ব্যবসায়িক অংশীদার করার প্রলোভন দেখিয়ে ২৭ লাখ টাকা নেওয়া ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। জামিন পাওয়ার পর সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশ করেন তিনি।
বিবৃতিতে মেহজাবীন বলেন, তাঁকে এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী ভাই আলিসান চৌধুরীকে জড়ানো মামলাটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। অভিযোগকারী ব্যক্তি গত নয় মাসে পুলিশের কাছে তাঁর সঠিক ফোন নম্বর, ঠিকানা কিংবা যাচাইকৃত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। একই সঙ্গে ২০১৬ সাল থেকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকার দাবি করলেও কোনো যোগাযোগের প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
অভিনেত্রী লিখেছেন, অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী ২৭ লাখ টাকা লেনদেনের কোনো প্রমাণ যেমন ব্যাংক লেনদেন, চেক, বিকাশ, লিখিত চুক্তি বা রসিদ কিছুই নেই। এমনকি তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রসহ পূর্ণ পরিচয়ও এখনও যাচাইযোগ্য নয়। মামলার খবর প্রকাশের পর অভিযোগকারী ও তাঁর আইনজীবী ফোন বন্ধ রেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মেহজাবীন বলেন, অভিযোগকারী দাবি করেছেন যে গত ১১ ফেব্রুয়ারি তাঁরা চোখ বেঁধে একজনকে হাতিরঝিলের একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এত সিসিটিভি পরিবেষ্টিত এলাকায় একটি ফুটেজও দেখাতে পারেননি। গত নয় মাসে তিনি কোনো পুলিশ, কোনো আদালতের নোটিশ কিংবা কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রও পাননি।
তাঁর বক্তব্য, “আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি জামিন নিয়েছি। প্রমাণ ছাড়া দায়ের করা মামলা কখনো সত্য হয়ে যায় না। সত্য খুব দ্রুতই আদালতে পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
বিবৃতির শেষে মেহজাবীন অনুরোধ করেন, কাউকে না জেনে যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা না হয়। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে আমার কাজ আর দর্শকদের জন্য যে পরিশ্রম করেছি, সেই পরিশ্রমের পরও আজ আমাকে এসব ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক।”