মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে খেলা এক অসাধারণ ব্যাপার। আমি সেখানে থাকতে চাই, আর যদি থাকি, তাহলে জাতীয় দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই।”

  • রোনালদোর ইতিহাস, ৯৫০ গোলের মাইলফলক

    রোনালদোর ইতিহাস, ৯৫০ গোলের মাইলফলক

    ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ারে ৯৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। শনিবার রাতে সৌদি প্রো লিগে আল-হাজমের বিপক্ষে গোল করে এই অর্জন ছুঁয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

    রোনালদোর দল আল নাসর ওই ম্যাচে প্রতিপক্ষের মাঠে ২-০ গোলে জিতেছে। ম্যাচের ২৫ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন রোনালদোর পর্তুগিজ সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্স, আর ৮৮ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন রোনালদো নিজে।

    ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্‌যাপনের ছবি শেয়ার করে রোনালদো লিখেছেন, “দলকে সাহায্য করতে পেরে এবং ৯৫০ গোল করতে পেরে আনন্দিত। সব সময় আরও বেশি কিছুর জন্য ক্ষুধার্ত।”

    রোনালদোর এই মাইলফলকের পর তাঁর হাজার গোল পূর্ণ করতে প্রয়োজন আর মাত্র ৫০ গোল।

    চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এই ৪০ বছর বয়সী তারকা। এখন পর্যন্ত তিনি ৮ ম্যাচে করেছেন ৭ গোল—এর মধ্যে ৬টি সৌদি লিগে এবং একটি সৌদি সুপার কাপে।

    অন্যদিকে ফেলিক্সও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে; প্রো লিগে ৬ ম্যাচে করেছেন ৯ গোল।

    সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৩৮ ম্যাচে রোনালদোর গোল ৩৪টি। এর মধ্যে ক্লাবের হয়ে ৩০ ম্যাচে ২৬ গোল এবং জাতীয় দলের হয়ে ৮ ম্যাচে ৮ গোল।

    ২০২৬ বিশ্বকাপ ও হাজার গোলের মাইলফলক সামনে রেখে রোনালদো পার করছেন ক্যারিয়ারের আরেকটি উজ্জ্বল বছর।

  • ৫ মিনিটে ইতিহাস গড়লেন ১৭ বছরের লেনার্ট কার্ল

    ৫ মিনিটে ইতিহাস গড়লেন ১৭ বছরের লেনার্ট কার্ল

    মাত্র ৫ মিনিটেই ইতিহাস গড়লেন ১৭ বছর বয়সী লেনার্ট কার্ল। চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের মূল একাদশে অভিষেক ম্যাচেই গোল করে রেকর্ডবুক নতুন করে লিখলেন এই তরুণ জার্মান মিডফিল্ডার।

    গতকাল রাতে ক্লাব ব্রুগের বিপক্ষে ম্যাচে বায়ার্নের ৪–০ গোলের জয়ে শুরুতেই দলকে এগিয়ে দেন কার্ল। খেলা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিটে দলের প্রথম গোলটি করে তিনি হয়ে গেলেন চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে গোলদাতা যার বয়স মাত্র ১৭ বছর ২৪২ দিন।

    এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জামাল মুসিয়ালার দখলে। চার বছর আগে লাৎসিওর বিপক্ষে গোল করার সময় মুসিয়ালার বয়স ছিল কার্লের চেয়ে ১২১ দিন বেশি। কাকতালীয়ভাবে, মুসিয়ালা তখন যেমন বায়ার্নের ৪২ নম্বর জার্সি পরেছিলেন, কার্লও এই ম্যাচে সেই একই নম্বর জার্সিতেই মাঠে নামেন।

    বায়ার্নের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আলেক্সান্দার পাভলোভিচ ম্যাচ শেষে বলেন,

    “কার্লের সবচেয়ে বড় গুণ তার সাহস। সে আজও সেটা দেখিয়েছে। অসাধারণ ছেলে এবং দুর্দান্ত খেলোয়াড়।”

    এই মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে এটি কার্লের ১১তম ম্যাচ, তবে প্রথম গোল। বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে এসে দ্রুত মূল দলে জায়গা করে নেওয়া এই তরুণ ফুটবলার ম্যাচে ৬৯ মিনিটে বদলি হওয়ার আগে তিনটি শট নেন, বল নিয়ন্ত্রণ করেন ৪৭ বার এবং তাঁর ৮৬ শতাংশ পাসই সফল।

    বায়ার্ন মিউনিখের সমর্থকদের আশা এই পারফরম্যান্সই হয়তো নতুন এক তারকার উত্থানের সূচনা।