শাহিন শাহ আফ্রিদি সিলেট ভেন্যু দেখে খুব রোমাঞ্চিত। হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে আসার পুরো সময়টা টিম বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখেছিলেন তিনি। দেখেছিলেন চা বাগানের চোখ জুড়ানো সবুজ।
লাক্কাতুরায় স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর অন্যরকম ‘ফিল’ পেলেন। ‘লোকাল বয়’ হিসেবে পরিচিত এবাদত হোসেনের কাছে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চাইলেন সিলেট সম্পর্কে। কারণ ফরচুন বরিশালের পাকিস্তানি এ ফাস্ট বোলার সিলেটে এসেছেন এই প্রথম। তাঁর মতো আরও অনেক বিদেশি ক্রিকেটারের কাছে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম অন্যরকম ভালোলাগা।
ফরচুন বরিশাল, রংপুর রাইডার্স, সিলেট স্ট্রাইকার্স; সব দলের ক্রিকেটারের কাছেই প্রাকৃতিক নৈস্বর্গের কারণে সিলেট পছন্দের। সুন্দর ভেন্যুতে খেলতে কার না ভালো লাগে। এই সুন্দরের রূপ খুলবে ঢাকার মতো সিলেটেও রানের উইকেট হলে। কারণ ক্রিকেটারদের পছন্দ ভালো উইকেটে খেলা। স্পোর্টিং উইকেট হলে তো কথাই নেই। কিউরেটর বদিউল আলম খোকন জানান, ঢাকার মতো সিলেটেও রান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
গত দুই মাসে মিরপুরের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা হয়েছে সিলেটে। দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ভেন্যু এখন এটি। জাতীয় লিগের ম্যাচ হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নারী দলের টি২০ সিরিজ হওয়ার পরই মাঠে গড়ায় এনসিএল টি২০ লিগ। টানা ম্যাচ আয়োজনে ক্লান্ত সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের পিচ। আউট ফিল্ডের ঘাসগুলো মাথা সোজা করার সময়ই পাচ্ছে না।
এমন ব্যস্ত একটি ভেন্যুর উইকেটের প্রস্তুতি কেমন হয়েছে— জানতে চাওয়া হলে কিউরেটর খোকন বলেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে এখানে কাজ করছি। এনসিএল টি২০তে ভালোই খেলা হয়েছে। বিপিএলের জন্য উইকেট প্রস্তুত করতে ১২ দিনের মতো সময় পাওয়া গেছে। যদিও উইকেট পরিচর্যা করার জন্য এই সময় যথেষ্ট নয়। এর পরও চেষ্টা করেছি রানের উইকেট বানাতে। আশা করি, সিলেটেও ঢাকার মতো রান হবে।’
ঢাকার চেয়ে সিলেটে শীতের তীব্রতা একটু কম। ঠান্ডা কম অনুভূত হলেও সন্ধ্যায় ভালোই শিশির থাকে। রাতের ম্যাচগুলোতে পরে বোলিং করা দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ম্যাচে ‘টস’ বড় ভূমিকা রাখবে। কন্ডিশন যেমনই হোক, কাল থেকে বিপিএলের সিলেট পর্বের খেলা শুরু। আগামী ৮ দিন বিপিএল টি২০ ক্রিকেটের উৎসবে মুখোর হবে সিলেট। ৬ দিনে ১২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এই ভেন্যুতে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি ম্যাচ খেলবে সিলেট স্ট্রাইকার্স। বিপিএলে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভেন্যু না থাকলেও ঢাকা, সিলেট ও চিটাগং অটো হোমে খেলার সুযোগ পায়। কারণ দেশের এই তিনটি স্টেডিয়ামে বিপিএলের ম্যাচ রাখে বিসিবি।
সিলেট পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচেই রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে সিলেট স্ট্রাইকার্স। আরেক বড় দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালের মুখোমুখি হবে পরদিন সন্ধ্যায়। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে খেলবে ১০ জানুয়ারি। খুলনা টাইগার্সের সঙ্গে ১২ আর চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ১৩ জানুয়ারি সিলেটের শেষ ম্যাচ খেলবে তারা।
এই ভেন্যুতে ঢাকা চারটি, বরিশাল তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। লিগের সাতটি দলই গতকাল সিলেটে পৌঁছে গেছে। সিলেট, বরিশাল ও রংপুর গতকাল অনুশীলনও করেছে। আউটারের বিশালতায় হাত খুলে ব্যাটিং অনুশীলন করেছে দলগুলো। বরিশালের দেশি-বিদেশি ক্রিকেটাররা ছিলেন বেশি আক্রমণাত্মক। কারণ পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে প্লে- অফে উন্নীত হওয়ার রেস শুরু হয়ে গেছে। যে দৌড়ে রংপুর টানা তিন ম্যাচ জিতে সবার আগে। অপরাজিত খুলনা ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে।