জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার রায়টি প্রকাশ করা হয়।
এ মামলায় দণ্ডিত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল–১ শেখ হাসিনা ও কামালকে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। পাশাপাশি তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই মামলায় চৌধুরী মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আসামিদের আপিল করতে হবে।
মামলার অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল দুটি অভিযোগে ছয়টি ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করে রায় দেয়। অভিযোগ–১ এ ১৪ জুলাই গণভবনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে কথোপকথনে ফাঁসির হুমকি এবং রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনায় হাসিনা ও কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযোগ–২ এ ১৮ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর ড্রোন, হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশের অভিযোগ আনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট চানখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাকে ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনাল উভয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এ অভিযোগে সাবেক আইজিপি মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাসিনা–কামালের বাজেয়াপ্ত সম্পদ আগামী জুলাইয়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করতে।