সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজির ব্যাপক অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের নানা অনিয়মের অভিযোগে তিন শতাধিক সদস্যকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেও নজরদারি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা যায়, সড়কে চলাচলকারী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। নওগাঁ থেকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে বেগুন পরিবহনকারী এক ট্রাকচালক জানান, পথে মোট ২ হাজার ৭৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিকসহ বিভিন্ন মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে এসব চাঁদা নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন ফেডারেশনের খুলনা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, মেহেরপুর থেকে ঢাকায় তিন টনের একটি ট্রাক পাঠাতে ন্যূনতম তিন হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, যা পণ্যের দামে প্রভাব ফেলে।
কারওয়ান বাজারে একাধিক ট্রাকচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য আনার পথে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক নেতা এতে জড়িত।
৩ জুলাই সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, গাজীপুর, চট্টগ্রামের পটিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। গত ১৪ মাসে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর হাইওয়ে পুলিশকে ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বডিওর্ন ক্যামেরা সার্বক্ষণিক চালু রাখা, দিনের বেলা অযথা চেকপোস্ট না বসানো, রাস্তার পাশে নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে নথি পরীক্ষা করা, কাগজপত্র ভ্যান বা পিকআপে নিয়ে না বসা এবং মনিটরিং জোরদার করা।
সিদ্ধান্ত হয়েছে, চাঁদাবাজিকে হাতেনাতে ধরতে পারলেই ‘ডিটেনশন’ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হবে। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হবে এবং আদালত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রায় দেবেন।
বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের ৭৩টি থানা কার্যক্রম চালু রয়েছে। নতুন ৬৮টি থানা খোলার প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আছে। প্রায় তিন হাজার সদস্য নিয়ে হাইওয়ে পুলিশ সারা দেশে দায়িত্ব পালন করছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ৯৯৯–এ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক আসামিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।