খোদ জাতিসংঘ মহাসচিব রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে শরণার্থীদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ঘোষণা দেওয়ার পাঁচ মাস পরও এ আলোচনার কোনো অগ্রগতি হয়নি। এজন্য মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও ইতিবাচক কোনো সাড়া মেলেনি। উল্টো এই পাঁচ মাসে আরো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা নাগরিককে বলপূর্বক বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। আবার এ কাজের জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিকভাবেও চাপ প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি।
ফলে এই প্রক্রিয়া এখন ঝুলে আছে এখনও। অর্থবিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আগামী ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে একটি বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে। সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘ প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেবেন।
সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়া আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা, আন্তর্জাতিক শরণার্থী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ অধিবেশন আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (প্রত্যাবাসন) প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে গত মার্চের ১৪ তারিখ কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
সে সময় তিনি জানান, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। সেই সঙ্গে ক্যাম্পে আরো ভালো পরিবেশ চায় এই শরণার্থীরা। এ দুটি বার্তা তিনি বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থাগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দেন। সে সময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয় খুব দ্রুতই শুরু হবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।