প্রশ্নফাঁস, ডিভাইস ব্যবহার ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন একদল নিয়োগপ্রত্যাশী।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান ফটকের সামনে এই আন্দোলন শুরু হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘প্রশ্নফাঁস চলবে না’, ‘মেধাবীরা বঞ্চিত কেন, জবাব চাই’, ‘পরিশ্রমের মর্যাদা নেই’। এ সময় তারা পাঁচ দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ, সব পরীক্ষার কেন্দ্র ঢাকায় নির্ধারণ ও প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার স্থাপন, স্বতন্ত্র কমিটির অধীনে সব পরীক্ষা পরিচালনা এবং একই দিনে একাধিক পরীক্ষা না নেওয়া। পাশাপাশি, অতীতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব না দেওয়া এবং প্রশ্নফাঁস প্রমাণিত হলে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের দাবিও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি প্রার্থী অংশ নেন। তবে পরীক্ষার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা পর্যায়ে পাঠানো প্রশ্নপত্র থেকে একটি চক্র পরীক্ষার প্রশ্ন সংগ্রহ করে। পাশাপাশি ‘ডিভাইস পার্টি’ নামে একটি চক্র পরীক্ষার সময় অর্থের বিনিময়ে ডিভাইস সরবরাহ করে উত্তর দেওয়ার কাজ করেছে। গাইবান্ধা, নওগাঁ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে এ ধরনের ঘটনায় শতাধিক পরীক্ষার্থী আটক হন। কয়েকটি এলাকায় কক্ষ পরিদর্শক ও স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও ওঠে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার দুই ধাপে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে মোট ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি আবেদন জমা পড়ে। পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির চূড়ান্ত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।