ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, মূল সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্তে এখনো তদন্ত চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার দাবি উঠলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তা যাচাই করা হচ্ছে।
ডিবি প্রধান বলেন, গত ৮ দিনে মামলার তদন্তে বেশ অগ্রগতি সাধন করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও মোটরসাইকেল ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ডজনখানেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মূল আসামি মাসুদের বাবা, মা, স্ত্রী, শ্যালক এবং এক বান্ধবীও রয়েছেন। এছাড়া সহযোগিতা ও মানব পাচারের অভিযোগে আরো ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকারীরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিল। তদন্তে জানা গেছে, মাসুদ হত্যার আগে তার স্ত্রী, বান্ধবী ও শ্যালকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন। হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের ভুল নিবন্ধন নম্বরের সূত্র ধরে এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছিল, তবে হত্যার সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র না থাকায় তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
শরিফ ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাদির জানাজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে। এরপর তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থা আশা করছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও তথ্য পাওয়া যাবে এবং মূল আসামিদের অবস্থান নির্ধারণ করে শীঘ্রই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিরাজ করছে।