গণভোট আয়োজনের জন্য ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। গতকাল প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বিশেষ বৈঠকে অনুমোদনের পর রাতে এটি গেজেটে প্রকাশ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবে জনগণের মতামত জানতে গণভোটের বিধান করা হয়েছে। প্রবাসীসহ চার ধরনের ভোটারের জন্য পোস্টাল ব্যালটের সুযোগ রাখা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার তালিকাই গণভোটে ব্যবহৃত হবে। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের সুবিধার জন্য গণভোটের ব্যালট আলাদা রঙে ছাপা হবে।
তিনি বলেন, গণভোটে একটি মাত্র প্রশ্ন থাকবে এবং ভোটার ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে মত জানাবেন। জাতীয় নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাই গণভোট পরিচালনা করবেন। কোনো কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটার তালিকা মুদ্রণ সম্পন্ন হবে। ব্যালট বাক্স, কালি, লোগোসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ জেলায় পাঠানো শুরু হয়েছে। গণভোটের ব্যালট রঙিন কাগজে করা হবে যাতে চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যায়। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজও শুরু হয়েছে।
আগামী শনিবার রাজধানীতে মক ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এতে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—দুটি ব্যালট ব্যবহারে কত সময় লাগে এবং কী ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে, তা যাচাই করবে ইসি।
প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত চারটি প্রস্তাবের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে এবার গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া গেলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হবে এবং নির্ধারিত সময়ে সংস্কার সম্পন্ন করা হবে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি প্রশ্নে চার প্রস্তাবের জনমত যাচাই করা কঠিন হতে পারে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আরও প্রচার প্রয়োজন।