এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে সিরিয়ায় শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সময় দেশটির সরকারি বাহিনী স্থানীয় একটি হাসপাতালে গণহত্যা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সুওয়েইদা শহরের ওই জাতীয় হাসপাতালটিতে গিয়ে সেখানকার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। তারা দাবি করেছেন যে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সদস্যরা ওই হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে বিছানায় শুয়ে থাকা রোগীদের গুলি করে হত্যা করেছে।
সতর্কতা: খবরটিতে সহিংসতার বর্ণনা রয়েছে।
হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পা রাখতেই একটা উৎকট দুর্গন্ধ এসে নাকে ধাক্কা দিলো।
সুওয়েইদার প্রধান ওই হাসপাতালের গাড়ি পার্কিংয়ে গিয়ে দেখা গেল প্লাস্টিকের সাদা ব্যাগে কয়েক ডজন পঁচা মরদেহ সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে।
কিছু মরদেহ ছিল খোলা অবস্থায়, যেগুলো পঁচন ধরে ফুলে উঠেছে।
রক্ত পড়ে পায়ের নিচের পিচঢালা মাটিও পিচ্ছিল হয়ে উঠেছে।
বাইরে প্রচণ্ড রোদে, বাতাসে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ।
“এটি গণহত্যা ছিল,” বিবিসিকে বলেন হাসপাতালের একজন চিকিৎসক ডা. ওয়াসেম মাসুদ।
“সৈন্যরা এখানে এসে বলেছিল, তারা শান্তি ফিরিয়ে আনতে চায়। কিন্তু পরে তারা শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত অনেক রোগীকে হত্যা করে,” বলেন ডা. মাসুদ।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে এই চিকিৎসক বিবিসিকে একটি ভিডিও পাঠিয়েছিলেন, যেটি ধারণ করা হয়েছিল সরকারি বাহিনীর অভিযানের ঠিক পরে। ওই ভিডিওতে একজন নারী হাসপাতালটির চারপাশে ঘুরে সেখানকার পরিস্থিতি দেখান।
হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর মেঝেতে চাদর দিয়ে ঢাকা কয়েক ডজন রোগীর মরদেহ পড়ে রয়েছে। চাদরগুলো রক্তে ভিজে গেছে।
এখানকার ডাক্তার, নার্স, স্বেচ্ছাসেবক- সবার কাছ থেকে একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে।
সূত্রঃ বিবিসি