নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার যাতায়াত নিয়ে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি নেই বললেই চলে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মেলা প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্ন পরিবেশে স্বস্তি প্রকাশ করছেন দর্শনার্থীরা। তবে পণ্যের দাম ও মান নিয়ে আগের মতোই কিছু অভিযোগ রয়েছে।
৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় রাজধানী থেকে ৩০০ ফিট সড়ক হয়ে পশ্চিমাঞ্চলের দর্শনার্থীদের যাতায়াতে বিআরটিসি বাসসহ বিশেষ পরিবহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে গাজীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীরা ঢাকা বাইপাস ব্যবহার করে সহজেই মেলায় পৌঁছাতে পারছেন। ফলে আগের বছরের তুলনায় যানজট ও সময়ক্ষেপণ অনেকটাই কমেছে।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, দেশি-বিদেশি অসংখ্য স্টল ও প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীদের ভিড়। নানান ধরনের ভোগ্যপণ্য, পোশাক, প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্যের স্টলে ঘুরে দেখছেন আগতরা। তবে অনেক দর্শনার্থী পণ্যের দাম ও মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রূপগঞ্জের নলপাথর এলাকা থেকে আসা গৃহিণী মিরা জাহান আক্তার বলেন, মেলায় কিছু পণ্য নিউমার্কেট ও গুলিস্তানের মতো মনে হয়েছে, আবার প্রসাধনী সামগ্রী চকবাজারের সঙ্গে মিল রয়েছে। ব্যানারে ইরানি বা তুর্কি পণ্যের কথা লেখা থাকলেও ভেতরে দেশীয় পণ্য পাওয়া যাচ্ছে এতে ভোক্তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে রাজধানীর নয়াবাজার এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থী তরিকুল ইসলাম জানান, প্রায় প্রতি বছরই মেলায় আসেন তিনি। এবার যানজটহীন পরিবেশ ও পরিপাটি স্টল ব্যবস্থাপনা তাকে সন্তুষ্ট করেছে। পরিবার নিয়ে নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পেরে ভালো লাগছে বলেও জানান তিনি।
মেলায় কারাবন্দীদের হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে। পাশাপাশি আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ হওয়ায় খাবারের স্টলগুলোতে, বিশেষ করে আইসক্রিমের দোকানে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
গোয়ালপাড়া এলাকা থেকে আসা গৃহিণী ডলি আক্তার বলেন, স্থায়ী প্যাভিলিয়নের নান্দনিক স্থাপনা মেলার অন্যতম আকর্ষণ। একই ছাদের নিচে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের পণ্য পাওয়া যায়, যা ক্রেতাদের জন্য সুবিধাজনক। তিনি জানান, এবছর প্যাভিলিয়নগুলো সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে এবং পুরো মেলা এলাকা ঝামেলামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন মনে হয়েছে।
সার্বিকভাবে যাতায়াত সুবিধা ও পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি থাকলেও পণ্যের দাম ও মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও তদারকির দাবি জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা।