যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার প্রধান তেল কোম্পানি রোসনেফট ও লুকঅয়েলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃহস্পতিবার প্রায় ২.৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৬৪.১৫ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৬০.০৩ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ বলেছে, নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য স্পষ্টভাবে ক্রেমলিনের যুদ্ধের অর্থের জোগান বন্ধ করা। যুক্তরাষ্ট্র মস্কোকে অবিলম্বে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা সরবরাহ সংকীর্ণ করবে এবং ক্রেতাদের অন্য বাজারের দিকে ঘুরতে বাধ্য করবে। যদি ভারত রাশিয়ার তেল কম কিনে, তবে এশিয়ার অন্য দেশগুলো মার্কিন তেলের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা আটলান্টিকের বাজারে দাম বৃদ্ধি করবে।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনকারী কোম্পানিগুলো নিশ্চিত করতে চায় যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরে রোসনেফট ও লুকঅয়েল থেকে সরাসরি কোনো তেল সরবরাহ না আসে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো তাত্ক্ষণিক বাজারে প্রভাব ফেললেও স্থায়ী সরবরাহ কাঠামোয় তা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে না। কারণ ভারত ও চীন এখনও রাশিয়ান তেল কিনছে।
একই সঙ্গে, ওপেকপ্লাস জোটের উৎপাদন শিথিলকরণ, চীনের তেল মজুত বৃদ্ধি এবং ইউক্রেন-এ যুদ্ধের অবস্থা বিশ্ববাজারে তেলের ভবিষ্যত দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।