চলমান যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস মঙ্গলবার আরও দুজন ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করেছে। একই দিনে ইসরায়েলও ১৫ ফিলিস্তিনি বন্দীর মরদেহ গাজায় ফেরত দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানায়, গাজার আল-কাসেম ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ইসরায়েলি জিম্মিদের মরদেহ প্রথমে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়, পরে সেগুলো ইসরায়েলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহত দুই জিম্মি হলেন আরিয়ে জালমানোভিচ ও তামির আদার। জালমানোভিচ ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর গাজায় জিম্মিদশায় মারা যান এবং তামির আদার একই বছরের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন। পরে তাঁর মরদেহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় হামাস ১৫ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করেছে। আরও ১৩ জন জিম্মির মরদেহ ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে হামাসের অভিযোগ, গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতির কারণে মরদেহ উদ্ধারে বিলম্ব হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলে আটক অবস্থায় মৃত্যু হওয়া ১৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ মঙ্গলবার গাজায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলো পরিচয় শনাক্তের জন্য নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা ও ফরেনসিক সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে ইসরায়েলের ফেরত দেওয়া প্রায় ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কিছু মরদেহে শিকল বাঁধা অবস্থায় ছিল, যা ইঙ্গিত করে তাঁরা হয়তো হত্যার শিকার হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। চুক্তির আওতায় হামাস এক দিনে ২০ জীবিত বন্দী মুক্তি দেয়, আর ইসরায়েল এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি দিয়েছে। পাশাপাশি তারা আরও ৩৬০ মৃত ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
এদিকে হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল এখনো রাফা সীমান্ত খুলে না দিয়ে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করছে