স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বাংলাদেশ বহু চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করলেও দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
গতকাল মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ ড. সামসুজ্জোহা পার্কে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ইচ্ছার বাইরে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলেই স্বৈরাচার ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর দেশে রাতের ভোট ও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। আসন্ন গণভোট সেই ত্রুটিগুলো সংশোধনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের সরাসরি ভোটে ক্ষমতায় আসুক। সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করুক এবং প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক হোক।”
গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই ভোটের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে, রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশে সুশাসনের ভিত্তি আরও মজবুত হবে। তিনি ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অতিকেন্দ্রীকরণ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিচার বিভাগ, সংসদ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য, যা কেবল জনগণের সম্মতির মাধ্যমেই টেকসই হতে পারে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে আসন্ন গণভোট ও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
সুত্রঃ বাসস