ইনজুরি থেকে ফিরে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে মেসি উজ্জ্বল হলেও ইন্টার মিয়ামি নিমজ্জিত অন্ধকারে। জয় খুঁজে পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটি। গতকাল আরও একবার পয়েন্ট হারিয়েছে মেসি-সুয়ারেজরা। ৪০ মিনিটের মধ্যে দুই দফায় বল জালে পাঠিয়েও গোলের দেখা পায়নি মিয়ামি। উল্টো গোল হজম করে পিছিয়ে পরে তারা। মেসির গোলে সমতায় ফিরলেও ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মিয়ামিকে।
গতকাল ভোরে মেজর লিগ সকারের ম্যাচে টরন্টো এফসির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ইন্টার মিয়ামি। এই ড্রয়ে শীর্ষস্থান থেকে এক ধাপ নেমে গেছে মায়ামি, ম্যাচ যদিও একটি কম খেলেছে তারা। তবে এই ফলাফল তাদের জন্যই বেশি হতাশার। ৬ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে এখন দুই নম্বরে মেসিরা। ৭ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে কলম্বাস ক্রু। ৭ ম্যাচে কোনো জয় নেই টরন্টোর। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তলানি থেকে দুইয়ে আছে তারা।
ফলাফলের বাইরে অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মিয়ামির হাতেই। ম্যাচের ৬৭ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের পায়ে। গোলের জন্য ২৩টি শট নেয় মেসিরা, এর ৯টি ছিল লক্ষ্যে।
২৯তম মিনিটে প্রথমবার জাল খুঁজে পায় মিয়ামি। বক্সের বাইরে থেকে তেলাস্কোর সেগোভিয়ার মাপা গড়ানো শট আশ্রয় নেয় জালে। কিন্তু সুয়ারেস অফ সাইডে থাকায় গোল পায়নি মায়ামি।
মিনিট দশেক পর দারুণভাবে শরীর ঘুরিয়ে সঙ্গে থাকা ডিফেন্ডারকে ছিটকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন মেসি। কিন্তু ভিএআর পরীক্ষায় দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে ফাউল করেছিলেন মেসিই। ৪৪তম মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক অল্পের জন্য ওপর দিয়ে চলে যায়।
৪৫ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে টরন্টোকে এগিয়ে নেন বের্নারদেস্কি। ইনসিনিয়ের পাস বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মায়ামির দুই ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ দারুণভাবে কাটিয়ে আলতো টোকায় গোল করেন ইতালিয়ান উইঙ্গার। এবারের লিগে সাত ম্যাচে মাত্র দ্বিতীয়বার আগে গোল করতে পারল টরন্টো।
মিয়ামি ম্যাচে ফিরতে সময় নেননি খুব একটা। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে বক্সের ঠিক মাথায় সেগোভিয়ার পাস ডান পায়ে ঠেকিয়ে বাঁ পায়ের ভলিতে মেসি সমতায় ফেরান দলকে। বলের নাগাল পাননি টরন্টোর গোলকিপার।
লিগের চলতি মৌসুমে মেসির তৃতীয় গোল এটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গোল হলো ছয়টি। মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর তার মোট গোল হলো ৪০টি। গোলের রেকর্ড তিনি গড়েছেন আগেই। এখন শুধু নিজের অর্জনই সমৃদ্ধ করছেন আরও।
বাকি সময়ে চেষ্টা করেও আর গোল আদায় করতে পারেনি কোনো দলই।
এ ম্যাচ দিয়ে অনেক দিন পর প্রথম পছন্দের পুরো দলকে একসঙ্গে শুরুর একাদশে নামাতে পেরেছিলেন কোচ হ্যাভিয়ের মাসচেরানো। গোলকিপার ড্রেক ক্যালেন্ডার ফেরেন চোট কাটিয়ে। সঙ্গে মেসি, জর্দি আলবা, সের্হিও বুসকেতস, লুইস সুয়ারেসরা সবাই ছিলেন। ঘরের মাঠে এমন দল নিয়েও তারা জিততে পারেনি পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা টরেন্টার সঙ্গে।