ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চলছে মারাত্মক চিকিৎসক সংকট। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, আর দায়িত্বপ্রাপ্ত দুজন মেডিক্যাল অফিসারও নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না। ফলে জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে বহির্বিভাগ সবখানেই রোগীদের ভরসা হয়ে উঠেছেন ওয়ার্ডবয়রা।
৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুপস্থিতির সুযোগে ওয়ার্ডবয়রা স্যালাইন দেওয়া, ইনজেকশন প্রয়োগ, এমনকি রোগীর অবস্থার ভিত্তিতে ব্যবস্থাপত্রও লিখে দিচ্ছেন। গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীর ভিড় থাকলেও জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই। সেখানে ওয়ার্ডবয়রাই নানা ধরনের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীকে ওয়ার্ডবয় রাজু হোসেন ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন এমন দৃশ্যও দেখা যায়।
ওয়ার্ডবয় রাজু হোসেন বলেন, “রোগী তো আর ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। ডাক্তাররা নিয়মিত থাকেন না। তাই বাধ্য হয়ে রোগীদের জরুরি চিকিৎসা দিচ্ছি। যদিও এটা আমাদের কাজ নয়, তবুও রোগীর স্বার্থে করতে হয়।”
চিকিৎসকের অভাবে ভুল চিকিৎসায় অনেকে ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছেন। গত মাসে এক প্রসূতি নারী মাথা ঘোরা ও রক্তচাপ কমে যাওয়ায় হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় ওয়ার্ডবয় স্যালাইন-ইনজেকশন দেন। এতে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে যশোর হাসপাতালে নিতে হয়। স্বজনদের অভিযোগ ঠিকমতো চিকিৎসক পেলে এমন পরিস্থিতি হতো না।
সারুটিয়ার বাসিন্দা গোলাম রব্বানী জানান, “ছেলের পেটে ব্যথা ছিল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তারই নেই। ওয়ার্ডবয় ইনজেকশন দেয়। পরে সেই জায়গায় ইনফেকশন হয়। শেষ পর্যন্ত খুলনা মেডিক্যালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।”
চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী বিএমডিসি স্বীকৃত ডিগ্রি ছাড়া কেউ রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিতে পারেন না জানিয়ে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লিমন পারভেজ বলেন, “এভাবে ওয়ার্ডবয়দের হাতে চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমার কাছে অনেক রোগী এসেছেন ভুল চিকিৎসার ক্ষতি নিয়ে।”
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি না হলেও ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, “দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসকের অভাব ও পর্যাপ্ত নজরদারির ঘাটতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। ঘটনাটি অত্যন্ত বিব্রতকর। দ্রুত তদন্ত করে ওয়ার্ডবয়সহ দায়ী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”